মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

নবীজির একদল সাহসী গোয়েন্দার আত্মত্যাগ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম | 77 বার পড়া হয়েছে
নবীজির একদল সাহসী গোয়েন্দার আত্মত্যাগ

মদিনার পবিত্র ভূমি থেকে একদল সাহসী গোয়েন্দা বেরিয়ে পড়লেন। তাঁদের নেতা আসিম ইবনে সাবিত (রা.), একজন দৃঢ়চেতা মানুষ। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল মক্কার কুরাইশদের গতিবিধি সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহ করা। উসফান আর মক্কার মাঝখানের এক বিরানভূমি, ‘হাদআত’, সেখানে পৌঁছে তাঁরা বিশ্রাম নিলেন। পথের ক্লান্তি দূর করার জন্য তাঁরা মদিনা থেকে আনা খেজুর খেলেন। কিন্তু তাঁরা জানতেন না, তাঁদের পিছু নিয়েছে প্রায় ২০০ কুরাইশ তিরন্দাজ।

যাদের জন্য এসেছিল অলৌকিক রিজিকযাদের জন্য এসেছিল অলৌকিক রিজিক
পদচিহ্ন অনুসরণ করে কুরাইশরা তাঁদের কাছে চলে এল। তাঁরা সেই জায়গার সন্ধান পেল—যেখানে সাহাবিরা বসে খেজুর খেয়েছিলেন। একজন কুরাইশ বলল, ‘এত ইয়াসরিবের খেজুর! তাঁরা এখানেই ছিল।’

আঁকাবাঁকা পথ ধরে তাঁরা সাহাবিদের অনুসরণ করতে থাকল। আসিম (রা.) ও তাঁর সঙ্গীরা তাঁদের দেখতে পেয়ে দ্রুত একটি উঁচু স্থানে আশ্রয় নিলেন। কুরাইশরা তাঁদের ঘিরে ফেলল। চিৎকার করে বলল, ‘তোমরা আত্মসমর্পণ করো! আমরা অঙ্গীকার করছি—তোমাদের কাউকে হত্যা করব না।’

আসিম (রা.) জানতেন, কুরাইশদের অঙ্গীকারের কোনো মূল্য নেই। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি অবিশ্বাসীদের নিরাপত্তায় নেমে যাব না। হে আল্লাহ! আমাদের পক্ষ থেকে আপনার নবীকে সংবাদ পৌঁছে দিন।’

আসিম (রা.)-এর এই কথা শুনে কুরাইশরা উন্মত্ত হয়ে উঠল। তাঁরা তীর নিক্ষেপ করতে শুরু করল। আসিম (রা.)-সহ সাতজন সাহাবি সেখানেই শহীদ হলেন। বাকি রইলেন তিনজন—খুবাইব আনসারি, জায়েদ ইবনে দাসিনা (রা.) এবং আর একজন। তাঁরা কুরাইশদের দেওয়া মিথ্যা অঙ্গীকারে বিশ্বাস করে নিচে নেমে এলেন।

কিন্তু যে কুরাইশদের অত্যাচারে মায়ার নবী নিজ মাতৃভূমি মক্কা ছেড়ে মদিনায় আসতে হয়েছে—তারা কি নিজেদের অঙ্গীকার রক্ষা করবে! করেওনি। সাহাবিরা নিচে নামার পর কুরাইশরা বিশ্বাসঘাতকতা করল। তাঁরা ধনুকের রশি দিয়ে সাহাবিদের শক্ত করে বেঁধে ফেলল। তৃতীয় জন সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, ‘এ তো শুরুতেই বিশ্বাসঘাতকতা! আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সঙ্গে যাব না। আমি আমার শহীদ ভাইদের পদাঙ্ক অনুসরণ করব।’ কুরাইশরা তাকে সেখানেই শহীদ করে ফেলল।

খুবাইব ও জায়েদ (রা.) মাকে নিয়ে তাঁরা মক্কায় ফিরে গেল, যেখানে তাঁদের বন্দী হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হলো। খুবাইব (রা.)-কে ক্রয় করল হারিস ইবনে আমিরের গোষ্ঠীর লোকেরা। বদর যুদ্ধে খুবাইব (রা.) তাঁদের নেতা হারিসকে হত্যা করেছিলেন। তাই তাঁরা বদলা নিতে চাইছিল।

