মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

ব্রিটিশরা কিভাবে বিশ্ব জয় করেছিল

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ২:৪৩ পিএম | 5 বার পড়া হয়েছে
ব্রিটিশরা কিভাবে বিশ্ব জয় করেছিল

ইতিহাসের এক সময়ে এমন একটি সাম্রাজ্য ছিল যার সম্পর্কে বলা হতো— “The Sun Never Sets on the British Empire.” অর্থাৎ, পৃথিবীর কোথাও না কোথাও সবসময়ই ব্রিটিশদের শাসন চলত! 🌅
কিন্তু প্রশ্ন হলো— কিভাবে ছোট একটি দ্বীপ রাষ্ট্র ব্রিটেন বিশ্বের বিশাল অংশের উপর প্রভাব বিস্তার করেছিল? 🤔
🔎 ১. শক্তিশালী নৌবাহিনী (Royal Navy)
ব্রিটিশদের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাদের নৌবাহিনী। সমুদ্রপথে তারা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত পৌঁছাতে পারত এবং বাণিজ্য ও সামরিক শক্তি প্রতিষ্ঠা করত। 🚢⚓
💰 ২. বাণিজ্য ও কোম্পানি শাসন
ব্রিটিশরা প্রথমে সরাসরি যুদ্ধ নয়, বরং বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করত। যেমন— ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের বিশাল অংশ শাসন করেছিল। পরে সেই অঞ্চলগুলো সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যায়। 📦🌏
⚙️ ৩. শিল্প বিপ্লবের সুবিধা
শিল্প বিপ্লবের ফলে ব্রিটেন প্রযুক্তি, অস্ত্র, জাহাজ এবং অর্থনৈতিক শক্তিতে অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে যায়। ফলে তারা সহজেই অনেক দেশকে পরাজিত বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 🏭🔧
🤝 ৪. “Divide and Rule” নীতি
অনেক অঞ্চলে ব্রিটিশরা স্থানীয় রাজা, গোত্র বা গোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে নিজেদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছিল। এতে তারা কম শক্তি ব্যবহার করেই বড় অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। ⚖️
🗺️ ৫. কৌশলগত উপনিবেশ
ব্রিটিশরা পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, দ্বীপ ও বাণিজ্য পথ নিয়ন্ত্রণ করেছিল— যেমন ভারত, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনেক অঞ্চল।
📜 ফলাফল:
১৯শ শতকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য পৃথিবীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ ভূমি ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করত!
আজও বিশ্বের অনেক ভাষা, আইন ব্যবস্থা, রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব দেখা যায়।
📌 ইতিহাস আমাদের শেখায়— শক্তি শুধু অস্ত্রের নয়, অর্থনীতি, কৌশল ও প্রযুক্তির সমন্বয়েই একটি সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে।

মহাবারুণী স্নানে পুণ্যার্থীদের ঢল

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম
মহাবারুণী স্নানে পুণ্যার্থীদের ঢল

মানিকগঞ্জের শিবালয় আরিচা ঘাটে যমুনা নদীর তীরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই স্নানে অংশ নেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরের মতো এবারও মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা ও রাজধানী ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। এ ছাড়া ভারতের কলকাতা থেকেও অনেকে স্নানে অংশ নিতে আসেন।

এদিকে বারুণী স্নানকে ঘিরে আরিচা ঘাট-সংলগ্ন যমুনা নদীর তীরে বসেছে পাঁচ দিনব্যাপী মেলা। সাধারণত এই মেলা তিন দিন স্থায়ী হলেও অনুকূল আবহাওয়া ও পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় তা সাত থেকে ১০ দিন পর্যন্ত গড়ায়। এ বছর ঈদকে সামনে রেখে মেলার সময় আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মেলায় নদীর তীরবর্তী চরে বসেছে নানা ধরনের দোকানপাট। হ্যান্ডিক্রাফট, খেলনা, প্রসাধনী, সাজসজ্জাসামগ্রী, বাঁশ ও কাঠের তৈরি পণ্য, বেতের জিনিস, মাটির পাত্র, লোহার সামগ্রীসহ গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মিষ্টি, বিন্নি, খই, বাতাসা ও অন্যান্য মুখরোচক খাবারের সমাহার রয়েছে।

শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, দোলনা, ট্রেন রাইডসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন। এ ছাড়া বেলুন, খেলনা ও নানা আকর্ষণীয় সামগ্রীর দোকান শিশুদের কাছে বাড়তি আনন্দ যোগ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বারুণী স্নানকে কেন্দ্র করে এই মেলা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

জানতে চাইলে তেওতা জমিদারবাড়ির প্রধান পুরোহিত শংকর প্রসাদ চৌধুরী বলেন, প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে মহাবারুণী স্নান। প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটেছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্নানের মাধ্যমে যমুনার জলে অবগাহন করলে মানুষের পাপমোচন হয়। গঙ্গা যেমন সবার পাপ বহন করতে সক্ষম, তেমনি গঙ্গার রূপিণী বারুণী মহাদেবীর কৃপায় ভক্তদের পাপ থেকে মুক্তিলাভের বিশ্বাস রয়েছে। এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভ্রাতৃত্ব ও মিলনের এক অনন্য বন্ধনে মানুষকে আবদ্ধ করে। স্নান শেষে ভক্তদের পারস্পরিক আলিঙ্গন ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে এক মিলনমেলার আবহ সৃষ্টি হয়, যা বারুণী স্নানের অন্যতম প্রধান তাৎপর্য বহন করে।

শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম রাজু আহম্মেদ জানান, বারুণী স্নানে আগত পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে বন্দর সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্নান শেষে কাপড় পরিবর্তনের জন্য আলাদা প্যান্ডেল ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতার পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, শিবালয় থানা-পুলিশ, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস এবং আনসার ও গ্রামপুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার জানান, বারুণী স্নানকে ঘিরে আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্নানার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইরান যুদ্ধে সর্বাধিক বেড়েছে যে সম্পদের দাম

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫২ পিএম
ইরান যুদ্ধে সর্বাধিক বেড়েছে যে সম্পদের দাম

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীরা এখন তাঁদের পুঁজি নিরাপদ সম্পদে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত।

সাধারণত সংকটকালীন ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ থাকে সোনা কিংবা মার্কিন ডলার। তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রথাগত এই সম্পদগুলোকে পেছনে ফেলে অন্য একটি সম্পদের দিকে ঝুঁকেছেন বিনিয়োগকারীরা। যার ফলে এর দামও বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে। সেটি হলো বিটকয়েন।

ইনভেস্টোপিডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিটকয়েনের (BTC USD) দাম ৭২ হাজার ডলারের ঘর ছাড়িয়ে গেছে। তেল ও শেয়ারবাজারে তীব্র ওঠানামার মধ্যেই বিটকয়েনের এ উত্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

যদিও ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি খুব বেশি মনে নাও হতে পারে, তবে যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিটকয়েনের এই উত্থান একে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কারণ, এতদিন বিটকয়েনে বিনিয়োগকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেই ধরা হতো এবং এর আগে কোনো সংকটে এটি ‘নিরাপদ সম্পদ’ হিসেবে পারফর্ম করেনি।

এ বিষয়ে ‘আইএনআরগ্রিড স্টেবল’-এর প্রতিষ্ঠাতা অনুজ চৌধুরী বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের কারণে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিটকয়েনের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এটি সোনা ও মার্কিন ডলার—দুটোকেই ছাড়িয়ে গেছে, যা সংকটকালে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। প্রচলিত নিরাপদ সম্পদের মতো বিটকয়েন শুধু ধরে রাখার বিষয় নয়; এটি ব্যাংক বা সরকারি অবকাঠামো ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর করা যায়। যখন পুঁজি নিয়ন্ত্রণ কঠোর হয় এবং অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন এই গতিশীলতাই এর বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।’

