বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের রণডঙ্কায় মুখোমুখি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:২৮ পিএম | 107 বার পড়া হয়েছে
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন বারুদের গন্ধ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ আর পর্দার আড়ালে সীমাবদ্ধ নেই, তা এখন সরাসরি এক প্রলয়ংকরী সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে এসে একে অপরের উপর সংঘাত ও সংঘর্ষের মধ্যে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। গোয়েন্দা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি ভূখণ্ডে আনুষ্ঠানিক ভাবে মার্কিন হামলা শুরু হতে পারে। এই চরম উত্তেজনার মুখে ইরান তার আকাশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল এবং সাময়িক ভাবে অবমুক্ত করেছে কিন্তু আবার যে কোন সময় পূর্বের ন্যায় বন্ধ ঘোষণা করেতে পারে। এমতাবস্থায় ইরান ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। থমথমে পরিস্থিতির মাঝে বিশ্ববাসী এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে আছে।
মার্কিন রণতরীর মহড়া ও হামলার প্রস্তুতি:- যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির অন্যতম স্তম্ভ USS Abraham Lincoln তার শক্তিশালী ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ নিয়ে বর্তমানে ইরান উপকূলের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। এই বহরে রয়েছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার এবং পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন। এছাড়া লোহিত সাগরে আগে থেকেই অবস্থান করছে USS Roosevelt।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) তথ্যমতে, ৭৫টিরও বেশি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত সেনা ও রসদ মোতায়েন করা হয়েছে, যা একটি বড় মাপের যুদ্ধের আগাম সঙ্কেত দিচ্ছে।
ইরানের কঠোর পাল্টাহুঁশিয়ারি ও প্রতিরক্ষা প্রাচীর:- মার্কিন হুমকির মুখে তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া পাল্টা পদক্ষেপগুলো হলো:
* প্রণালী ও আকাশপথ অবরোধ:- ইরান তাদের আকাশপথ পুরোপুরি বন্ধ করার পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে।
* প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের সতর্কবার্তা:- তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো প্রতিবেশী দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের মাটি বা আকাশপথ ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে সেই দেশকেও সরাসরি শত্রু হিসেবে গণ্য করে হামলা চালানো হবে।
* রুশ S-400 প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা:- মার্কিন বিমান হামলা রুখতে ইরান রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী S-400 আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। এটি পেন্টাগনের পরিকল্পনাবিদদের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাশিয়ার ‘রেড লাইন’ ও চীনের অর্থনৈতিক কূটনীতি:- এই সংকটে ইরানের পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়েছে বিশ্বের অপর দুই পরাশক্তি রাশিয়া ও চীন। তাদের অবস্থান এই সংঘাতকে দ্বিপাক্ষিক গণ্ডি ছাড়িয়ে বৈশ্বিক রূপ দিয়েছে।
রাশিয়ার সামরিক ঢাল:- ক্রেমলিন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানে হামলা হবে ওয়াশিংটনের জন্য ইতিহাসের “সবচেয়ে বড় ভুল”। ভ্লাদিমির পুতিন বিষয়টিকে রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য ‘রেড লাইন’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। গোয়েন্দা তথ্য মতে, রাশিয়া তাদের স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে মার্কিন রণতরীর রিয়েল-টাইম গতিবিধি তেহরানকে সরবরাহ করছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের ড্রোন সহযোগিতার প্রতিদান হিসেবে মস্কো এবার সরাসরি ইরানের আকাশ সুরক্ষায় প্রযুক্তিগত ও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে।
চীনের কৌশলগত চাপ:- বেইজিং সাধারণত সংযমের কথা বললেও পর্দার আড়ালে তারা বেশ আক্রমণাত্মক। ইরানের তেলের বৃহত্তম ক্রেতা হিসেবে চীন পরিষ্কার করেছে যে, তাদের জ্বালানি নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটলে তারা বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানবে। এছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যেকোনো মার্কিন প্রস্তাব রুখতে চীন ও রাশিয়া তাদের যৌথ ‘ভেটো’ ক্ষমতা ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
একটি নতুন ‘ত্রিপক্ষীয় অক্ষ’ (Triple Axis)
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য খর্ব করতে রাশিয়া, চীন এবং ইরান মিলে একটি অলিখিত ‘ত্রিপক্ষীয় অক্ষ’ গড়ে তুলেছে। তাদের এই জোটের লক্ষ্য তিনটি:-
১. মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটানো।
২. ডলারের আধিপত্য ভেঙে নিজস্ব মুদ্রায় তেল বাণিজ্য নিশ্চিত করা।
৩. এই অঞ্চলে ইসরায়েলের একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ন্ত্রণ করা।
সমাপনী পরিস্থিতি:- খাদের কিনারায় বিশ্ব শান্তি
১৯৭০-এর দশকের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী চাপ। তবে ইরানের দাবি, তারা এমন এক “ঐতিহাসিক জবাব” দিতে প্রস্তুত যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি। পারস্য উপসাগরে ইরানের নৌবাহিনী ইতিমধ্যে মার্কিন জাহাজগুলোকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মুহূর্তে যেকোনো একটি ভুল পদক্ষেপ বা সামান্য ভুল বোঝাবুঝি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই আগ্নেয়গিরি যদি একবার বিস্ফোরিত হয়, তবে তার প্রভাব কেবল এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে ওলটপালট করে দেবে।

তাছলিমা আক্তার মুক্তা

ফুলকে ভালোবাসো

তাছলিমা আক্তার মুক্তা প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১:৫৯ পিএম
ফুলকে ভালোবাসো