খুবাইব (রা.) তাঁদের কাছে দীর্ঘদিন বন্দী ছিলেন। হারিসের এক কন্যা জানাল, যখন তাঁরা খুবাইব (রা.)-কে শহীদ করার সিদ্ধান্ত নিল, তিনি তাঁদের কাছে একটি ক্ষুর চাইলেন। ক্ষুর পেয়ে তিনি তাঁর চুল-দাড়ি পরিষ্কার করতে লাগলেন। সেই সময় তাঁর ছোট্ট ছেলেটি খুবাইব (রা.)-এর কাছে চলে যায় এবং তাঁর ঊরুর ওপর বসে পড়ে। হারিসের কন্যা ভয় পেয়ে যায়। তাঁর মনে হয়, খুবাইব বুঝি প্রতিশোধ নিতে চাইছে।

খুবাইব (রা.) তাঁর চেহারার ভয় দেখে হাসলেন। তিনি বললেন, ‘তুমি কি ভয় পাচ্ছ যে আমি তোমার ছেলেকে হত্যা করব? আল্লাহর কসম! আমি এমন কাজ কখনো করব না।’

হারিসের কন্যা এই ঘটনার পর সারা জীবন বলে বেড়াতো, ‘আমি খুবাইবের মতো উত্তম বন্দী কখনো দেখিনি। একদিন আমি দেখলাম—তিনি লোহার শিকলে আবদ্ধ অবস্থায় ছড়া থেকে আঙুর খাচ্ছেন, অথচ মক্কায় তখন কোনো আঙুর পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত জীবিকা, যা তিনি খুবাইবকে দান করেছেন।’

মূল ঘটনায় ফিরে যাই—অবশেষে তাঁরা খুবাইব (রা.)-কে শহীদ করার জন্য বের হয়ে পড়ল। তখন খুবাইব (রা.) তাঁদের কাছে দুই রাকাত নামাজ পড়ার অনুমতি চাইলেন। তাঁরা তাকে সেই অনুমতি দিল। নামাজ শেষ করে তিনি বললেন, ‘তোমরা যদি মনে না করতে যে আমি মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছি, তবে আমি নামাজকে আরও দীর্ঘ করতাম।’ এরপর তিনি দুটি কবিতা আবৃত্তি করলেন, যার অর্থ ছিল:

‘যখন আমি মুসলিম হিসেবে শহীদ হচ্ছি,

তখন কোনো ভয় করি না।

আল্লাহর উদ্দেশ্যে আমাকে যেখানেই মাটিতে লুটিয়ে ফেলা হোক না কেন,

আমার এ মৃত্যু আল্লাহর জন্যই হচ্ছে।

তিনি যদি ইচ্ছা করেন,

তবে আমার দেহের প্রতিটি খণ্ডিত জোড়ায়

বরকত সৃষ্টি করে দেবেন।’

হারিসের গোত্রের লোকেরা তাঁকে শহীদ করে ফেলল। এভাবেই একজন মুসলিম বন্দী হিসেবে শহীদ হওয়ার আগে দুই রাকাত নামাজ পড়ার রীতি খুবাইব (রা.)-ই প্রবর্তন করে গেছেন।

এদিকে আসিম (রা.)-এর দোয়া আল্লাহ কবুল করেছিলেন। নবীজি (সা.) মদিনায় থেকেই তাঁদের শাহাদাতের খবর পেয়েছিলেন। যখন কুরাইশরা খবর পেলেন যে আসিম (রা.) শহীদ হয়েছেন, তখন তাঁরা তাঁর লাশ থেকে কিছু অংশ কেটে আনার জন্য লোক পাঠালেন। কারণ আসিম (রা.) বদর যুদ্ধে কুরাইশদের এক নেতাকে হত্যা করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা আসিমের লাশের কাছে গিয়ে দেখল, মৌমাছির ঝাঁক তাঁর দেহ ঘিরে রেখেছে। তাঁরা মৌমাছির কারণে তাঁর দেহের কোনো অংশ কেটে নিতে পারল না।

তথ্যসূত্র: সহিহ্ বুখারি: ৩০৪৫

ফটিকছড়িতে বরযাত্রীবাহী বাস উল্টে হতাহত-২০

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৭ এএম
ফটিকছড়িতে বরযাত্রীবাহী বাস উল্টে হতাহত-২০

