মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

রিপন আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তেল সংকটে রোদে পুড়ছে চালকবিহীন মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫৯ পিএম | 34 বার পড়া হয়েছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে তেল সংকটে রোদে পুড়ছে চালকবিহীন মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার মল্লিকপুর বাজারে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে চালকবিহীন দীর্ঘ মোটরসাইকেলের লাইন। পড়ছে তীব্র গরম আর রোদ। বাইকাররা রাস্তায় গাড়ি রেখে কেউ দোকানে, কেউ গাছের ছায়ায় বসে সময় কাটাচ্ছেন। কখন তেল পাবেন তাও জানেন না তারা। সীমাহীন কষ্ট ভোগ করছে তারা। প্রশাসনিকভাবে কোন তদারকি না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে সীমাহীন। অনেকে সকাল ৬টার সময় এসে অপেক্ষা করছেন ৪০০ টাকা তেলের জন্য। কবে কাটবে সংকট, কবে আসবে সুখবর। তা জানা নেই কারোর।

স্থানীয়রা জানান, মোটরসাইকেলের এতো বড় লাইন মল্লিকপুরে দেখা যায়নি। যেমন গরম তেমন রোদও পড়ছে। রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রেখে চালকরা বিভিন্ন দোকান, ছাউনি বা গাছের নীচে বসে আছে। কখন তেল পাবেন তাও জানেন না তারা। পাম্পে ৪০০ টাকার তেল দিচ্ছে।তবে প্রশাসনের কোন নজরদারি না থাকায় মাঝে মাঝে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে চালকদের মধ্যে। দেখা হচ্ছে না ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও গাড়ির কাগজপত্র।

তেল নিতে আসা মটরসাইকেল চালকরা বলেন, এতো ভোগান্তি কখনো দেখিনি। সঠিক তদারকি না থাকার কারণে মাঝে মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। মোটরসাইকেলের যত বড় লাইন এত বড় লাইন আমরা কখনো দেখিনি। তবে গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও প্রয়োজনে কাগজপত্র যদি দেখে তেল দেয়া হতো তাহলে পরিবেশ ভালো থাকতো। কিন্তু আদৌ কোন কিছু দেখা হচ্ছে না বা প্রশাসনিক ভাবেও কোন তদারকি নেই।

তেল নিতে আসা হাফিজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ লাইন হবে বলে রাত চারটার সময় চলে এসেছি। তারপরও দেখি আমার আগে অনেকেই চলে এসেছে। ৬ থেকে ৭ ঘন্টা অপেক্ষার পর ২০০ টাকা তেল পেয়েছি। রোদ গরমে দাঁড়িয়ে থাকা খুবই কষ্টকর। তাই কষ্টকে আলিঙ্গন করে তেলের জন্য অপেক্ষা করছে মোটরসাইকেল চালকরা।

পাম্পে তেল নিতে আসা ফারুক হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে রোদ গরমের মধ্যে।অথচ স্বজন প্রীতি থাকায় অনেকে লাইন বাদেই তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে। যদি ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থেকে তেল দিত তাহলে এগুলো হতো না। কারণ ম্যাজিস্ট্রেট থাকলে ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাদের আছে তাদেরই তেল দেয়ার অনুমতি দিত।প্রশাসনিকভাবে কোন তদারকি না থাকার কারণে নিয়ম-নীতি মানছে না কেউ

তবে সকাল বেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত না থাকলেও দুপুর বেলা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট এসে তেল দেওয়া শুরু করেন, এবং কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে তেল দেন যাদের বৈধ কাগজপত্র নাই তাদের তেল নেওয়া শেষে মামলা দেন ম্যাজিস্ট্রেট।

তেল পাম্পে প্রচোন্ড ভিড় থাকার কারণে পাম্প মালিকের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এম. এস. আই শরীফ, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)