ইরান যুদ্ধের উত্তাপ না কমায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সির দিকে ঝুঁকছেন। তবে বিটকয়েন সোনার মতো নিরাপদ বিনিয়োগ বা ঝুঁকি মোকাবিলার হাতিয়ার হতে পারে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সাম্প্রতিক বিনিয়োগের ধারা বলছে, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিটকয়েনে বিনিয়োগ বাড়ছে।

ইনভেস্টোপিডিয়া ও ফারসাইড ইনভেস্টরসের তথ্যমতে, ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে আইশেয়ার্স বিটকয়েন ট্রাস্ট এবং ফিডেলিটি ওয়াইজ অরিজিন বিটকয়েন ফান্ডের মতো বিটকয়েন সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোতে ১.১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ জমা হয়েছে।

অনুজ চৌধুরী আরও যোগ করেন, ‘বিটকয়েনের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (সেলফ-কাস্টডি) আর্থিক নিরাপত্তার ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। সোনা বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে, মুদ্রা জব্দ করা যেতে পারে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে রাখা বিটকয়েন মালিকের কাছেই থেকে যায়, তার অবস্থান বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন। এই সার্বভৌমত্ব, সীমান্তহীন স্থানান্তরযোগ্যতা এবং স্থিতিস্থাপকতাই বিটকয়েনকে বর্তমানের খণ্ডিত বিশ্বে একটি নতুন যুগের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।’

উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত কিংবা কোভিড-১৯ মহামারির মতো বড় সংকটের সময়ও বিটকয়েনের লেনদেন বাড়তে দেখা গেছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী আর্থিক বাজারে বিটকয়েনকে একটি নমনীয় অবস্থানে দেখছেন। এর ভূমিকা মূলত বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।

তবে অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, বিটকয়েনকে এখনো পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধরা ঠিক নয়। যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিটকয়েন কেনে না, তাই রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে এর ভূমিকা সীমিত। অন্যদিকে, বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গত কয়েক বছরে তাদের সোনার মজুত বাড়িয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে সংঘাতের সময় সোনার দাম অন্য সব সম্পদকে ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু ইরান যুদ্ধের সময় সোনার দামে তেমন বড় উত্থান দেখা যায়নি। যুদ্ধের এক সপ্তাহ পর সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫,৩২৭.৪২ ডলারে পৌঁছালেও বর্তমানে তা ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ২০০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।

এর প্রধান কারণ মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। ডলারের মান বাড়লে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যার ফলে এর চাহিদা কমে যায়। এ ছাড়া তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়লে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যায়। আর সুদের হার বেশি থাকার পূর্বাভাস থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।

যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদে ভিড় কম, বেড়েছে ভাড়া

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫০ পিএম
যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদে ভিড় কম, বেড়েছে ভাড়া

‎আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও যাত্রাবাড়ী অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এখনো তেমন যাত্রীর চাপ লক্ষ করা যায়নি। তবে দূরপাল্লার বাসে করে ধীরে ধীরে বাড়ির পথে রওনা হচ্ছে লোকজন। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের তেমন চিত্র দেখা যায়নি। দূরপাল্লার গাড়িগুলো যথাসময়ে ছেড়ে যাচ্ছে, কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে সেগুলো যথাসময়ে ফেরত আসতে পারছে না।

‎যাত্রাবাড়ীতে শরীয়তপুর পরিবহনের স্টাফ ওহেদুল জানান, এখনো যাত্রীর চাপ তেমন নেই। আগের চেয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থাও ভালো রয়েছে।

‎‎তবে ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন অনেক যাত্রী। খুলনাগামী যাত্রী শহিদুল বলেন, ‘আগে ভাড়া ছিল ৬৫০ টাকা, এখন ৯০০ টাকা নিচ্ছে। ২৫০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে, যা সন্তোষজনক নয়। তবে ভাড়া বেশি হওয়ায় টিকিট পেতে সমস্যা হয়নি।’

