সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

সাব্বির আলম বাবু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

পরিবেশবান্ধব ও নির্মানশৈলীর অপূর্ব নির্দশন চরফ্যাশন খাসমহল মসজিদ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৮ পিএম | 74 বার পড়া হয়েছে
পরিবেশবান্ধব ও নির্মানশৈলীর অপূর্ব নির্দশন চরফ্যাশন খাসমহল মসজিদ

পরিবেশবান্ধব নির্মাণশৈলী অপূর্ব নিদর্শন ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় খাসমহল মসজিদ। সিরামিক ইটের গাঁথুনিতে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে গড়া মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় সাড়ে চার হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মুসল্লিদের জন্য রয়েছে প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা। ৯০ বছর আগে ব্রিটিশদের গড়া পরিকল্পিত জনপদ ভোলার চরফ্যাশন শহরের প্রাণকেন্দ্রে জ্যাকব টাওয়ারের পাশে নির্মিত এই মসজিদটি।

নির্মাণশৈলী সিরামিক ইটের গাঁথুনির ফাঁকে ফাঁকে নির্মল বাতাস ও উপরে মাকড়সা আকৃতির কাঁচের গম্বুজ ভেদ করে সূর্যের আলোকরশ্মি ছড়াচ্ছে মসজিদ জুড়ে। ভিতর বাহিরে নান্দনিক লাইটিং আর প্রকৃতিবান্ধব নির্মাণ শৈলীর ডিজাইন এই মসজিদ মেলবন্ধনে আবদ্ধ করেছে ইসলাম প্রিয় ধর্মপ্রাণ মানুষকে। মসজিদটির ভেতরে প্রাকৃতিকভাবেই আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ইটের ফাঁকে ফাঁকে নির্মল বাতাস এবং বৈদ্যুাতিক ফ্যানের বাতাসেই পুরো মসজিদ শীতল থাকবে। কোনো ধরনের চাকচিক্য ছাড়াই মসজিদটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এর ভেতরে ঢুকলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ছোঁয়ায় যে কারো মন ভালো হয়ে যায়। ভূগর্ভস্থ মেঝেসহ চারতলা বিশিষ্ট মসজিদটিতে একসঙ্গে সাড়ে চার হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। আলাদা প্রবেশ পথসহ ৫০০ নারীর নামাজ আদায়ের ব্যবস্থাও আছে এই মসজিদে। মসজিদের ছাদে বিশাল আকৃতির কাচের গম্বুজ স্থাপন করা হয়েছে। ফলে দিনের বেলায় ভেতরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানোর প্রয়োজন হয় না। রয়েছে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের থাকার ব্যবস্থাসহ দুই শতাধিক লোকের অজু, গোসল ও টয়লেটের ব্যবস্থা।
জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে মসজিদটি নির্মাণ করতে পাঁচ বছর সময় লেগেছে। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। উপজেলা পর্যায়ে বাংলাদেশে এই প্রথম নারীদের নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এই মসজিদে। বর্তমানে এই মসজিদে জুমার নামাজের ইমামতি করেন মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন।
চরফ্যাশন পৌর প্রকৌশলী শামিম হাসান জানান, ভোলা জেলা পরিষদের উদ্যোগে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই মসজিদের নকশা করেছেন ভোলার কৃতী সন্তান স্থপতি এ. কে. এম কামরুজ্জামান লিটন।

নির্মিত এই মসজিদ ১৭ হাজার বর্গফুট জায়গায় নির্মাণ করা হয়। পরিবেশবান্ধব রাখতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টোন চিপসের সমন্বয়ে সাদা সিমেন্টের প্লাস্টার করা হয়েছে। এই প্লাস্টার ১০০ বছরের বেশিও স্থায়ী হবে। নির্মাণ ব্যয়ের ২৫ কোটি টাকার মধ্যে চরফ্যাশন পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকা ব্যয় করে জ্যাকব টাওয়ার ও খাসমহল মসজিদের আশপাশে ওয়াকওয়ে ও ফুলের বাগান করা হয়েছে।
মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত দুই মাস ধরে এ মসজিদে খতিব হিসেবে আমি আছি। আল্লাহর এই ঘরটি আমার কাছে বেশ ভালো লাগে। খুব মনোরম এবং নান্দনিকভাবে মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে। মসজিদটি খোলামেলা হওয়ায় নামাজ আদায় করেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন মুসল্লিরা। রমজান মাসে তারাবিসহ প্রতি ওয়াক্তে নামাজ আদায় করতে মুসল্লিদের ব্যাপক আগমন ঘটে মসজিদে।

গোলাম মোস্তফা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)

সিরাজগঞ্জে জব্দ পেট্রোলের হিসাব না মেলায় আজ তদন্ত

গোলাম মোস্তফা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৩:১৯ পিএম
সিরাজগঞ্জে জব্দ পেট্রোলের হিসাব না মেলায় আজ তদন্ত

