চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে চৌধুরী ইসমাঈল সাজ্জাদ জোহাদ ওয়াকফ স্টেটের কুমিরাদহ বিল দখলকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হামলার ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের সাতরসিয়া গ্রামে গত ১৫ মার্চ কুমিরাদহ বিলে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ আহত না হলেও আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী । এ ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থানায় মামলা করা হয়েছে। এর আগে ১৩ মার্চ দুপুরে একই স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এ নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় নিউজ প্রকাশ হলেও কোন ব্যবস্থা নেননি দাবি এলাকাবাসীর।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, লিজ সূত্রে পাওয়া বিলের মালিক আলফাজ উদ্দীন । রবিবার দুপুরের দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, হাসুয়া কাতা, লাঠি, লোহার রড নিয়ে বিলের, কয়েকটি বাথান ঘর, জাল রাখার ঘর, নৌকা, স্যালো মেশিনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়।
এ বিষয়ে আলফাজ উদ্দীন বলেন, আমাদের অনেক কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে আমিসহ ৫ শত জেলে পরিবার এই কুমিরাদহ বিলটি লিজ নিয়েছি। অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাদের বিলে ব্যপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে করে। এখন তারা হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আমরা বিল ছেড়ে না দিলে, আমাদের উপর হামলা করবে, এবং তারা নিজেরাই হত্যা করে সেই মামলায় আমাদের আসামি করবে। শুধু তাই নয় যেকোন ধরনের মাদক, ও অস্ত্র গোলাবারুদ রেখেও আমাদের ফাসানো হতে পারে বলে দাবি করেন আলফাজ উদ্দীন।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, পেশিশক্তি ব্যবহারে বিল দখলকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটছে। গত ১৩ মার্চ, ও ১৫ মার্চ হঠাৎ করে কুমিরাদহ বিলে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, আমি শিবগঞ্জ সনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করি কাইয়ুম রেজা চৌধুরীর বিরুদ্ধে, মামলা নম্বর ২০৯/২৩ , আমার মামলা বাতিলের জন্য ২৪-০৮-২০২৫ ইং সালে আবেদন করেন কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই মামলার আবেদনটি বাতিল করেন সিনিয়র সহকারী জজ আদালত এবং আমার পক্ষে মামলার আদেশ দেন সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, আদেশে বলা হয়েছে, দরখাস্তকারী/বিবাদী পক্ষের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত প্রতিপক্ষের/ বাদীর বিরুদ্ধে দোতরফা সূত্রে বিনা খরচায় না মঞ্জুর করা হল । আদেশে আরও বলা হয়েছে, যে পক্ষ দখলে আছে তারাই দখলে থাকবে। আদেশে উভয় পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে আলফাজ উদ্দিনের ২০৯/২৩ নম্বর মামলা এখনও চালু রয়েছে।
আলফাজ উদ্দীন আরও বলেন, ১৩ মার্চ ঘটনার পর উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে পাঠান , আমাদের বলেন নিজ নিজ কাগজ দেখাতে, আমি আমার কাগজ পত্র জমা দেওয়ার পরেও আমার বিলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে কাইয়ুম রেজা চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়, এবং তার মেয়ে সাবেক সংরক্ষিত সংসদ সদস্য জারা জাবীন মাহবুব এর ফোনে কয়েকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শিবগঞ্জ থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, কুমিরাদহ বিল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছে। ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ১৩ মার্চ বা ১৫ মার্চ সেখানে কোন ককটেল বিস্ফোরণ হয়নি, লুটপাটের বিষয়ে তদন্তের পর মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান তিনি।