সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে ভিজিএফের সাত বস্তা চাল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর পার হওয়ার প্রায় ১০ দিন পর সোমবার দুপুরে চেউটিয়া এলাকায় অবস্থিত তাঁর অস্থায়ী কার্যালয় থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা এসব চাল উদ্ধার করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত এই চাল যথাসময়ে বিতরণ না করে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে গোপনে মজুত করে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম নেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খাজরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিন এবং ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুর রশিদ বলেন, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ চাল সাধারণ জনগণের মাঝে বিতরণ না করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজের কার্যালয়ে লুকিয়ে রেখেছিলেন, যা অনৈতিক ও দুঃখজনক।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু দাবি করেন, বিতরণের সময় কিছু জটিলতার কারণে ২১ জন উপকারভোগীর জন্য বরাদ্দকৃত সাত বস্তা চাল সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অবগত ছিলেন।
তবে এ বিষয়ে তৎকালীন ইউএনও সাইদুজ্জামান হিমু তাঁর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, চাল সংরক্ষণ বা সরিয়ে রাখার বিষয়ে তিনি কোনো ধরনের অবগত ছিলেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিজিএফ (Vulnerable Group Feeding) কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর ঈদের আগে দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ঈদের আগেই এই বিতরণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১০ দিন পরও চাল চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
এ ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মোঃ আজগার আলী, খুলনা ব্যুরো প্রধান