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দকৃত পেট্রোল গায়েবের অভিযোগ ওঠে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে। তবে রবিবার (২৯ মার্চ) জব্দ করা পেট্রোল বিক্রির টাকা জমা দেওয়া হয়েছে সরকারি কোষাগারে।

এদিকে আজ সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর ১২ টায় সরেজমিনে তদন্ত কার্য অনুষ্ঠিত হবে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. নুর নাহার বেগম স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চত হওয়া গেছে।
অপরদিকে জব্দকৃত পেট্রোল গায়েব করা হয়েছে দাবি করে প্রত্যক্ষদর্শী মো. মোরছালিন খান নামে এক যুবক রবিবার (২৯ মার্চ) সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অনুলিপি দেওয়া হয়েছে অভিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয়।
প্রশাসন সূত্র জানায়, শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিনসাড়া বাজারে মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান। পরে বিক্রির জন্য খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনে নেওয়া হয়। সেদিনই জব্দ করা দুই ড্রাম পেট্রোল থেকে এক ড্রাম বিক্রির পর আরেকটি ড্রামের পেট্রোল গায়েবের অভিযোগ উঠে ইউএনও নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে।
খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী শরিফ ও সুজন বলেন, জব্দকৃত পেট্রোল আমরা দুইজন বিক্রি করে দিয়েছি। ২৫০ লিটারের কিছু কমই হবে, বিক্রি করা হয়েছে। বাকি পেট্রোল ইউএনও নিয়ে গেছেন।
এ দুইজন কর্মচারী আরও বলেন, আমরা শুনেছি মান্নান নগর মটর শ্রমিক ফিলিং স্টেশনে এক ড্রাম তেল বিক্রি করা হয়েছে।
আলমগীর হোসেন ও রিফাত হোসেন নামে মান্নান নগর মটর শ্রমিক ফিলিং স্টেশনের দুই কর্মচারী বলেন, জব্দ করা পেট্রোল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে বিক্রি করা হয়েছে। আমাদের মান্নান নগর মটর শ্রমিক ফিলিং স্টেশন থেকে জব্দ করা কোন তেল বিক্রি করা হয়নি।
লিখিত অভিযোগ সূত্র বলছে, অভিযোগকারী উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মাটিয়া মালিপাড়া গ্রামের ফরিদুল ইসলামের ছেলে মো. মোরছালিন খান একজন প্রত্যক্ষদর্শী। জব্দ করা পেট্রোল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে বিক্রির সময় তিনি সেখানে ছিলেন। দুই ড্রাম পেট্রোলের মধ্যে এক ড্রাম বিক্রি করা হয়। আরেক ড্রাম ইউএনও নুসরাত জাহান নিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। তখন তিনি (ইউএনও) বলেন ডিসি অফিসের নির্দেশ, “ এক ড্রাম পেট্রোল ফেরত নিয়ে যেতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা—কর্মচারি রয়েছেন, তাদের দিতে হবে। ” এ ঘটনার ভিডিও ধারন করেন লিখিত অভিযোগকারী।
রবিবার (২৯ মার্চ) জব্দ করা তেলের আরেকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া যায়। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, “ অটোভ্যানের উপর দুইটি ড্রাম। এক ব্যক্তি ড্রামে হাত দিয়ে বোঝার চেষ্টা করছেন ড্রাম ভর্তি পেট্রোল আছে কি না। তাকে বলতে শোনা যায়, এই ড্রাম ভরা নাকি। এটা কি নিয়ে যাওয়া হবে। এটা কি ইউএনও সাহেবের খাদ্য !
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ঢাকার কবি নজরুল ইসলাম সরকারি কলেজের ছাত্র ও নওগাঁ ইউনিয়নের মাটিয়া গ্রামের আলামিন হোসেনের ছেলে রাসেল বলেন, ইউএনও নুসরাত দুই ড্রাম তেলের মধ্যে এক ড্রাম নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন আমরা বাধা দেই। ইউএনওকে বলি, জব্দকৃত সব তেল বিক্রি করে যেতে হবে।
বিনসাড়া বাজারের মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী শাহ আলম মোল্লা বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করেন ইউএনও। অথচ, শুধু জরিমানা আদায়ের রশিদ দেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত পেট্রোলের কোন কাগজ দেওয়া হয়নি। রাত ১১ দিকে তেলের খালি ড্রাম ফেরত দিয়ে গেছেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান দৈনিক উজ্জ্বল বাংলাদেশ কে বলেন, অতিরিক্ত দামে বিক্রির অপরাধে ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়। একই অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জব্দকৃত দুই ড্রাম পেট্রোল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে ১ লিটার করে জন প্রতি বিক্রি করা হয়েছে। রবিবার সরকারি কোষাগারে জব্দ করা পেট্রোল বিক্রির টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযোগকারী সম্ভাবত পাঁচটার পরে অভিযোগ দিয়েছেন। কালকে হয়তো ডাক ফাইলে পাবো।

