প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

আলোচনার নামে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করে

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সমালোচনা, আলোচনা বা গবেষণার নামে এমন কিছু করা বা বলা উচিত নয়, যা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসকে খাটো করে।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভার আয়োজন করে বিএনপি।

সভায় বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের স্বাদ এবং সাধ্যের মধ্যে ফারাক থাকলেও আমি এই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে সকলে একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করি, তাহলে অবশ্যই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।’

দলের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার দলের সহকর্মীদের, প্রত্যেক গণতান্ত্রিক মানুষের কাছে আমি একটি কথা তুলে ধরতে চাই—আসুন, এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক—সমাজের একটি অংশ নয়, বরং আমরা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে এই দেশে ভালো থাকব। আসুন, আমরা প্রত্যেকে একসঙ্গে সহ-অবস্থানের মাধ্যমে খারাপকে দূরে ঠেলে দিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করব—এই হোক আমাদের আজকের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার, প্রত্যাশা, প্রতিজ্ঞা।’

সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আপনাদেরই সরকার, বর্তমানের গণতান্ত্রিক সরকার এ দেশের মানুষের নির্বাচিত সরকার, বর্তমানের গণতান্ত্রিক সরকার এ দেশের মানুষের প্রতিষ্ঠিত সরকার। সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। জনগণের জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করছি। প্রতিনিয়ত তার জন্য আপনাদের এই সরকার অক্লান্ত পরিশ্রম করছে, চেষ্টা করে যাচ্ছে।’

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘তৎকালীন বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনী ছিল, তাদের বিরুদ্ধে আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলাম—এই বাংলাদেশের মানুষ। সুতরাং, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের যে গৌরবগাথা, তা নিয়ে আলোচনা হবে, গবেষণা চলবে এবং এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে আলোচনা-সমালোচনা কিংবা গবেষণার নামে এমন কিছু করা বা বলা অবশ্যই আমাদের জন্য ঠিক হবে না—যেটি আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের যে গৌরব, ইতিহাস, তাকে কোনোভাবে খাটো করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কথাটি আমি আপনাদের সামনে বলেছিলাম, সেটি হলো—অতীত নিয়ে সব সময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ। আর অতীতকে যদি আমরা ভুলে যাই, তাহলে আমাদের দুই চোখ অন্ধ। সুতরাং, আমরা যেমন অতীতকে একদম ভুলে যাব না, ভুলে যাওয়া চলবে না; ঠিক একইভাবে অতীতেও আমরা দেখেছি। খুব বেশি দিন না, নিকট অতীতেও আমরা দেখেছি যে—অতীত নিয়ে এত বেশি চর্চা হয়েছে, যেটা আমাদের সামনে যে সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ আছে, সেই ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত করেছে।’

এ সময় স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং এর প্রেক্ষাপট নিয়ে আপনাদের বক্তব্যে অনেক অজানা তথ্য উঠে এসেছে, যা এই মঞ্চে সহ অথবা সামনে যাঁরা বসে আছেন, বাইরেও বহু মানুষ আজকের এই আলোচনা শুনছেন, অনেকেরই হয়তো অনেক কিছু জানা ছিল না। কিন্তু আলোচকবৃন্দের বক্তব্যে আজকে এই রকম অনেকগুলো বিষয় উঠে এসেছে। আজকে বাইরে এখানে আসার সময় আমি দেখেছি, তরুণ প্রজন্মের অনেক সদস্য ভেতরে আসতে পারেনি জায়গা সংকুলানের কারণে, তাঁরা ভিড় করেছেন। সেই তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টি আকর্ষণ করে খুব সংক্ষেপে আমি বলতে চাই—বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অনিবার্য চরিত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বছরের পর বছর, এমনকি যুগের পর যুগ ধরেও বিশ্বের যেখানে যাঁরা স্বাধীনতার লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন, একমাত্র তাঁদের পক্ষেই উপলব্ধি করা সম্ভব—স্বাধীনতার মূল্য কতখানি। আমরা যদি একটু পাশে তাকাই, তাহলেই দেখতে পারব—স্বাধীনতার গুরুত্ব এবং তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারছে স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনের মানুষ। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে আমরা ২০২৪ সালে দেশ এবং স্বাধীনতা রক্ষা করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির ভেতরে থেকেও, বিভিন্ন অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেও আপনারা কীভাবে প্রতিরোধ গড়েছিলেন, কীভাবে আপনারা স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিলেন…. আমরা আমাদের বহু সহকর্মীকে সেদিন হারিয়েছি; প্রতিটি প্রাণের স্বপ্ন আছে, আকাঙ্ক্ষা আছে… স্বপ্ন ছিল, আকাঙ্ক্ষাও ছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণেই তাঁরা সাহসের সঙ্গে সেদিন লড়াই করেছিলেন—৭১, ৯০, ২৪-এ। ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের সকল শহীদের আকাঙ্ক্ষা ছিল—সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক তাঁবেদারমুক্ত একটি স্বাধীন-সার্বভৌম, নিরাপদ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

আলোচনা সভার শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ স্বাধীনতাযুদ্ধে বীর শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন