কৃষকদের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন
তাড়াশে বড়ই চাষে সফল রাহাত খান রুবেল
সিরাজগঞ্জ, তাড়াশ উপজেলার মো: রাহাদ খাঁন রুবেল নামের এক ব্যক্তি বিভিন্ন উন্নত জাতের বড়ই চাষ করে ব্যাপক সফলতা লাভ করেছেন।
তিনি এলাকার অন্য কৃষকদের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন তার এই সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই তার মতো করে বড়ই বাগন গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন।
নওগাঁ ইউনিয়নের সান্তান গ্রামের আলীম হোসেনের নিজস্ব বিশ বিঘা জমির সঙ্গে সংলগ্ন আরও ৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মোট ২৫ বিঘা জমিতে বড়ই বাগান গড়ে তুলেছেন।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং সহযোগিতায় এখন থেকে ৭ মাস আগে তিনি বড়ই গাছ রোপণ করেন তিনি।
জমিতে উন্নত জাতের বলসুন্দরী, থাইকুল, আপেল কুল এবং কাশ্মীরি জাতের মোট ১ হাজার ২০০শটি গাছ রোপণ করেন। জমি তৈরি, চারা ক্রয়, রোপণ, পরিচর্যা এবং বড়ই উত্তোলন পর্যন্ত তার মোট খরচ ধরা হয়েছে ২ লাখ টাকা। এ বছর প্রথম তার বাগানের গাছসমূহে বড়ই ধরেছে। গাছে গাছে এখন ব্যাপক সংখ্যক বড়ই শোভা পাচ্ছে।বড়ইগুলো আকারে যেমন বড় তেমনই খেতেও সুমিষ্ট হয়েছে।
কৃষক রাহাদ খাঁন রুবেল বর্তমান বাজার অনুযায়ী প্রত্যাশা করছেন তিনি প্রথম বছরই প্রায় ৪ লাখ টাকার বড়ই বিক্রি করতে সক্ষম হবেন। সেই হিসেবে প্রথম বছরই তিনি জমি থেকে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা লাভ করবেন, যা অন্য কোনো ফসল থেকে কখনো সম্ভব নয়।
পরবর্তী বছরগুলোতে গাছ আরও পরিপক্ব হলে রড়ইয়ের উৎপাদন আরও বাড়বে। এতে আরও বেশি আর্থিক লাভ আসবে।
স্থানীয় পার্শ্ববর্তী আগ্রহী অনেক কৃষক রাহাদ খাঁন রুবেলের সঙ্গে যেগাযোগ করতে শুরু করেছেন। এমনকি কৃষি বিভাগের সঙ্গে ওইসব আগ্রহী কৃষক যোগাযোগ করছেন পরামর্শ নিয়ে নিজেদের জমিতে বাগান সৃজন করতে।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা বলেন, অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উন্নত জাতের বড়ই চাষ শুরু হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে অনেক বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। যার ফলে এ বছর ৩৫০ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের বড়ই চাষ হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় রাহাদ খাঁন রুবেল একটি বড়ই বাগান গড়ে তুলে অত্যন্ত সফলতা অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, যারা এমন উন্নতজাতের বড়ই বাগান গড়ে তুলবেন কৃষি বিভাগ তাদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে।

















