কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার সাম্প্রতিক বাজেট ঘোষণা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে দেবিদ্বার পৌরসভার বাজেট প্রায় ৫৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট প্রায় ৪৫ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি ধরা হয়েছে।
এত বড় অংকের বাজেট ঘোষণার পর থেকেই পৌর এলাকার সাধারণ নাগরিক, সচেতন মহল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বাজেটের আয়-ব্যয় ও বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং নাগরিক সেবায় এই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে—তা জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সরকারি অর্থ মূলত জনগণের ট্যাক্স ও রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে আসে। ফলে এই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি খাতের ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তারা মনে করেন, বাজেট ঘোষণার পাশাপাশি প্রকল্পভিত্তিক বাস্তবায়ন, বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করলে জনগণের আস্থা আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, পৌরসভার দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের, বিশেষ করে হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে সকল খাতের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করার দাবি জানানো হচ্ছে। এতে করে পৌর এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণ স্পষ্ট ধারণা পাবে এবং ভবিষ্যতে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।
সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেটের তথ্য ও উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব উন্মুক্ত করলে শুধু বিতর্ক কমবে না, বরং জনগণের আস্থাও বাড়বে এবং প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
দেবিদ্বার উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌরসভার বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

মো সেলিম রানা 