ভোলাহাটে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

এম. এস. আই শরীফ, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩২ পিএম
ভোলাহাটে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক ও অন্যান্য সভা অনুষ্ঠিত। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহিন মাহমুদ। সভায় অন্যান্যদের উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কমিশনার (ভূমি) সানাউল মোর্শেদ, থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ একরামুল হোসাইন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সুলতান আলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোছাঃ নাইমা তাবাসসুম শাহ, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আহরাম আলী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ, বিআরডিবি কর্মকর্তা মোঃ সবুজ আলী, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ব্যবস্থাপক মোঃ মতিউর রহমান, জেকে পোলাডাঙ্গা নায়েক সুবেদার মোঃ আব্দুল হালিম, চাঁনশিকারী বিজিবি কোম্পানী কমান্ডার মোঃ ইদ্রিস আলী ও আনসার ভিডিপি অফিসার মোসাম্মদ নাদিরা খাতুনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।

এছাড়াও সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ-আলহাজ্ব মোঃ পিয়ার জাহান, মোঃ ইয়াসিন আলী শাহ্, আলহাজ্ব মোঃ মোজাম্মেল হক চুটু, মোঃ আফাজ উদ্দিন পানু মিঞাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বর্তমান জ্বালানি তেলের সংকট, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপস্থিত কর্মকর্তারা সংকট মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতি তার বক্তব্যে সকল দপ্তরকে সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

ঈদের ১০ দিন পর মিলল বরাদ্দের চাল

মোঃ আজগার আলী, খুলনা ব্যুরো প্রধান প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
ঈদের ১০ দিন পর মিলল বরাদ্দের চাল

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে ভিজিএফের সাত বস্তা চাল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর পার হওয়ার প্রায় ১০ দিন পর সোমবার দুপুরে চেউটিয়া এলাকায় অবস্থিত তাঁর অস্থায়ী কার্যালয় থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা এসব চাল উদ্ধার করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত এই চাল যথাসময়ে বিতরণ না করে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে গোপনে মজুত করে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম নেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খাজরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিন এবং ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুর রশিদ বলেন, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ চাল সাধারণ জনগণের মাঝে বিতরণ না করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজের কার্যালয়ে লুকিয়ে রেখেছিলেন, যা অনৈতিক ও দুঃখজনক।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু দাবি করেন, বিতরণের সময় কিছু জটিলতার কারণে ২১ জন উপকারভোগীর জন্য বরাদ্দকৃত সাত বস্তা চাল সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অবগত ছিলেন।
তবে এ বিষয়ে তৎকালীন ইউএনও সাইদুজ্জামান হিমু তাঁর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, চাল সংরক্ষণ বা সরিয়ে রাখার বিষয়ে তিনি কোনো ধরনের অবগত ছিলেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিজিএফ (Vulnerable Group Feeding) কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর ঈদের আগে দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ঈদের আগেই এই বিতরণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১০ দিন পরও চাল চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
এ ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আশাশুনি উপজেলায় বিপুল পরিমাণ পেট্রোল জব্দ

মোঃ আজগার আলী, খুলনা ব্যুরো প্রধান প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৭:২১ পিএম
আশাশুনি উপজেলায় বিপুল পরিমাণ পেট্রোল জব্দ

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় অবৈধভাবে মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা বিপুল পরিমাণ পেট্রোল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের নাকতাড়া কালিবাড়ি বাজারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুল ইসলাম ও মোঃ তাওহিদুল হাসান। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে পেট্রোল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এরই প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী মারুফা খাতুনের দোকানের পেছনে কৌশলে লুকিয়ে রাখা চারটি ড্রামের মধ্যে আনুমানিক ৮০০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়। মারুফা খাতুন বকচর গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুর রহমানের স্ত্রী।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, জব্দকৃত পেট্রোল পরবর্তীতে উপস্থিত মোটরসাইকেল চালকদের মাঝে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা হয়। প্রতি পাঁচ লিটার পেট্রোল ৬০০ টাকা দরে বিতরণ করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি পেতে পারেন। বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অবৈধভাবে পেট্রোল মজুদ ও বিক্রির অপরাধে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী মারুফা খাতুনকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি অনেকাংশে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্য দামে জ্বালানি কিনতে পারবে।

error: Content is protected !!