এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রামে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ ময়দানে
মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে এ বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হতে পারে ২০ মার্চ শুক্রবার। আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, এ বছর আরব বিশ্বে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হতে পারে এবং শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হবে ২০ মার্চ। সে হিসাবে বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে ২১ মার্চ শনিবার।
এদিকে ঈদুল ফিতরের কেন্দ্রীয় জামাত উপলক্ষে চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ ময়দান সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ১৭ মার্চ
বুধবার জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে গত সাত দিন ধরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারেন।
তিনি জানান, প্রায় ৬৫ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে কার্পেট বিছানো হয়েছে এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখে ওপরে টারপলিন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৫০টি পাখা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, ৫০টি মাইক এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মেয়র বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মুসল্লির সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত মুসল্লির কথা বিবেচনায় রেখে দুটি জামাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।
মুসল্লিদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে তিনটি প্রধান গেট খোলা রাখা হবে এবং পেছনের গেটটিও ব্যবহারযোগ্য করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি।
নগরীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে সিটি কর্পোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ মাসে চট্টগ্রামে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা একটি নিরাপদ নগরী গড়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব আলহাজ্ব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক আল কাদেরী।
এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরীর বিভিন্ন স্থানে সকাল ৮টায় ঈদ জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—লালদীঘি শাহী জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (রঃ) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি কর্পোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী (ভিআইপি) আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুবাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকী চসিক জামে মসজিদ।
পরিদর্শনকালে মেয়র নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।














