সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ

শতাব্দীর প্রাচীনতম পানির কল সংরক্ষণ

Md. Mokbul Hossain
Md. Mokbul Hossain - Mymensingh Bureau Chief, Mymensingh প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম | 84 বার পড়া হয়েছে
শতাব্দীর প্রাচীনতম পানির কল সংরক্ষণ

ময়মনসিংহ নগরীর ট্রাংকপট্টিতে অবস্থিত একটি শতাব্দী প্রাচীন পানির কল সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই সংরক্ষণ কার্যক্রমটি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন।

আজ (২৫ জানুয়ারি ২০২৬)বেলা ১১ টায় এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সংরক্ষণ কাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। ময়মনসিংহ অঞ্চল পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি, এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। সংরক্ষণ কাজটি পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ, ট্রাংকপট্টি জহির উদ্দিন রোড ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হয়ে উদ্বোধন করেন।

জানা যায়, ১৮৯২ সালে ইংল্যান্ডে তৈরি এই প্রযুক্তির পানির কলের দ্বারা সর্বপ্রথম ময়মনসিংহ নগরীতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়। তৎসময়ে ভারতের হুগলীতে পানির কল স্থাপিত হলে মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য্য চৌধুরী এই প্রযুক্তি ময়মনসিংহে নিয়ে আসেন। নাগরিকদের বিশুদ্ধ পানির জন্য নগরীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়। রাজ রাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কস হতে কলসমূহে পানি সরবরাহ করা হতো। কালের আবর্তে সংরক্ষণের অভাবে শতাব্দী প্রাচীন পানির কলগুলো বেহাত/বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে একমাত্র পানির কল রয়েছে ময়মনসিংহ নগরীর ট্রাংকপট্টিতে। এ অবস্থায়, গত ১২ আগস্ট ২০২৫ কলটি পরিদর্শন করে ময়মনসিংহ নগরীতে সর্বপ্রথম বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থার স্মৃতিস্বরুপ পুরাকীর্তি নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করে প্রজন্মের সামনে তোলে ধরার দাবী জানায় পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি। পরবর্তীতে এ দাবীতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ প্রশাসক, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। এই প্রেক্ষিতে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন শতাব্দী প্রাচীন পানির কলটির সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করে।

পুরাকীর্তি সংরক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করে পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, পুরাকীর্তি জাতির ক্রমবিকাশের চাক্ষুষ ইতিহাস। যার মাধ্যমে প্রজন্ম জাতির ক্রমবিকাশের ইতিহাস সমন্ধে সম্যখ জ্ঞান লাভ করে। বাংলাদেশের রয়েছে পুরাকীর্তির ভান্ডার। যার একটি উল্লেখযোগ্য ভান্ডার আছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে। ময়মনসিংহ নগরীর ট্রাংকপট্টির এই পানির কলটি ময়মনসিংহের পুরাকীর্তি ভান্ডারের অংশ। এটি সংরক্ষণের ফলে প্রজন্ম জানতে পারবে ময়মনসিংহ নগরীতে সর্বপ্রথম কখন কিভাবে নাগরিকদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে শত শত পুরাকীর্তি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে, যা আজ ধ্বংসের পথে। এসব অবহেলিত পুরাকীর্তি সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক স্বপন ধর, প্রকৌশলী এম এ জিন্নাহ, কবি সরকার আজিজ, কার্যকরী সদস্য সাংবাদিক শাফিয়েল আলম সুমন, মো: আব্দুল মান্নান খান, সাংবাদিক সজিব রাজভর বিপিন, শাহরিয়ার আহমেদ আশিক, ট্রাংকপট্টি জহির উদ্দিন রোড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো: রফিক ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মো: ফারুক ভূঁইয়া, সিনিয়র সাংবাদিক মো: খসরু আহমেদ এবং স্থানীয় অসংখ্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী

নোয়াখালীতে মাদক দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
নোয়াখালীতে মাদক দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদক সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে মো. নিরব (২৬) নামে এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে রোববার দুপুরে উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মাইজচরা গ্রামের বাংলাবাজারের উত্তর পাশে কালা দুলালের বাপের বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নিরবকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহত নিরব একই ওয়ার্ডের আব্দুল গনি বাড়ির আব্দুল গনির ছেলে। তিনি পেশায় একজন স’মিল শ্রমিক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিরব কিছুদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। কয়েকদিন আগে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক রুবেল মাঝির (২৮) ভাতিজার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
ওই বিরোধের জেরে রোববার সকাল ১০টার দিকে নিরব তার তিন সহযোগীকে নিয়ে বাংলাবাজারের উত্তর পাশে রুবেল মাঝির ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছুরিকাঘাতে রুবেল মাঝির ৩-৪ জন অনুসারী আহত হয়।

পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে নিরবের অনুসারীরা প্রতিপক্ষ রুবেল মাঝির বাড়ির সামনে চলে গেলে রুবেল মাঝির লোকজন ধাওয়া দিয়ে নিরবকে আটক করে। পরে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিরবকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. জহির ওরফে আব্দুল গনি রোববার রাতে ২২ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে রোববার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে পূর্ব মাইজচরা গ্রাম থেকে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

SIRAJUL KABIR BULBUL

উখিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহ সাধারণ সম্পাদক কারানির্যাতিত সাবেক, ছাত্রনেতা, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

SIRAJUL KABIR BULBUL প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
উখিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহ সাধারণ  সম্পাদক কারানির্যাতিত সাবেক, ছাত্রনেতা, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

SIRAJUL KABIR BULBUL

নিরাপত্তা ও বৈধতা নিয়েও শঙ্কা, সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি

সৌদি প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
সৌদি প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন “সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিম”-এর পরিচালক মো: সেলিম রানা। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে সকল প্রবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তার দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, “যারা সৌদি আরবে আছেন, তারা অপ্রয়োজনে বাইরে বের হবেন না। আকামার মেয়াদ ও কাগজপত্র বৈধ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক হওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে উমরাহ বা হজের উদ্দেশ্যে চলাচলের সময়ও অনেক প্রবাসী সমস্যায় পড়ছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রবাসীদের আটক করে জেল খাটিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে শত শত বাংলাদেশি প্রবাসী চরম দুর্ভোগে পড়ছেন এবং তাদের পরিবারগুলোও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে।
১০১ টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে অনেক প্রবাসী কান্না ও আহাজারির মধ্য দিয়ে দেশে ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় হতাশা বাড়ছে প্রবাসীদের মধ্যে।
এ বিষয়ে ১০১ টিমের সদস্য ফয়সাল, জাহিদ ও নাঈম বলেন, “আমরা জানতে চাই—বৈধভাবে সৌদি আরবে থাকার পরও কেন আমরা নিরাপদ নই? আমাদের সমস্যা কে দেখবে?”
তারা আরও দাবি জানান, বাংলাদেশের সরকারকে দ্রুত এ বিষয়ে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয় এবং ভিসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। তাই প্রবাসীদের সবসময় নিজেদের কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপসংহার:
বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি প্রবাসীদের জন্য সচেতনতা ও সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপই পারে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও আস্থার জায়গা পুনরুদ্ধার করতে।

error: Content is protected !!