শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

দীঘির গায়ে জুস পড়ায় সত্যিই কি চাকরি হারিয়েছেন ওয়েটার?

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০১ পিএম | 51 বার পড়া হয়েছে
দীঘির গায়ে জুস পড়ায় সত্যিই কি চাকরি হারিয়েছেন ওয়েটার?

সম্প্রতি রাজধানীর একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ‘কাচ্চি ডাইন’-এর শাখা উদ্বোধন করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত এক পরিস্থিতির শিকার হন সময়ের আলোচিত চিত্রনায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। তবে সেই ঘটনার রেশ ধরে একজন সাধারণ কর্মচারীর চাকরি হারানোর গুঞ্জন এখন সামাজিক মাধ্যমে তুঙ্গে।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দীঘি যখন রেস্তোরাঁটিতে খাবার খাচ্ছিলেন, তখন একজন ওয়েটার পানীয় পরিবেশন করতে আসেন। সে সময় তিনটি জুসের গ্লাসের মধ্যে একটি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে দীঘির গায়ের ওপর পড়ে যায়। আকস্মিক এই ঘটনায় দীঘি কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়লেও পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ওয়েটারকে অত্যন্ত ভীত ও দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে রেস্তোরাঁর অন্য কর্মীরা এসে দীঘির পোশাক ও হাত পরিষ্কার করে দেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের একটি বড় অংশ দাবি করছেন, দীঘির গায়ে জুস ফেলার দায়ে সেই ওয়েটারকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। নেটিজেনদের মতে, একজন আমন্ত্রিত তারকার সঙ্গে এমন অপেশাদার আচরণ রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ সহজভাবে নেয়নি। মালিকপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়েই তাকে ছাঁটাই করেছে বলে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছে।
ঘটনার বিস্তারিত এবং ওই ওয়েটারের সঙ্গে কথা বলতে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁটিতে যোগাযোগ করা হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করতেই সেখানকার দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা প্রসঙ্গটি এড়িয়ে ফোনটি কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সাথে আর কোনো সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন কথা বলছে ‘কাচ্চি ডাইন’-এর প্রধান কার্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তা সৈয়দ তানভীর নীল এই গুঞ্জন নাকচ করে দিয়ে বলেন, চাকরিচ্যুতির দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সংশ্লিষ্ট কর্মী আমাদের সাথেই আছেন এবং নিয়মিত কাজ করছেন। এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল, যা অনিচ্ছাকৃত। ভুলবশত হওয়া এমন ঘটনায় কারও চাকরি যেতে পারে না। অফিশিয়ালি কিছুটা জবাবদিহি করতে হলেও এর বেশি কিছু হয়নি। আমরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দীঘির কাছেও দুঃখ প্রকাশ করেছি।
বিষয়টি নিয়ে চিত্রনায়িকা দীঘির অবস্থান জানতে তার সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে রেস্তোরাঁর সংশ্লিষ্ট শাখার কর্তৃপক্ষের নীরবতা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দাবির জেরে এই গুঞ্জন নিয়ে খানিকটা ধোঁয়াশাই থেকে গেল।

মোঃ জাহিদুল ইসলাম সানি

সমতল আদিবাসীদের পাঁচ দফা দাবিতে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

মোঃ জাহিদুল ইসলাম সানি প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৫:০৩ পিএম
সমতল আদিবাসীদের পাঁচ দফা দাবিতে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

সমতল অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাঁচ দফা দাবি তুলে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম। এসময় সংগঠনটির রাজশাহী মহানগর শাখার ৫১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটিও ঘোষণা করা হয়। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টায় রাজশাহী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রভাত টুডু। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিংগু মুর্মু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রদীপ হেমব্রম, অ্যাডভোকেট উকিল মুরমু, ইলিয়াস সরেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আদিবাসী নেতারা। অনুষ্ঠানের শেষে আগামী তিন বছরের জন্য সুমী মুরমুকে সভাপতি এবং ইলিয়াস সরেন সাধারণ সম্পাদক করে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের রাজশাহী মহানগর শাখার ৫১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ভূমিমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপিও পেশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে যে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়, সেগুলো হলো—সমতল আদিবাসীদের মধ্য থেকে একজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ, সংরক্ষিত নারী আসনে উত্তরবঙ্গের একজন আদিবাসী নারীর সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, পৃথক আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সমতল অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক অবস্থায় রয়েছেন। রাষ্ট্রের উন্নয়ন কাঠামোর বাইরে থেকে যাওয়ায় তাদের অধিকার, ভূমি এবং সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব আজও অনিরাপদ রয়ে গেছে। এই বাস্তবতায় সমতল আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে সমতল অঞ্চলে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক আদিবাসীর বসবাস। উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলায় সাঁওতাল, ওঁরাও, কোল, মুন্ডা, রাজোয়াড়, তুরি, মাহালী, মালো, মাহাতোসহ ৩২টিরও বেশি সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো তাদের জন্য পৃথক কোনো প্রশাসনিক বা আইনি কাঠামো না থাকায় ভূমি অধিকার, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তারা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, সমতল আদিবাসীদের মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগ এবং জাতীয় সংসদে আদিবাসী নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। একইভাবে পৃথক ভূমি কমিশন ও আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হলে দীর্ঘদিনের ভূমি সংকট, উচ্ছেদ, বঞ্চনা ও অধিকারহীনতার সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব হবে। উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে সমতল আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর হবে এবং দেশে একটি অধিকতর ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা পাবে।

মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা

বাদিয়াখালীতে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এক যুবকের উপর হামলা

মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম
বাদিয়াখালীতে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এক যুবকের উপর হামলা

গাইবান্ধার সদর উপজেলার মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় পারভেজ (২২)নামে এক যুবকের উপর হামলা ও ক্ষুর দিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে, মাদক কারবারি রবিন ও মমিনের বিরুদ্ধে। এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা বিরাজ করছে।

ঘটনা টি ঘটেছে সদর উপজেলার ৭ নং বাদিয়াখালী ইউনিয়নের রিফাইতপুর সরকারতাড়ী গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। শুক্রবার ( ২৭ মার্চ ২০২৬) তারা মিয়ার দোকানের সামনে বেঞ্চে বসে বাবা ছেলে সহ এলাকায় মাদক বিক্রি করে। এক পর্যায়ে মাদকের টাকার হিসাব নিকাশ নিয়ে বাপ ছেলের ভিতর কথা কাটাকাটি এবং বাপ ছেলের মারামারি সংঘটিত হয়। পারভেজ মিয়া বাদিয়াখালী বাজারের উদ্দেশ্য বাড়ি থেকে বের হয়ে আসলে এই ঘটনা তার সামনে পড়ে, এবং মারামারি করতে নিষেধ করলে (১। আসামি) রবিন মিয়া পারভেজের উপর চড়াও হয়ে পারভেজ কে ধাক্কা দেয়, পারভেজ কিছু মনে না করে, আবার মারামারি সমাধানের জন্য বাপ ছেলের দুইজনকে বাধা দিলে ২। আসামি মমিন মিয়ার হত্যার উদ্দেশ্য গলা টিপে ধরেন ১। আসামি রবিনের সঙ্গে থাকা গাঞ্জা কাটার বাটালি দিয়ে পারভেজের গলা কাঁটা উদ্দেশ্য কোপ মারলে গলায় না লেগে বাম হাতের বাহুতে লাগে পর পর আঘাত করে এবং গুরুত্ব আহত হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহত পারভেজ গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৭ নং বাদিয়াখালী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের রিফাইতপুর সরকারতাড়ী গ্রামের মোঃ রবিউল ইসলামের ছেলে

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। দুদু মিয়া একজন চোর স্বভাবের এবং মাদক কারবারি, তার ছেলেরাও মাদকের সঙ্গে জড়িত, শুধু তাই নয় তার বাড়িতে রাতের আধারে তার বাড়ির মেয়েদের দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালায়,

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হইনি বলে জানা যায়।

এলাকাবাসীর বক্তব্য:
এলাকাবাসীরা জানান আমরা বহুদিন থেকে মাদক সেবন সহ মাদক বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করি করেও বন্ধ করতে পাচ্ছি না।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মোঃ মনোয়ার হোসেন, রাজশাহী

রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতির ওপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

মোঃ মনোয়ার হোসেন, রাজশাহী প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৪:৪৬ পিএম
রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতির ওপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টায় মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ও ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি করেন।

মানববন্ধনে প্রধান ভুক্তভোগী ও বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম তার বক্তব্যে বলেন, “আমি শুধু একজন ব্যক্তি নই, আমি সাংবাদিক সমাজের একজন প্রতিনিধি। আমার ওপর হামলা মানে পুরো সাংবাদিক সমাজকে ভয় দেখানোর চেষ্টা। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র চাঁদা দাবি করে আসছিল। আমরা তা প্রত্যাখ্যান করায় তারা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই তারা অস্ত্র নিয়ে ক্লাবে ঢুকেছিল।”

তিনি আরও বলেন,“হামলার সময় আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে আমি প্রতিহত করি, এতে আমি গুরুতর আহত হই। আজও আমি চিকিৎসাধীন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এতদিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটা শুধু হতাশাজনক নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও উদ্বেগজনক।”

রেজাউল করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আমরা সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো। কোনো সন্ত্রাসী চক্রের কাছে আমরা মাথা নত করবো না।”

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শেখ রহমতুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ মামুনুর রশীদসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতারা। তারা বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাইক্রোবাস ভাড়া করে এ হামলা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মানববন্ধনে রিভিরসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রাব্বানী বলেন, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রধান অভিযুক্ত নূরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলী এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। বরং তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে। তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দাবি জানান তিনি।

এদিকে, রাজশাহী প্রেসক্লাব থেকে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানান বক্তারা। এছাড়াও তাদের ক্লাব থেকে স্থানীয়ভাবে বহিষ্কারের জোর দাবি তুলেন বক্তারা।

এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় নূরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলীসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুত গ্রেপ্তার নিশ্চিত না হলে রাজশাহীতে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, রাজশাহীর শিরোইল কাঁচা বাজার এলাকায় অবস্থিত বরেন্দ্র প্রেসক্লাব পরিচালনার নামে বেশ কিছু দিন ধরে নুরে ইসলাম মিলন ও তার সহযোগীরা ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এরই জেরে শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে একদল সন্ত্রাসী ক্লাবে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল বের করে সভাপতির মাথায় ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখায়।

​হামলার একপর্যায়ে সুরুজ আলী নামের এক সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউল করিমের পেটে আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন। এতে তার উরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং মোট ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. জিললুর রহমানকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়।৷

কথা বললে আরএমপি পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র গাজিউর রহমান (উপ-পুলিশ কমিশবার) বলেন, নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর। আসামীদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা টিম কাজ করছে দ্রুত তাদের গ্রেফতার করা হবে।

error: Content is protected !!