মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ: প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:১২ পিএম | 86 বার পড়া হয়েছে
রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ: প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম ইতিকাফ। ইতিকাফের মাধ্যমে আত্মা পরিশুদ্ধ হয়। দুনিয়ার মোহ দূর হয় হৃদয় থেকে। ইতিকাফের দিনগুলিতে মুমিন বান্দা নিজেকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইবাদতে নিবেদিত করে। বিশেষ করে রমজানে এই ইবাদতের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর সন্ধান করার সুযোগ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ থেকেই এ ধারা চলে আসছে। তাই একান্ত জরুরি কোনো ব্যস্ততা না থাকলে রমজানের শেষ দশক ইতিকাফে কাটানোই উত্তম।

স্বপ্নদোষ হলে কি রোজা ভেঙে যায়?স্বপ্নদোষ হলে কি রোজা ভেঙে যায়?
ইতিকাফ কী
আরবি শব্দ ইতিকাফের অর্থ কোনো স্থানে অবস্থান করা বা নিজেকে সেখানে সীমাবদ্ধ রাখা। শরিয়তের পরিভাষায় ইতিকাফ বলা হয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মসজিদে অবস্থান করা। দুনিয়াবি কাজকর্ম থেকে নিজেকে গুটিয়ে শুধু ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত থাকা।’

ইতিকাফ আগেকার নবীদের সময় থেকেই চলে আসছে। পবিত্র কোরআনে এ কথার উল্লেখ আছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে হুকুম করি, তোমরা আমার ঘরকে সেই সব লোকের জন্য পবিত্র করো, যারা (এখানে) তাওয়াফ করবে, ইতিকাফ করবে এবং রুকু ও সিজদা আদায় করবে।’ (সুরা বাকারা: ১২৫)

ইতিকাফের প্রকার ও বিধান
ইতিকাফ তিন প্রকার:

এক. সুন্নত: রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ।
দুই. নফল: যেকোনো সময়ের ইতিকাফ।
তিন. ওয়াজিব: মান্নতের ইতিকাফ।
তিন প্রকারের যেকোনো ইতিকাফ পুরুষের জন্য শুধু মসজিদে করার সুযোগ আছে। তবে নারীরা ঘরে নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থানে ইতিকাফ করবে। রমজানের শেষ দশক তথা ২০ রমজানের সূর্যাস্ত থেকে ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়া বা ৩০ রমজান পূর্ণ হয়ে ওই দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া। তাই কোনো মসজিদ মহল্লায় কয়েকজন বা কোনো একজন আদায় করলে সবাই দায়মুক্ত হয়ে যাবে। আর কেউই ইতিকাফ না করলে সুন্নতে মুয়াক্কাদা পরিত্যাগ করার জন্য সবাই গুনাহগার হবে। তবে আদায়ের ক্ষেত্রে যিনি বা যারা আদায় করবেন, শুধু তিনি বা তারাই সওয়াব পাবেন।

মনে রাখার বিষয় হলো, ইতিকাফের জন্য নিয়ত করা আবশ্যক। নিয়ত ছাড়া ইতিকাফ শুদ্ধ হয় না। নিয়ত মনে মনে করলেই হয়ে যাবে। মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা আবশ্যক নয়।

রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ
ইতিকাফের সময় একজন ব্যক্তি সমাজের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে শুধু আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করেন। তাই এর মাধ্যমে ব্যক্তির আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটে, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় হয় এবং আল্লাহর রহমত লাভের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। এসব কারণে ইসলামে ইতিকাফের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ খুব গুরুত্ব বহন করে।

রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফকে হজরত নবী করিম (সা.) গুরুত্বের সঙ্গে দেখতেন। সাহাবায়ে কেরামও আমলটিকে খুব গুরুত্ব দিতেন। এমনকি নবীপত্নীগণও ইতিকাফ করতে ভুলতেন না।

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশ দিনে ইতিকাফ করতেন। তাঁর ওফাত পর্যন্ত এই নিয়মই ছিল। এরপর তাঁর সহধর্মিণীরাও ইতিকাফ করতেন। (বুখারি: ২০২৬)

ইমাম জুহরি (রহ.) বলেন, ‘অনেক আমল তো নবীজি (সা.) কখনো করেছেন আবার কখনো ছেড়েও দিয়েছেন। কিন্তু মদিনায় হিজরত করার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রমজানের শেষ দশ দিনের ইতিকাফের আমলটি তিনি কখনোই ছাড়েননি।’ (ফাতহুল বারি: ৪ / ২৮৫)

ইতিকাফের প্রস্তুতি
ইতিকাফের সময় শুধু আল্লাহর ইবাদতেই মশগুল থাকতে হবে। ইতিকাফের সময় সুস্থ থাকাও প্রয়োজন। তাই ইতিকাফের আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা উচিত। তাছাড়া ইতিকাফের সময় প্রয়োজনীয় কোনো জিনিসের কারণে যেন ইবাদতে মনোযোগ নষ্ট না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় আসবাবগুলো আগে থেকেই সঙ্গে নিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। যেমন বিছানাপত্র, পরিধেয় কাপড়, টয়লেট টিস্যু, সাবান-শ্যাম্পু, পানি পানের পাত্র, প্লেট-বাটি, মূল্যবান জিনিস সংরক্ষণের জন্য তালা দেওয়া যায়—এমন ব্যাগ বা লাগেজ ইত্যাদি। পাশাপাশি সঙ্গে কিছু ধর্মীয় বইও রাখা যেতে পারে।