‎বেসরকারি চাকরিজীবী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘অফিস থেকে আগেভাগেই ছুটি পেয়েছি, তাই পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আগে থেকেই বাড়ির পথে রওনা দিয়েছি। ভিড় কম থাকায় যাত্রাটা কিছুটা স্বস্তির মনে হচ্ছে, তবে ভাড়া বেশি হওয়ায় খরচ বেড়ে গেছে।’

জীবিকার প্রয়োজনে পরিবার থেকে দূরে থাকা মানুষগুলো ঈদ ঘনিয়ে এলেই ছুটে চলেন নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ির পথে। ছবি: আজকের পত্রিকা
জীবিকার প্রয়োজনে পরিবার থেকে দূরে থাকা মানুষগুলো ঈদ ঘনিয়ে এলেই ছুটে চলেন নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ির পথে। 

‎পরিবার নিয়ে বাগেরহাটের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ‎আরেক চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ভিড় কম থাকার কারণে আগেভাগেই পরিবার নিয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছি। কিন্তু ভাড়া বৃদ্ধি হওয়ার কারণে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।’

‎আরেক যাত্রী রোকসানা বেগম বলেন, ‘শিশুদের নিয়ে ভ্রমণ করা সব সময় কষ্টকর। তাই ভিড় বাড়ার আগেই বাড়ি ফিরছি। এখন যাত্রা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও ভাড়া বেশি হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে।’

‎‎ফরিদপুরগামী এক নারী যাত্রী জানান, ‘ঈদ মানেই পরিবারের সঙ্গে থাকা। সেই আনন্দের জন্য আগে থেকেই রওনা দিয়েছি। তবে নির্ধারিত ভাড়া নিশ্চিত করা হলে যাত্রীদের কষ্ট অনেকটা কমে যেত।’‎

জীবিকার প্রয়োজনে পরিবার থেকে দূরে থাকা মানুষগুলো ঈদ ঘনিয়ে এলেই ছুটে চলেন নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ির পথে। ছবি: আজকের পত্রিকা
জীবিকার প্রয়োজনে পরিবার থেকে দূরে থাকা মানুষগুলো ঈদ ঘনিয়ে এলেই ছুটে চলেন নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ির পথে। 

‎অন্যদিকে পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাড়তি খরচের কারণে ভাড়া কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ডের আপন পরিবহনের কর্মকর্তা বেনুচ বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত ৩৭৫ টাকা ভাড়ার সঙ্গে ২৫ টাকা বাড়িয়ে ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। খালি গাড়ি ফেরত আসার কারণে প্রতি ট্রিপে প্রায় ৬০০ টাকা লোকসান হচ্ছে। এখনো যাত্রীর চাপ কম, তবে সামনে বাড়বে বলে আশা করছি।’

‎‎সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের এনপি পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক পাটোয়ারী বলেন, ‘যাত্রীর চাপ এখনো নেই, আমাদের হাতে পর্যাপ্ত খালি সিট রয়েছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র দুটি গাড়ি পর্যাপ্ত যাত্রী ছাড়া ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়েছে। তেলের সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক গাড়ি বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করছে।’

জীবিকার প্রয়োজনে পরিবার থেকে দূরে থাকা মানুষগুলো ঈদ ঘনিয়ে এলেই ছুটে চলেন নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ির পথে। ছবি: আজকের পত্রিকা
জীবিকার প্রয়োজনে পরিবার থেকে দূরে থাকা মানুষগুলো ঈদ ঘনিয়ে এলেই ছুটে চলেন নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ির পথে। 

‎‎সায়েদাবাদ আন্তজেলা বাস টার্মিনাল শ্রমিক কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘সকালে যাত্রীর চাপ কিছুটা বেশি ছিল। ইতিমধ্যে হাজারের বেশি গাড়ি ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। কেউ নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে তাঁদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর রাখতে আমরা কাজ করছি।’‎

‎সব মিলিয়ে ঈদযাত্রার শুরুতে স্বস্তির চিত্র থাকলেও ভাড়া বৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকট নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর চাপ বাড়বে এবং তখনই প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

error: Content is protected !!