শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২
শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

বাসুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ

Master Mohammad Hanif
Master Mohammad Hanif - Feni District Correspondent, Feni District প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ২:৩১ পিএম | 11 বার পড়া হয়েছে
বাসুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ

ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে স্থানীয়দের ক্ষোভ; দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সচেতন মহলের
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসুড়া গ্রামে বাসুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কের নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, নির্মাণকাজে তিন থেকে চার নম্বর মানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সড়কের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বাসুড়া গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। সড়কটি বাসুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের প্রধান পথ। কিন্তু নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই এলাকাবাসী ইটের মান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত অনেক ইট হাত দিয়েই ভেঙে যাচ্ছে এবং সেগুলোতে পর্যাপ্ত শক্তি নেই। সাধারণত সরকারি সড়ক নির্মাণে প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির ইট ব্যবহারের কথা থাকলেও এখানে নিম্নমানের তিন থেকে চার নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। এতে করে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, “এই সড়কটি আমাদের গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতিদিন স্কুলের শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন। যদি নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়, তাহলে বর্ষা মৌসুম আসার আগেই এটি ভেঙে যেতে পারে।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সরকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। কিন্তু ঠিকাদার যদি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেন, তাহলে সেই উন্নয়নের সুফল জনগণ পাবে না।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণকাজে তদারকির অভাবও রয়েছে। যথাযথভাবে কাজের মান পরীক্ষা করা হলে এ ধরনের নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করার সুযোগ থাকত না বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সড়ক নির্মাণে সঠিক মান বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজে যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়, তবে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার হবে এবং দীর্ঘস্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এদিকে এলাকাবাসী বলছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন। একই সঙ্গে সড়ক নির্মাণে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

হাফিজুর রহমান (মধুপুর) টাঙ্গাইল

মধুপুরে এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানের মাঝে খেজুর বিতরণ

হাফিজুর রহমান (মধুপুর) টাঙ্গাইল প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৬:০৬ পিএম
মধুপুরে এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানের মাঝে খেজুর বিতরণ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে সৌদি সরকারের উপহার হিসেবে আসা খেজুর উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে মধুপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের হাতে খেজুর তুলে দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে উপহার হিসেবে প্রাপ্ত ২৫ কার্টুন (প্রায় ২০০ কেজি) খেজুর উপজেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়। সীমিত পরিমাণ এই উপহার উপজেলার ৩১টি নিবন্ধিত এতিমখানা ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোর মাঝে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খেজুর বিতরণ শেষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২১ জন দুস্থ ব্যক্তির মাঝে যাকাতের নগদ অর্থও বিতরণ করা হয়।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুবায়ের হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্টদের হাতে খেজুর ও যাকাতের অর্থ তুলে দেন।

বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আল রানা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোস্তফা হোসাইন, উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনির এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মধুপুর উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার আব্দুল আলিম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে মধুপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুছ সাদাৎ নোমান, সহ-সভাপতি মো. আ. হামিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র রমজান মাসের আগে এই উপহার পেয়ে এতিমখানা ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আবু জাফর, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় ডিসি চলে যেতেই থেমে গেল অভিযান

আবু জাফর, সাতক্ষীরা প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৬:০৩ পিএম
সাতক্ষীরায় ডিসি চলে যেতেই থেমে গেল অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর ঘোষণা থাকলেও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে অভিযান শুরু হলেও তিনি চলে যাওয়ার পরপরই কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা নোংরা পানি ও অপরিষ্কার ড্রেনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি র‍্যালি বের হয়ে সদর হাসপাতালের দিকে যায়। পরে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আঙিনা ও ড্রেন পরিষ্কারের কার্যক্রম শুরু হয়।
এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মইনুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত এবং বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহ শাহীনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সভা আয়োজনেরও কথা ছিল। পাশাপাশি দিনব্যাপী শহরজুড়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।
তবে বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকসহ অতিথিরা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার পরই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযানে অংশ নেওয়া অনেকেই মূলত ছবি তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। হাসপাতালের বিভিন্ন ড্রেনে জমে থাকা ময়লা পানি পরিষ্কারের কার্যকর উদ্যোগও তেমন দেখা যায়নি।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ড্রেন ও আশপাশে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। এ অবস্থায় সাময়িক কর্মসূচির বদলে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতি শনিবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং এ কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

ভাঙ্গুড়ায় আগুনে পুড়া ৪ পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন

মোঃ আব্দুল আজিজ, ব্যবস্থাপনার সম্পাদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৬:০০ পিএম
ভাঙ্গুড়ায় আগুনে পুড়া ৪ পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে চারটি অসহায় পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও খাদ্যশস্য পুড়ে যাওয়ায় তারা চরম দুর্দশায় পড়েছেন। খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার অষ্টমনীষা ইউনিয়নের সিংগাড়ি গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে একটি বসতঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের ঘরবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে চারটি পরিবারের বসতঘর, আসবাবপত্র, ধান, চাল, সরিষা ও নগদ অর্থ পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো, মৃত খইমুদ্দিন সরকারের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম, মৃত খইমুদ্দিনের স্ত্রী সবুরা খাতুন, মৃত আজগার আলী মন্ডলের স্ত্রী শাহিদা খাতুন এবং মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে জাহিদুল ইসলাম।

শুকনো খাবার বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন, অষ্টমনিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান জাহান বকুল, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন যুব ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মোঃ ওয়ারেছ আলীসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে উপজেলা প্রশাসন রয়েছে এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

error: Content is protected !!