ইতিকাফের আমল
ইতিকাফ হতে হবে আমলে ভরপুর। শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজেই ইতিকাফের সময়গুলো ব্যয় করা প্রয়োজন। তাই ইতিকাফের আগে ব্যক্তিগত বা সাংসারিক ব্যস্ততাগুলো শেষ করা উচিত, যেন ইতিকাফে অন্যমনষ্ক হতে না হয়। দুনিয়াবি কোনো ব্যস্ততা বা কাজ যেন ইতিকাফে না হয়, সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে। নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, হাদিস অধ্যয়ন, ধর্মীয় বই পাঠ, দোয়া-ইস্তিগফার, জিকির ও তাসবিহে কাটাতে হবে পুরোটা সময়।

সর্বোপরি দুনিয়াবি চিন্তা, কাজ-কর্ম থেকে বিরত থেকে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও লাইলাতুল কদর পেতে ইবাদাত-বন্দেগিতে মশগুল থাকাই ইতিকাফের মূল লক্ষ্য।

রমজানের প্রকৃত সফলতা অর্জনে যেসব ইবাদতকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়—ইতিকাফ তার মধ্যে অন্যতম। আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ এবং দুনিয়ার মোহ থেকে দূরে থাকার এক অনন্য মাধ্যম ধরা হয় ইতিকাফকে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ইতিকাফের বিষয়গুলো জেনে-বুঝে যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন।

 

ফটিকছড়িতে বরযাত্রীবাহী বাস উল্টে হতাহত-২০

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৭ এএম
ফটিকছড়িতে বরযাত্রীবাহী বাস উল্টে হতাহত-২০

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বরযাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে তিন আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের অন্তত ১৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

সোমবার (৯ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের ফেলাগাজী মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, মোটরসাইকেলের আরোহী নয়ন ওঁরাও (১৯), উত্তম ওঁরাও (২০) ও তপু কর্মকার (১৬)। তাদের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজারিখীল এলাকায়।
নিহত উত্তম ওঁরাওয়ের বাবা যোগেজ ওঁরাও জানান, তারা তিনজনই রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, বোয়ালখালী উপজেলা থেকে দুটি বাসে করে লোকজন মানিকছড়ি উপজেলায় একটি হিন্দু বউভাত অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বিকালে ফেরার পথে ফেলাগাজী মোড় এলাকায় বরযাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের একজন আরোহী নিহত হন। পরে আহত দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন বরযাত্রী আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসান জানান, আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় নয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম বলেন, ঘটনাস্থলে একজন মারা যান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহতদের চিকিৎসা চলছে।

বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় ছাতকে ছাত্রদলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সেলিম মাহবুবঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৫ এএম
বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় ছাতকে ছাত্রদলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

 

দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় ছাতক ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে কলেজ প্রাঙ্গনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এবং শহরে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়েছে।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে ছাতক পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক (স্বাক্ষর ক্ষমতা প্রাপ্ত) জসিম উদ্দিন সুমেন, উপজেলা জাসাসের আহবায়ক আব্দুল আলিম,

ছাতক ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইদুল হক রাহেল, ছাত্রদলের শাওন আহমদ, ওহি আম্বিয়া,
মাহদি উল আলম, কাওছার আহমেদ সেবুল, রাহি আহমদ, সাদিকুর রহমান, গোলাম রাব্বি চৌধুরী সিফাত, তানভীর আহমেদ, ইশতিয়াক আম্বিয়া রায়হান, রবিন আহমেদ, মেহরাব মাহিম, ইস্তিয়াক আহমেদ ইদরাক,নাইম আহমেদ, তানভির হুসেন নাইম সহ কলেজ ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ##

ছাতকে পুলিশের অভিযানে ভারতীয় পন্য সহ দুই চোরাকারবারী আটক

সেলিম মাহবুবঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৩ এএম
ছাতকে পুলিশের অভিযানে ভারতীয় পন্য সহ দুই চোরাকারবারী আটক

 

ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে ১ টি মোটরসাইকেল এবং ভারতীয় ১হাজার ৩৮০ পিচ ক্রীম সহ ১জন চোরাকারবারী কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে ৯৬ কেজি পেস্তা বাদাম, ১০০ প্যাকেট (৫০ কেজি) AJNAIN মসলা, ৫০কেজি গুয়া মৌরির প্যাকেট, ১০০০(এক হাজার) পিচ BETNOVATE Creem ও ১টি ডিআই পিকআপ গাড়ী সহ আরো একজন চোরাকারবারীকে পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেফতার করা হয়। দুই আসামীর বিরুদ্ধে পৃথক-পৃথক চোরাচালান মামলা থানায় দায়ের করা হয়েছে। রবিবার রাত পুলিশের পৃথক অভিযানে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

আটক আব্দুল করিম (২৬), সিলেট সদরের পশ্চিম কাজল শাহ এলাকার রইয়ব আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে ০৯.০৩. ২০২৬ খ্রিঃ তারিখে ছাতক থানার মামলা নং-১৫ (০৩) ২৬ দায়ের করা হয়েছে। আটক আব্দুল করিমের কাছ থেকে ২,৭৬০০০ হাজার টাকা মুল্যের ভারতীয় পন্য উদ্ধার করা হয়

এদিকে আটক মো. জুয়েল আহমদ (২৮) এর বিরুদ্ধে ছাতক থানার মামলা নং-১৭ (০৩) ২৬ দায়ের করা হয়। সে ছাতকের কালারুকা ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের হুশিয়ার আলীর ছেলে তার কাছ থেকে ৯,৪০,০০০-টাকা মুল্যের ভারতীয় পন্য উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে দুইটি মামলায় মোট উদ্ধার করা মালের মূল্য-১২,১৬,০০০-টাকা।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের সুনামগঞ্জ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান, ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান। ##

error: Content is protected !!