শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

কুড়িগ্রাম-১ আসনে জয়ী জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:০২ এএম | 28 বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রাম-১ আসনে জয়ী জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম

কুড়িগ্রাম-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সহকারী অধ‍্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুর রহমান রানা পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩১৯ ভোট।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সংসদীয় আসন কুড়িগ্রাম-১-এ (ভূরুঙ্গামারী-নাগেশ্বরী) মোট ভোটার ৫ লাখ ৬০ হাজার ২৬৬ জন। নাগেশ্বরী উপজেলায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৬৮৭ জন। এই উপজেলায় জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯২ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়েছেন। বিএনপির সাইফুর রহমান রানা ধানের শীষ প্রতীকে ৬৯ হাজার ১২৯ ভোট পেয়েছেন।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার মোট ভোটার ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭৯ জন। এই উপজেলায় জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৪৬ হাজার ৯০০ ভোট পেয়েছেন। বিএনপির সাইফুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ৫৩ হাজার ১৯০ ভোট পেয়েছেন।

এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-১ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে হারিসুল বারি রনি ও জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকে আব্দুল হাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অপর দিকে গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের বিন ইয়ামীন মোল্লা ৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

হ্নীলায় ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপপ্রচারের অভিযোগ ইউপি সদস্যের

বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৭ পিএম
হ্নীলায় ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপপ্রচারের অভিযোগ ইউপি সদস্যের

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে ঈদ-পরবর্তী একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মুহাম্মদ নুরুল হুদা লিখিত বক্তব্যে তার অবস্থান তুলে ধরেছেন।

তিনি জানান, গত ২২ মার্চ ২০২৬, ঈদের দ্বিতীয় দিন দুপুরে কয়েকটি টমটমে উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে সড়কে চলাচলের কারণে পার্শ্ববর্তী লেদা ইবনে আব্বাস মাদ্রাসায় নামাজ আদায়ে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তার কাছে অভিযোগ জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি টমটমের সাউন্ড বন্ধ করে দেন।

তার দাবি, এ সময় এক চালক অতিরিক্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড বক্সটি সাময়িকভাবে নামিয়ে রাখা হয়। পরে জোহরের নামাজ শেষে ঘটনাস্থলে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, নিজেকে হ্নীলা উত্তর শাখা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয়দানকারী জামাল হোছন নামের এক ব্যক্তি সেখানে এসে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ডেকে এনে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এরপরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অশ্রাব্য ভাষায় পোস্ট দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ইউপি সদস্য।

তিনি আরও বলেন, পূর্বেও একটি রাজনৈতিক মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যা তিনি হয়রানিমূলক বলে দাবি করেন। বর্তমান ঘটনাটিও একইভাবে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

৭৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট: প্রান্তিক কৃষকের দুশ্চিন্তা বাড়ছে

ডিমলায় ভয়াবহ ঝড় ও শিলাবৃষ্টি: ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

নীলফামারী প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৯ পিএম
ডিমলায় ভয়াবহ ঝড় ও শিলাবৃষ্টি: ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় আকস্মিক দমকা ঝড় ও বড় আকারের শিলাবৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) রাত ১২টার পর শুরু হওয়া এই দুর্যোগে কৃষি খাতের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি বসতভিটা ও গাছপালারও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা।

উপজেলা সদরসহ গয়াবাড়ি, বালাপাড়া, পশ্চিম ও পূর্ব ছাতনাই, খালিশা চাপানি, ঝুনাগাছ চাপানি, নাউতারা, টেপাখরিবাড়ি এবং খগাখরিবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ দমকা হাওয়া শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যে তা তীব্র ঝড়ে রূপ নেয় এবং সঙ্গে শুরু হয় বড় আকারের শিলাবৃষ্টি। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিটি শিলার ওজন ছিল প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অত্যন্ত বিরল ও ভয়াবহ।

এই শিলাবৃষ্টির আঘাতে আম ও লিচুর মুকুল ব্যাপকভাবে ঝরে পড়ে। পাশাপাশি গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, আলু, কাঁচামরিচ ও বিভিন্ন শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই জমির ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে ভুট্টা ও মরিচের খেতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, প্রায় ৭৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভুট্টা ৫০ হেক্টর, গম ১০ হেক্টর, মরিচ ১২ হেক্টর এবং শাকসবজি ৩ হেক্টর জমি রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে এবং চূড়ান্ত ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শুটিবাড়ি এলাকার কৃষক আবুল কাশেম বলেন, “তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যার বেশিরভাগই ঋণ। এক রাতের ঝড়েই সব শেষ হয়ে গেল। এখন ঋণ শোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

নাউতারা ইউনিয়নের সালহাটি এলাকার কৃষক আমিনুর রহমান ও সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ তিতপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ জানান, তারা ঋণ নিয়ে ফসল আবাদ করেছিলেন। হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে তাদের অধিকাংশ ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

উপজেলা সদরের হাবিবা নার্সারির পরিচালক শাহজাহান ইসলাম জানান, তার নার্সারির চারা গাছ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা খুব কঠিন। সরকারি সহায়তা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না।”

স্থানীয়দের মতে, গত ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে এত বড় আকারের শিলাবৃষ্টি এই এলাকায় দেখা যায়নি। অনেকের বসতঘরের টিনের চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গাছপালা ভেঙে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, বীজ ও সার সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা দ্রুত পুনরায় চাষাবাদ শুরু করতে পারেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, “ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষির পাশাপাশি অনেক পরিবারের ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর সহায়তা না পেলে কৃষক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জব্দকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই পেট্রোল গায়েবের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দকৃত পেট্রোল গায়েবের অভিযোগ

গোলাম মোস্তফা, তাড়াশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:০৩ পিএম
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দকৃত পেট্রোল গায়েবের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দকৃত পেট্রোল গায়েবের অভিযোগ উঠেছে খোদ জব্দকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই। শুক্রবার বিনসাড়া বাজারে মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান। পরে বিক্রির জন্য খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনে নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমবায় ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, দুই ড্রাম পেট্রোল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনে নিয়ে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান। জন প্রতি এক লিটার করে এক ড্রাম বিক্রি করেন। আরেক ড্রাম মান্নাননগর মটর শ্রমিক ফিলিং স্টেশনে বিক্রির কথা বলে নিয়ে যান।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় ও বলতে শোনা যায়, “ বিনসাড়া বাজারে জব্দকৃত এক ড্রাম পেট্রোল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে বিক্রি করা হয়েছে। আরেক ড্রাম ইউএনও স্যার নিয়ে যাচ্ছেন।”

অপরদিকে বিনসাড়া বাজারের মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী শাহ আলম মোল্লা বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করেন ইউএনও। অথচ, শুধু জরিমানা আদায়ের রশিদ দেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত পেট্রোলের কোন কাগজ দেওয়া হয়নি। রাত ১১ দিকে তেলের খালি ড্রাম ফেরত দিয়ে গেছেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান বলেন, অতিরিক্ত দামে বিক্রির অপরাধে ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়। একই অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জব্দকৃত দুই ড্রাম তেল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে ১ লিটার করে জন প্রতি বিক্রি করা হয়েছে।

ছবি সংযুক্ত: ইউএনও তাড়াশ।

error: Content is protected !!