মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

মাদক, সন্ত্রাস ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

উলিপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

PROTIK KUMAR
PROTIK KUMAR - Upazila Representative, ULIPUR (KURIGRAM) প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম | 51 বার পড়া হয়েছে
উলিপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদ ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী।

সভায় মাদক প্রতিরোধ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমন, যানজট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, “উলিপুরে কোনো ধরনের মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে বাজার মনিটরিং জোরদার এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

সভায় বক্তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আবিদ হাসান, ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধিঃ

ঈদুল আযহা ঘিরে ইসলামপুরে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

আবিদ হাসান, ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
ঈদুল আযহা ঘিরে ইসলামপুরে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে ইসলামপুর পৌর শহরে ভয়াবহ যানজট দেখা দিয়েছে। উৎসবের কেনাকাটা ও ঘরমুখো মানুষের চাপে শহরের প্রধান সড়কগুলো এখন স্থবির। বিশেষ করে লাইসেন্সবিহীন ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল এবং যত্রতত্র পার্কিং এই ভোগান্তিকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে।

‎শহর ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান তিনটি পয়েন্টে যানজট সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে:
‎সরকারি জে.জে.কে.এম গার্লস হাই স্কুল সংলগ্ন রেলগেট, এখানে ট্রেনের সময়সূচীর পাশাপাশি যানবাহনের চাপে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের।
‎দেনুয়ার মোড়, বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় এখানে রিকশা ও ইজি বাইকের জটলা সবসময়ই লেগে থাকছে।
‎থানা মোড়, শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে যানজটের কারণে স্থবির হয়ে পড়ছে সব ধরনের চলাচল।

‎স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের মতে, যানজটের প্রধান কারণ হলো পৌর এলাকায় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক ও অটোরিকশা। অভিযোগ রয়েছে যে, চলাচলকারী যানবাহনের একটি বড় অংশেরই কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই।

‎হাসপাতালগামী এক রোগীর স্বজন আক্ষেপ করে বলেন, “থানা মোড় থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত যেতেই আধঘণ্টা পার হয়ে যাচ্ছে। রোগী নিয়ে এই জ্যামে আটকে থাকা জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।”

‎যানজটের বিষয়ে একজন অটোচালক বলেন, “রাস্তার পাশে এলোমেলোভাবে অটো রাখা এবং কোনো ট্রাফিক শৃঙ্খলা না মানার কারণেই মূলত এই জ্যাম লাগে। অনেকে যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করায়, যার ফলে পেছনের গাড়িগুলো আটকে যায়।”

‎সাধারণ মানুষের দাবি, ঈদের এই সময়ে যানজট নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে অবৈধ ইজি বাইক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড ছাড়া পার্কিং নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা সংবাদদাতা

লেমুয়ায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ

মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা সংবাদদাতা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
লেমুয়ায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ

ফেনী সদরের নেয়াজপুরের নূরানি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় চাঞ্চল্য; অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ও মানবাধিকার সংগঠন

ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের নেয়াজপুর গ্রামে অবস্থিত একটি নূরানি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটির প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশোভন আচরণ করে আসছিলেন। তবে ভয়ভীতি ও সামাজিক সংকোচের কারণে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিষয়টি এতদিন প্রকাশ করতে সাহস পায়নি।
জানা যায়, গত ৮ মার্চ কয়েকজন ছাত্রী নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতার সময় তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া কিছু অস্বস্তিকর ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করছিল। ওই সময় পাশে থাকা এক অভিভাবক বিষয়টি শুনে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে তিনি নিজের মেয়ের কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে মেয়েটি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। এরপর ধীরে ধীরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী একই ধরনের অভিযোগের কথা জানায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ নিয়ে তাদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিষয়টি কাউকে জানালে তাদের ক্ষতি হতে পারে বলে ভয় দেখানো হয়েছিল। এ কারণে তারা দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য হয়।
এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বিষয়টি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হাফেজ রিয়াজ উদ্দিনকে জানালে ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মাদ্রাসা থেকে সরে যান এবং এরপর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি প্রকাশ না করার জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিল। এতে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরদিন ৯ মার্চ সকাল ১০টার দিকে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মাদ্রাসায় গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় মাদ্রাসায় অন্যান্য শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে সেখানে পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের ডাকা হলেও শুরুতে কেউ উপস্থিত হননি।
পরে পরিচালনা কমিটির সদস্য রহমত উল্লাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাকে পুরো বিষয়টি জানানো হয়। এ সময় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি বিচার না হওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসার নূরানি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা।
ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের দাবি, পরিচালনা কমিটির সদস্য রহমত উল্লাহ ও সহকারী শিক্ষক শাহাদাত হোসেন কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। এ সময় কথাকাটাকাটির ঘটনাও ঘটে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মমিনুল হককে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার নেতৃবৃন্দও এ ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সহকারী যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ হানিফ এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব আবুল কাশেম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় ফেনী জেলা তথ্য ও ইনফরমেশন অফিসার আবু বক্কর ছিদ্দিকও দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। এ ধরনের ঘটনায় কোনো প্রকার আপস বা গোপনীয়তার সুযোগ নেই।
এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী এর আগেও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাৎ, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং অভিভাবকদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত ফোন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব বিষয়ে এখনো প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল।

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ

নকল দুধ ও ঘি তৈরির দায়ে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
নকল দুধ ও ঘি তৈরির দায়ে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে নকল দুধ ও ঘি তৈরি হচ্ছে পাবনার ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলায় এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এমনই অবৈধ কর্মকান্ডের সত্যতা পাওয়ায় তিনটি দুগ্ধ উৎপাদনকারী এবং সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা বাজারে এ অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত রাসায়নিক, ভেজাল ডালডা ও পাউডার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা বাজারের কেয়া ডেইরিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানকালে সেখানে ক্ষতিকর ডালডা, ইউরিয়া, ডিটারজেন্ট, সোডা সহ বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে নকল দুধ তৈরির প্রমাণ পান সংশ্লিষ্টরা। এ সময় কেয়া ডেইরি স্বত্বাধিকারী আয়েশা সিদ্দিকা কেয়া কে নকল দুধ তৈরির দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন। জরিমানার টাকা দিয়ে রেহাই পান ভেজাল দুধ উৎপাদনকারী।
একই সময় পার্শ্ববর্তী এলাকার আমিনা ডেইরি এবং প্রিমিয়াম ফুডে অভিযান চালিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধ সংরক্ষণ করার দায়ে আমিনা ডেইরীকে ৩০ হাজার এবং প্রিমিয়াম ফুডকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনার সরকারি পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, ‘ভেজাল দুধ ও ঘি তৈরির গোপন সংবাদ পেয়ে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ও অন্য দু’টিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভেজাল দুধ ও ঘিতে সয়লাব হয়ে গেছে এ অঞ্চল। ভেজাল রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সোচ্চার হতে হবে বলে জানান তিনি।’
ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন বলেন, ‘এ অঞ্চলে নকল দুধ ও ঘি উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন সোচ্চার রয়েছে। যেখান থেকেই অভিযোগ আসছে সেখানেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।’

error: Content is protected !!