বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

আছিয়া পারভীনের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ শিক্ষক সমাজে

MD. AZGAR ALI
MD. AZGAR ALI - Khulna Bureau Chief, KHULNA DIVISION প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৩:০৪ পিএম | 74 বার পড়া হয়েছে
আছিয়া পারভীনের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ শিক্ষক সমাজে

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে এক নারী শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

রবিবার (৮ মার্চ ২০২৬) সকাল ১০টায় কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি (রেজি: এস-১২০৬৮) কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কালিগঞ্জ উপজেলার ৬৩ নং বেনাদোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আছিয়া পারভীন (আলো)-এর ওপর একই বিদ্যালয়ের ভুয়া জমিদাতা সদস্য পরিচয়দানকারী এবং কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের সোতা গ্রামের মাওলা বকস মোড়লের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম (লিটু) শারীরিক নির্যাতন, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৬ মে বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির চারুকারু বিষয়ের প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা চলাকালে অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম হঠাৎ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে পরীক্ষা বন্ধ করার হুমকি দেন। এ সময় সহকারী শিক্ষক আছিয়া পারভীন এর প্রতিবাদ করলে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
পরদিন ৭ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে আবারও বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে পরীক্ষায় বাধা সৃষ্টি করা হয় এবং ওই শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও উপস্থিত অভিভাবকরা তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের ২১৬৮ নং স্মারক আদেশে শিক্ষক আছিয়া পারভীনকে একই উপজেলার ১১৭ নং পশ্চিম মৌতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়। এতে তিনি চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন শিক্ষক নেতারা।
শিক্ষক নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দূরবর্তী বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কষ্ট, নিরাপত্তাহীনতা এবং ছোট শিশু সন্তান দেখভালের সমস্যার কারণে তিনি বর্তমানে মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষকের ওপর এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা শুধু শিক্ষক সমাজের জন্য নয়, সমগ্র জাতির জন্যই লজ্জাজনক। জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি শিক্ষকরা নিরাপদ না থাকেন, তবে শিক্ষার পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত কারণে দেওয়া ডেপুটেশন আদেশ প্রত্যাহার করে ভুক্তভোগী শিক্ষককে পূর্বের কর্মস্থলে পুনর্বহাল করার দাবি জানান তারা।
সমাবেশ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা, ২১৬৮ নং স্মারক আদেশ প্রত্যাহার করে শিক্ষক আছিয়া পারভীনকে পূর্বের বিদ্যালয়ে পুনর্বহাল করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের সুরক্ষায় পৃথক শিক্ষা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহিনা আক্তার চায়নার সভাপতিত্বে এবং বিশ্বনাথ অধিকারী শীলনের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমিতির সাবেক সভাপতি এস এম গোলাম রহমান, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আমির হোসেন মিঠু, শিক্ষক নেতা জাকিয়া সুলতানা, শহিদুল ইমরান, দেবদাস মন্ডল, দেবাশিষ অধিকারী, সহকারী শিক্ষক আবু আসলাম, গোলাম মোস্তফা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষক নেতারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় বক্তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শিক্ষক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন।

মো সেলিম রানা

দেবিদ্বার পৌরসভার বাজেট নিয়ে প্রশ্ন, আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি

মো সেলিম রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
দেবিদ্বার পৌরসভার বাজেট নিয়ে প্রশ্ন, আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি

কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার সাম্প্রতিক বাজেট ঘোষণা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে দেবিদ্বার পৌরসভার বাজেট প্রায় ৫৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট প্রায় ৪৫ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি ধরা হয়েছে।
এত বড় অংকের বাজেট ঘোষণার পর থেকেই পৌর এলাকার সাধারণ নাগরিক, সচেতন মহল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বাজেটের আয়-ব্যয় ও বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং নাগরিক সেবায় এই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে—তা জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সরকারি অর্থ মূলত জনগণের ট্যাক্স ও রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে আসে। ফলে এই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি খাতের ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তারা মনে করেন, বাজেট ঘোষণার পাশাপাশি প্রকল্পভিত্তিক বাস্তবায়ন, বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করলে জনগণের আস্থা আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, পৌরসভার দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের, বিশেষ করে হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে সকল খাতের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করার দাবি জানানো হচ্ছে। এতে করে পৌর এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণ স্পষ্ট ধারণা পাবে এবং ভবিষ্যতে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।
সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেটের তথ্য ও উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব উন্মুক্ত করলে শুধু বিতর্ক কমবে না, বরং জনগণের আস্থাও বাড়বে এবং প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
দেবিদ্বার উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌরসভার বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

উখিয়ায় রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের বিনামূল্যে (ভিজিএফ) চাল বিতরণ

সিরাজুল কবির বুলবুল উখিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪১ এএম
উখিয়ায় রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের বিনামূল্যে (ভিজিএফ) চাল বিতরণ

পবিত্র রমজান মাসে ঈদ উপহার হিসেবে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের (১২ মার্চ) সকাল ৯ টার সময় (ভিজিএফ) চাল বিতরণ উদ্বোধন করেন রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মীর শাহেদুল ইসলাম রোমান এসময় উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (বিআরডিবি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান প্যানেল চেয়ারম্যান ছৈয়দ হামজা ও সদস্য সচিব মৃনাল বড়ুয়া।এবিষয়ে রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মীর শাহেদুল ইসলাম রোমান জানান গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার হতদরিদ্র মানুষের জন্য ঈদ উপলক্ষে উপহার স্বরুপ (ভিজিএফ) ১০ কেজি করে চাল প্রদান করেছেন হতদরিদ্র পরিবারের জন্য। এতে করে হতদরিদ্র পরিবার গুলো উপকৃত হয়েছেন বলে আমি মনে করি। আমার ইউনিয়নে ৭৭৫৪ হতদরিদ্র পরিবার এই চাল পাবেন।

উত্তরার হোটেলিয়ানদের মিলনমেলা: ইফতার ও ডিনারে আতিথেয়তা শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

দিশা আক্তারঃ স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
উত্তরার হোটেলিয়ানদের মিলনমেলা: ইফতার ও ডিনারে আতিথেয়তা শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

রাজধানীর উত্তরা এলাকার বিভিন্ন হোটেলে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মীদের উদ্যোগে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলনমেলা, ইফতার ও ডিনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উত্তরার বিভিন্ন হোটেলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এতে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, পেশাগত সম্পর্ক জোরদার এবং আতিথেয়তা শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হোটেল শিল্প শুধু খাবার পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মানুষের থাকা, বিশ্রাম, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক আতিথেয়তার একটি সমন্বিত সেবা ব্যবস্থা। একজন অতিথি যখন একটি হোটেলে আসেন, তখন তিনি শুধু একটি কক্ষ বা খাবারই পান না, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা লাভ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, উত্তরা বর্তমানে ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুত উন্নয়নশীল এলাকা। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী অবস্থান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে এখানে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি বহু মানুষের আগমন ঘটে। ফলে উত্তরা খুব স্বাভাবিকভাবেই একটি সম্ভাবনাময় হসপিটালিটি হাব হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ রাখে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী হোটেল কর্মকর্তারা মনে করেন, মানসম্মত সেবা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, আরামদায়ক থাকার ব্যবস্থা এবং পেশাদার আতিথেয়তার মাধ্যমে উত্তরার হোটেল শিল্পকে আরও উন্নত করা সম্ভব। একই সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পেশাগত ঐক্যের মাধ্যমে এই খাতকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মিলনমেলার মাধ্যমে উত্তরার হোটেল শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয় এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

error: Content is protected !!