বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২
বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ

শতাব্দীর প্রাচীনতম পানির কল সংরক্ষণ

Md. Mokbul Hossain
Md. Mokbul Hossain - Mymensingh Bureau Chief, Mymensingh প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম | 85 বার পড়া হয়েছে
শতাব্দীর প্রাচীনতম পানির কল সংরক্ষণ

ময়মনসিংহ নগরীর ট্রাংকপট্টিতে অবস্থিত একটি শতাব্দী প্রাচীন পানির কল সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই সংরক্ষণ কার্যক্রমটি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন।

আজ (২৫ জানুয়ারি ২০২৬)বেলা ১১ টায় এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সংরক্ষণ কাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। ময়মনসিংহ অঞ্চল পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি, এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। সংরক্ষণ কাজটি পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ, ট্রাংকপট্টি জহির উদ্দিন রোড ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হয়ে উদ্বোধন করেন।

জানা যায়, ১৮৯২ সালে ইংল্যান্ডে তৈরি এই প্রযুক্তির পানির কলের দ্বারা সর্বপ্রথম ময়মনসিংহ নগরীতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়। তৎসময়ে ভারতের হুগলীতে পানির কল স্থাপিত হলে মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য্য চৌধুরী এই প্রযুক্তি ময়মনসিংহে নিয়ে আসেন। নাগরিকদের বিশুদ্ধ পানির জন্য নগরীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়। রাজ রাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কস হতে কলসমূহে পানি সরবরাহ করা হতো। কালের আবর্তে সংরক্ষণের অভাবে শতাব্দী প্রাচীন পানির কলগুলো বেহাত/বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে একমাত্র পানির কল রয়েছে ময়মনসিংহ নগরীর ট্রাংকপট্টিতে। এ অবস্থায়, গত ১২ আগস্ট ২০২৫ কলটি পরিদর্শন করে ময়মনসিংহ নগরীতে সর্বপ্রথম বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থার স্মৃতিস্বরুপ পুরাকীর্তি নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করে প্রজন্মের সামনে তোলে ধরার দাবী জানায় পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি। পরবর্তীতে এ দাবীতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ প্রশাসক, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। এই প্রেক্ষিতে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন শতাব্দী প্রাচীন পানির কলটির সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করে।

পুরাকীর্তি সংরক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করে পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, পুরাকীর্তি জাতির ক্রমবিকাশের চাক্ষুষ ইতিহাস। যার মাধ্যমে প্রজন্ম জাতির ক্রমবিকাশের ইতিহাস সমন্ধে সম্যখ জ্ঞান লাভ করে। বাংলাদেশের রয়েছে পুরাকীর্তির ভান্ডার। যার একটি উল্লেখযোগ্য ভান্ডার আছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে। ময়মনসিংহ নগরীর ট্রাংকপট্টির এই পানির কলটি ময়মনসিংহের পুরাকীর্তি ভান্ডারের অংশ। এটি সংরক্ষণের ফলে প্রজন্ম জানতে পারবে ময়মনসিংহ নগরীতে সর্বপ্রথম কখন কিভাবে নাগরিকদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে শত শত পুরাকীর্তি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে, যা আজ ধ্বংসের পথে। এসব অবহেলিত পুরাকীর্তি সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক স্বপন ধর, প্রকৌশলী এম এ জিন্নাহ, কবি সরকার আজিজ, কার্যকরী সদস্য সাংবাদিক শাফিয়েল আলম সুমন, মো: আব্দুল মান্নান খান, সাংবাদিক সজিব রাজভর বিপিন, শাহরিয়ার আহমেদ আশিক, ট্রাংকপট্টি জহির উদ্দিন রোড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো: রফিক ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মো: ফারুক ভূঁইয়া, সিনিয়র সাংবাদিক মো: খসরু আহমেদ এবং স্থানীয় অসংখ্য ব্যক্তিবর্গ।

জয় ই মামুন

মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

জয় ই মামুন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কেটে ইট তৈরির অভিযোগে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর ৫(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১) ধারা অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে যেসব ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে সেগুলো হলো- কে এফ সি ব্রিকস (বেরুন্ডি) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স সোহানা ব্রিকস (খোলাপাড়া) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স এ এ বি অ্যান্ড কোং (গাড়াদিয়া) ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স জে বি সি ব্রিকস (গোবিন্দল) ২ লাখ টাকা, মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-১ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা,
মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-২ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মেসার্স এম আর এম ব্রিকস (রামকান্তপুর) ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অভিযানটি পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক মো. মোজাফফর খান।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‍্যাব-৪ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা সহায়তা প্রদান করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে পরিবেশ ধ্বংস রোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা।

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী

জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ী পৌর (৪নং ওয়ার্ড) ডাঙ্গপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

নিহত মিমনুর রহমান ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন (আল্লীর) প্রথম পুত্র এবং বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ তিনি ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে ব্যানার হাতে নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা মোছা: মনোয়ারা বেগম, সহকারী প্রধান শিক্ষক মহুবর রহমান, শিক্ষক আব্দুল হাই, মিজানুর রহমান, স্বপন কুমার রায়, ভগীরথ চন্দ্র রায় এবং সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা সুলতানা ও শিলা রানী রায়সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন নিরপরাধ শিক্ষার্থীর এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসঙ্গে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে, নিহতের পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত বিচার প্রত্যাশা করছে। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এমন ঘটনা আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে চারতলা ভবন

আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

মেহেদী হাসান রিপন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১১ পিএম
আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

যশোরবাসীর পুলিশি সেবা আরও বেগবান ও আধুনিক করতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগে হাত দিয়েছে সরকার। শহরের জরাজীর্ণ কোতোয়ালি মডেল থানা ভবনটি ভেঙে সেখানে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক চারতলা ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ষাট দশকে নির্মিত বর্তমান থানা ভবনটি দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারের দেশব্যাপী ১০৭টি থানা আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় এই সংস্কার কাজ শুরু হচ্ছে। যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২৬ হাজার স্কয়ার ফিটের এই ভবনের মূল কাঠামো বা ফাউন্ডেশন হবে ছয়তলা পর্যন্ত, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি চারতলা হিসেবে নির্মিত হবে। ঝিনাইদহের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পেয়েছে। আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেবাপ্রার্থী এবং পুলিশ সদস্যদের সুবিধার্থে ভবনের প্রতিটি তলা সুনিপুণভাবে সাজানো হয়েছে:
* প্রথম তলা: অভ্যর্থনা কেন্দ্র এবং দাপ্তরিক অফিস।
* দ্বিতীয় তলা: হাজতখানা ও প্রশাসনিক শাখা।
* তৃতীয় তলা: অফিস এবং নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য ব্যারাক।
* চতুর্থ তলা: পুরুষ পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক ব্যারাক।

অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চলবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে

নির্মাণ কাজ চলাকালীন জনসেবা যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য থানার যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পরিচালিত হবে। আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান ভবনটি খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে জনবল অনুযায়ী চাঁচড়া ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় পুলিশ সদস্যদের সাময়িকভাবে কিছুটা আবাসন সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, উন্নত ও আধুনিক পুলিশি সেবার স্বার্থে এই সাময়িক কষ্টটুকু মেনে নিতে হবে। নতুন ভবন নির্মিত হলে যশোরবাসীকে সেবা প্রদানের মান ও পুলিশের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

error: Content is protected !!