ফুলের মতো সুন্দর হয়ে
ফোটলে গাছে গাছে ,
কত্ত পাখি আসতো কাছে
আমায় ভালোবাসে ।

মানুষ গুলোও বাসতো ভালো
আসতো আমার কাছে ,
নানা রঙের সুভাষ ছড়িয়ে
থাকতাম তাদের পাশে ।

পাখির সাথে করতাম খেলা
হাওয়ার তালে তালে ,
ভালোবেসে ছোট্ট শিশুকে
চুমু দিতাম গালে ।

কলি হয়ে ফোটাতাম আমি
সোনালী রোদ্দুরে
ভীষণ খুশি থাকতাম মোরা
এই পৃথিবী জুড়ে ।

ছিরো না কেউ ফুল কখনো
ফুলের বাগান থেকে ,
সারাজীবন ফুলরা তোমাদের
সুভাষ যাবে মেখে ।

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী

গোদাগাড়ীতে অসহায় প্রতিবন্ধী বিধবার জমি দখলের চেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১:২৭ পিএম
গোদাগাড়ীতে অসহায় প্রতিবন্ধী বিধবার জমি দখলের চেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মাদারপুর ডিমভাঙ্গা এলাকায় এক অসহায় শারীরিক প্রতিবন্ধী বিধবা নারীর বসতভিটা দখলের চেষ্টা ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোসা. সাবেরা খাতুন তার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদারপুর গ্রামের মৃত আলতাব হোসেনের মেয়ে মোসা. সাবেরা খাতুন তার বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া রেলওয়ের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। নিঃসন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী প্রভাবশালী মো. শাজাহান আলী ও তার চার ছেলে এসরাইল, ইউসুফ, খালেক ও মোসাহাক ওই জায়গাটি লিখে দেওয়ার জন্য তাকে দীর্ঘকাল ধরে চাপ দিয়ে আসছে।
​জায়গা দিতে অস্বীকার করায় বিবাদীপক্ষ তার ওপর অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাবেরা খাতুন জানান ​তার বাড়ির সামনে মলমূত্র ও গোবর ফেলে পরিবেশ দূষিত করা হচ্ছে।
​ড্রেন বন্ধ করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
​গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
​সরকারি টিউবওয়েল দখল ও জনভোগান্তি
​স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত শাজাহান আলী ও তার ছেলেরা সরকারিভাবে প্রাপ্ত একটি টিউবওয়েল নিজেদের দখলে নিয়ে ঘিরে রেখেছে। ফলে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ খাবার পানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। পানি নিতে গেলে স্থানীয়দের সাথেও দুর্ব্যবহার ও হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসী।

​প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ
​ভুক্তভোগী সাবেরা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ, আমার কেউ নেই। তারা আমার বাড়িতে তালা মেরে আমাকে বের করে দিতে চায়। আমি থানা ও পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি অনেক আগে, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি। আমি এখন প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছি।
​এলাকাবাসীর মতে, একজন সহায়-সম্বলহীন নারীর ওপর এমন আচরণ চরম অমানবিক। দীর্ঘদিন অভিযোগ পড়ে থাকলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

​বর্তমানে সাবেরা খাতুন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন। তিনি তার বসতভিটা রক্ষা এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

এই বিষয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউসুফ আলীর সঙ্গে ফোনে তার কথা বললে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন ।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানতে চাইলে প্রশ্নের জবাবে
তিনি সাংবাদিককে বলেন কি ভুলভাল বকছেন, এবং সাংবাদিককে বলে নিউজ করলে দেখে নেব ‌এমন হুমকি প্রদান করে।

হাজী সেলিম

আমি মানুষ, আমি প্রাণ

হাজী সেলিম প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১:২৪ পিএম
আমি মানুষ, আমি প্রাণ

আমি গরীব হতে পারি, অমানুষ নই,
আমি ক্ষুদ্র হতে পারি, কিন্তু ভীত নই।
আমি হাসাতে পারি, কাঁদাতে নয়,
আমি দূরে থাকি, তবু ভুলি নই।
আমি লিখি সত্যের কাহিনী সবার তরে,
আমি বলি কথা ন্যায়ের সবার তরে।
আমি বাঁচতে চাই কাজের তরে,
আমি মাটির সন্তান, মানবতার তরে।
আমি শত্রুকে দেই ন্যায়ের সাজ,
বন্ধুকে করি আমি অন্তরের পাশে নিজস্ব রাজ।
মিথ্যা, গুজব, অপবাদে আমি প্রতিবাদ,
গোপনে করি অনুসন্ধান, সত্যের খোঁজে সদা প্রবাদ।
আমি কাছে, দূরে, সবজায়গায় বিরাজমান,
সত্যের পথে গাইয়া বেড়াই গুণগান।
কৃষকের ছেলে, রাখালের সন্তান,
গরীবের বন্ধু, দুঃস্থের প্রিয় প্রাণ।
আমি অগ্নিঝরা মত চলি,
সত্য, ন্যায়, মুক্তির বার্তা বয়ে চলি।
আমি সবকিছু নিয়ে কথা বলি,
অপরাধী, অসত্য, অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দিই।
আমি অপরাধীর চেনা,
আমি ঋণী তুমি হিনা।
আমিও ভালোবাসি আজো তোমায়,
ও আমার প্রিয় মাতৃভূমি, ও আমার জন্মভূমি।
আমি দেশের নাগরিক, জাতির গান,
আমি সত্যের যোদ্ধা, ন্যায়ের প্রতীক, মহান।
আমার প্রাণ, আমার ভালোবাসা,
সকল মানুষের, সকল জীবের, মহান মাতৃভূমির তরে।

error: Content is protected !!