নরসিংদীর ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ আলমগীর হোসেন ভাই অবসরে গেলেন
নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক বর্ণাঢ্য ও সেবামূলক কর্মজীবনের অবসান ঘটিয়ে অবসরে গেলেন সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব আলমগীর হোসেন। শুধু একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে নয়, বরং নরসিংদীর সাধারণ মানুষের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পেশাদারিত্বের সাথে যেভাবে মানবিকতার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন, তা বর্তমান সময়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
সংকটকালের সম্মুখযোদ্ধা
আলমগীর হোসেনের কর্মজীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় ছিল করোনা মহামারীর সেই ভয়াবহ দিনগুলো। যখন মানুষ ঘরবন্দি, জীবন যখন অনিশ্চিত, তখন তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অসহায় ও আর্তমানবতার পাশে। শুধু করোনা নয়, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগেও তাকে দেখা গেছে নরসিংদীর দুস্থ ও গরিব মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে। ত্রাণ বিতরণ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা—সবখানেই ছিল তার সরব উপস্থিতি।
পেশাদারিত্ব ও ব্যক্তিত্বের মিশেল
ব্যক্তি জীবনে আলমগীর হোসেন একজন আইনজীবী। আইন পেশার নীতি ও সরকারি চাকরির দায়িত্বকে তিনি বরাবরই মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। তার সম্পর্কে সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মূল্যায়ন একই সূত্রে গাঁথা—তিনি একজন ‘নিরেট ভদ্রলোক’।
পরোপকারিতা: স্বার্থহীনভাবে মানুষের উপকার করা ছিল তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য।
সদালাপী: ছোট-বড় নির্বিশেষে সবাইকে তিনি সম্মান করতেন এবং স্নেহমাখা আচরণে আপন করে নিতেন।
গরিবের বন্ধু: সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা তাকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এক বিশেষ আসনে বসিয়েছে।
বিদায়বেলায় শুভকামনা
একজন সফল ও সার্থক কর্মজীবন শেষ করে তিনি আজ অবসর জীবনে পদার্পণ করছেন। তার এই বিদায়ে জেলা কার্যালয়ের সহকর্মীদের মাঝে যেমন শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষ তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।
নরসিংদীবাসীর প্রত্যাশা, অবসরের পর তিনি তার আইন পেশা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে আরও বড় পরিসরে কাজ করে যাবেন। তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং ভবিষ্যৎ জীবনের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা কররছি।








