মোঃ জুয়েল রানা মাগুরা
মাগুরা শ্রীপুরে দু-গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১২
মাগুরার শ্রীপুরে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু-গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় দু-গ্রুপের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। এ সময় স্টাইলস্মিথ স্যান এ্যাপারলেস গার্মেন্টসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গার্মেন্টসে হামলা ও ভাঙচুরের ব্যাপারে বৃহস্পতিবার রাতেই শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি দোকানঘরে ব্যাপক ভাঙচুর-লুটপাট এবং বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ও ঘটেছে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে উপজেলার আমতৈল গ্রামের দু-গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। যার এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন সাবেক জেলা বিএনপির সদস্য ও স্টাইলস্মিথ স্যান এ্যাপারলেসের মালিক পক্ষ জাহিদুল ইসলাম এবং অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় বিএনপি নেতা লিপটন মিয়া। তাদের এ দ্বন্দ্বের জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে লিপটন মিয়ার সমর্থকেরা স্টাইলস্মিথ স্যান এ্যাপারলেস গার্মেন্টসে হামলা চালায়। পরে দু-গ্রুপের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে সোহান (২৭), মোহন মল্লিক (৩২), সাইফুল(৪৫), আইয়ুব (৫০), শাখাওয়াত (৪৮), শহিদুল (৪০), মানিক (২০), হামীম (২২), শাওন (২৫), ফজলু (৪০), রোকেয়া বেগম (৩৫) সহ উভয় গ্রুপের ১২ জন মারাত্মক আহত হয়। এ সময় কয়েকটি দোকানঘর ভাঙচুর-লুটপাট এবং বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ও ঘটে।
গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সামাজিক দ্বন্ধে একটি গার্মেন্টস শিল্প সম্পূর্ণ হুমকির মুখে পড়েছে। গ্রামে কোন মারামারির ঘটনা ঘটলেই গার্মেন্টসে হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন। এর আগেও বেশ কয়েকবার গার্মেন্টসে হামলা ও ভাঙচুর ঘটনা ঘটেছে। গার্মেন্টসে ঈদের ছুটি চলছিল। এবার ও প্রতিপক্ষের লোকজন গার্মেন্টসের প্রধান ফটক ভাঙচুর, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে গার্মেন্টসের কাঁচের গ্লাস ভাঙচুর, বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন ভাঙচুর ও জেনারেটর ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা গার্মেন্টস বন্ধের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। কিন্তু এই গার্মেন্টস বন্ধ হলে গার্মেন্টসে কাজ করা এলাকার অন্তত ৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে।
দোকান মালিক আতিয়ার রহমান জানান, আমি এখানকার একজন ব্যবসায়ী। আমি সামাজিক কোন দল করি না। গার্মেন্টসের সামনে দোকান হওয়ায় গার্মেন্টস বন্ধ ছিল তাই আমার দোকান ও বন্ধ ছিল। আমাকে এক ভাই ফোন দিয়ে জানাই আমার দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। পরে এসে দেখি দোকানের সাটার ভেঙে দোকানের বিভিন্ন মালপত্র ব্যাপক ভাঙচুর ও অনেক জিনিসপত্র লুটপাট হয়েছে। আমি সঠিক বিচার চাই।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. শাহিন মিয়া জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এবং সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।