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বরযাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে তিন আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের অন্তত ১৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

সোমবার (৯ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের ফেলাগাজী মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, মোটরসাইকেলের আরোহী নয়ন ওঁরাও (১৯), উত্তম ওঁরাও (২০) ও তপু কর্মকার (১৬)। তাদের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজারিখীল এলাকায়।
নিহত উত্তম ওঁরাওয়ের বাবা যোগেজ ওঁরাও জানান, তারা তিনজনই রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, বোয়ালখালী উপজেলা থেকে দুটি বাসে করে লোকজন মানিকছড়ি উপজেলায় একটি হিন্দু বউভাত অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বিকালে ফেরার পথে ফেলাগাজী মোড় এলাকায় বরযাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের একজন আরোহী নিহত হন। পরে আহত দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন বরযাত্রী আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসান জানান, আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় নয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম বলেন, ঘটনাস্থলে একজন মারা যান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহতদের চিকিৎসা চলছে।

বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় ছাতকে ছাত্রদলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সেলিম মাহবুবঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৫ এএম
বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় ছাতকে ছাত্রদলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

 

দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় ছাতক ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে কলেজ প্রাঙ্গনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এবং শহরে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়েছে।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে ছাতক পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক (স্বাক্ষর ক্ষমতা প্রাপ্ত) জসিম উদ্দিন সুমেন, উপজেলা জাসাসের আহবায়ক আব্দুল আলিম,

ছাতক ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইদুল হক রাহেল, ছাত্রদলের শাওন আহমদ, ওহি আম্বিয়া,
মাহদি উল আলম, কাওছার আহমেদ সেবুল, রাহি আহমদ, সাদিকুর রহমান, গোলাম রাব্বি চৌধুরী সিফাত, তানভীর আহমেদ, ইশতিয়াক আম্বিয়া রায়হান, রবিন আহমেদ, মেহরাব মাহিম, ইস্তিয়াক আহমেদ ইদরাক,নাইম আহমেদ, তানভির হুসেন নাইম সহ কলেজ ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ##

ছাতকে পুলিশের অভিযানে ভারতীয় পন্য সহ দুই চোরাকারবারী আটক

সেলিম মাহবুবঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৩ এএম
ছাতকে পুলিশের অভিযানে ভারতীয় পন্য সহ দুই চোরাকারবারী আটক

 

ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে ১ টি মোটরসাইকেল এবং ভারতীয় ১হাজার ৩৮০ পিচ ক্রীম সহ ১জন চোরাকারবারী কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে ৯৬ কেজি পেস্তা বাদাম, ১০০ প্যাকেট (৫০ কেজি) AJNAIN মসলা, ৫০কেজি গুয়া মৌরির প্যাকেট, ১০০০(এক হাজার) পিচ BETNOVATE Creem ও ১টি ডিআই পিকআপ গাড়ী সহ আরো একজন চোরাকারবারীকে পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেফতার করা হয়। দুই আসামীর বিরুদ্ধে পৃথক-পৃথক চোরাচালান মামলা থানায় দায়ের করা হয়েছে। রবিবার রাত পুলিশের পৃথক অভিযানে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

আটক আব্দুল করিম (২৬), সিলেট সদরের পশ্চিম কাজল শাহ এলাকার রইয়ব আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে ০৯.০৩. ২০২৬ খ্রিঃ তারিখে ছাতক থানার মামলা নং-১৫ (০৩) ২৬ দায়ের করা হয়েছে। আটক আব্দুল করিমের কাছ থেকে ২,৭৬০০০ হাজার টাকা মুল্যের ভারতীয় পন্য উদ্ধার করা হয়

এদিকে আটক মো. জুয়েল আহমদ (২৮) এর বিরুদ্ধে ছাতক থানার মামলা নং-১৭ (০৩) ২৬ দায়ের করা হয়। সে ছাতকের কালারুকা ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের হুশিয়ার আলীর ছেলে তার কাছ থেকে ৯,৪০,০০০-টাকা মুল্যের ভারতীয় পন্য উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে দুইটি মামলায় মোট উদ্ধার করা মালের মূল্য-১২,১৬,০০০-টাকা।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের সুনামগঞ্জ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান, ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান। ##

error: Content is protected !!