মোঃ কাওছার মিয়া দিপু, বগুড়া
বগুড়ার আলোচিত হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী আদালতের
বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলায় বগুড়ার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম (ওরফে) হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেছেন, বগুড়ার একটি আদালত। বিউটি পার্লালের মালিক সাদিয়া রহমান মিথিলাকে নায়িকা বানানো ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণসহ মারপিট করে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ এ মামলা দায়ের করেন ওই যুবতী। আজ মঙ্গলবার বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক আনোয়ারুল হক এই গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন।
আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম (ওরফে) হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলী আসগার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সাদিয়া রহমান মিথিলা বাদি হয়ে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন টাইব্যুনাল নং-১ এর আদালতে (গত ৪ মে) এই মামলা দায়ের করেন। ওই ট্রাইব্যুনাল হতে মামলার অভিযোগ বিষয়ে তদন্তের জন্য পিবিআই বগুড়ার পুলিশ সুপারের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়। ওই ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগে বলা হয়েছে যে, বগুড়ার এরুলিয়ার বানদিঘী পশ্চিমপাড়ার মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে আসামী আশরাফুল ইসলাম (ওরফে) হিরো আলম, ওই বাদিনীকে ছোট পর্দার নায়িকা বানানোর লোভ দেখায়। এর পরে হিরো আলম ওই বাদিনীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে। জনৈক মৌলভী ডেকে এনে বাদিনীর সাথে হিরো আলম কবুল পড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করতে থাকে। এরই মধ্যে শর্ট ফ্লিম তৈরীর জন্য তার কাছ হতে হিরো আলম ১৫ লাখ টাকা কর্জ নেয়। পরে বাদিনী হিরো আলমকে বিয়ের কাবিনের জন্য চাপ দিলে হিরো আলম ওই বাদিনীকে গত ১৮ এপ্রিল বগুড়ার বাড়িতে নিয়ে আসে এবং তাকে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বাদিনী তার গর্ভের সন্তান নস্ট করতে রাজী না হলে আসামী আশরাফুল ইসলাম ওরফে হিরো আলম গত (২১ এপ্রিল) বেলা ১০ টার দিকে নিজ বাড়িতে তাকে মারপিট করলে বাদীনির শরীর থেকে রক্ত ক্ষরন শুরু হয়। এরপর ওই দিন তাকে বগুড়া শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করে দিলে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়। পরে (২৪ এপ্রিল) তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে (২৬ এপ্রিল) পর্যন্ত চিকিৎসা গ্রহন করেন মর্মে অভিযোগে বলা হয়েছে। পিবিআই বগুড়ার পুলিশ পরিদর্শক কবিরুল ইসলাম অভিযোগটি তদন্ত করে গত ২০ জানুয়ারী স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদন ওই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হলে ওই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে ওই আদেশ দেন।