অবৈধ মজুতকারীদের তথ্য দিলে ১ লাখ টাকা পুরস্কার

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৩:১১ পিএম
অবৈধ মজুতকারীদের তথ্য দিলে ১ লাখ টাকা পুরস্কার

দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে সঠিক তথ্য সরবরাহকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ সোমবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি জোরদার করতে জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবেই তথ্যদাতাদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা যদি জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত কিংবা পাচারের নির্ভরযোগ্য তথ্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তুলে দেয়, তবে যাচাই শেষে তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।

সরকারি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি না করে তেল গোপনে মজুত রেখে বেশি দামে বাজারজাত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে উচ্চ মূল্যে আমদানি করা জ্বালানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে একাধিক মজুত ও পাচারচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

পুরস্কারের বিষয়ে মূল বিষয়গুলো হলো: তথ্য দাতা সহায়তাকারীকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সম্মানী দেওয়া হবে; তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তির যাবতীয় পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে যাতে তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়; সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) তথ্য প্রদানকারীর পুরস্কারের অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত করবেন; এই আর্থিক সম্মানী দেশের সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুরস্কারের অর্থ প্রদান প্রক্রিয়াসংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। ফলে তথ্য যাচাই ও প্রশাসনিক অনুমোদনের পর দ্রুত অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ থাকবে।

এদিকে, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং জ্বালানি বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রতিদিন তেল সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনকেও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ের কোনো ঘাটতি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

সরকার একই সঙ্গে ভোক্তাপর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতেও নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কিউআর কোড, ব্যানার, লিফলেট বিতরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ভিত্তিক প্রচারের মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয় ও অপব্যবহার রোধে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

 

সক্ষম শারীরিক প্রতিবন্ধীরা ক্রীড়া কার্ড পাবেন

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৩:১০ পিএম
সক্ষম শারীরিক প্রতিবন্ধীরা ক্রীড়া কার্ড পাবেন

শারীরিক প্রতিবন্ধী যাঁরা ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম তাঁদেরও ক্রীড়া কার্ডের আওতায় আনবে সরকার। ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয়; বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।’

খেলাধুলায় পরাজয়ের অর্থ কিন্তু হেরে যাওয়া নয়; বরং জয়েরই একটা অংশ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আলবার্ট আইনস্টাইন যেমন বলেছিলেন, যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি, সে কখনো কিছু করেইনি।’

সরকার খেলোয়াড়দেরকে ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যাঁরা যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তাঁরা যাতে তাঁদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের এবং পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপোড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দেরকে ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই পর্যায়ক্রমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদান এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছে।’

আগামী ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ফার্মার্স কার্ড বা কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। এভাবেই দেশ এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে শুরু হলো ‘ক্রীড়া কার্ড’।

তিনি বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী যাঁরা ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম তাঁরাও ক্রীড়া কার্ড পাবেন। ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ —এই প্রতিপাদ্যে সরকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী কিংবা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি যাঁরা খেলাধুলায় অংশ নিতে চান, তাঁদের জন্যও দেশে-বিদেশে সব ধরনের সুবিধা প্রদান করতে সার্বিক উদ্যোগ নিয়েছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে বলেন, ‘পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর নয় বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করুন। দেশে বিদেশে বিজয়মাল্য বরণ করে বিশ্ব ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে আপনাদের সাফল্যজনক অগ্রযাত্রায় কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।’

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকার ব্যাপক এবং বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ক্রিকেট এবং ফুটবল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় খেলা। তবে এসব খেলার পাশাপাশি আরচারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারাম, ভারোত্তোলন, উশু, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স, কারাতে, সেপাক টাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্রিজ, ফুটসাল এবং ব্যাডমিন্টনের মতো আরও অনেক ক্রীড়া রয়েছে যেসব খেলা সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে সক্ষম। আপনারা দেখেছেন সম্প্রতি সাফ নারী ফুটসালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী ছেলে-মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই যাতে খেলাধুলার সুযোগ পায় এ জন্য শিক্ষা কারিকুলামে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের সন্তানেরা পড়ালেখার পাশাপাশি ছোটবেলায় নিয়মিত খেলাধুলায়ও আগ্রহী এবং পারদর্শী হয়ে উঠবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইতিমধ্যেই খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ শুরু করেছে।’

দেশব্যাপী নতুন পরিসরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু হতে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি এক পর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে সারা দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

এর আগে আজ সকালে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গেই সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এক লাখ টাকা পৌঁছে যায়। এ সময় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ‘ক্রীড়া কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা প্রদান করেন তিনি।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন— মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শাপলা হলের বাইরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

error: Content is protected !!