লোকসান ৫০ কোটি টাকা
সিরাজগঞ্জে কৃষি জমিতে অবাধে পুকুর খননে শতাধিক সেচ প্রকল্প বন্ধ
সিরাজগঞ্জের চলনবিল অধ্যূষিত তিন উপজেলায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অবৈধ পুকুর খননকারী চক্র। কৃষকের জমি ইজারা নিয়ে অবাধে পুকুর খনন করায় কৃষি জমির অভাবে সরকারিভাবে স্থাপন করা শতাধিক গভীর নলকূপ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে সরকার কে লোকসান গুনতে হচ্ছে ৫০ কোটি টাকা।
মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, এসব উপজেলায় বর্তমানে শতাধিক পুকুর খনন চলমান রয়েছে। তারা প্রশাসন সহ প্রভাবশালী মহল কে ম্যানেজ করেই পুকুর খনন করছেন । তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হচ্ছে, পুকুর খনন রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন।
কিন্তু এসব অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই প্রতি বছর শতাধিক পুকুর খনন করা সম্পন্ন হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আজ পর্যন্ত প্রশাসন কোনো পুকুর খনন বন্ধ করতে পেরেছে, এমন কোনো নজির নেই। ফলে জেলার তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলায় উজাড় হচ্ছে তিন ফসলি উর্বর জমি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রমতে, পুকুর খননে এরই মধ্যে এই তিন উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমেছে। পাশাপাশি শত শত বিঘা কৃষিজমিতে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। মাটিখেকোদের এই অপকর্মে দেশের শস্যভান্ডার খ্যাত সিরাজগঞ্জে কমছে ফসল উৎপাদন। যা জাতীয় উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ দিকে গণহারে পুকুর খননের ফলে, তিন উপজেলা শতাধিক গভীর নলকূপের প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। শস্য বহুমুখি করণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারিভাবে এসব সেচ প্রকল্প স্থাপন করা হয়। পুকুর খননের ফলে বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্প ও বিএডিসির পানাসি প্রকল্পের আওতায় গভীর নলকূপ গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, তারা অন্যত্র পূণ: স্থাপনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় কে চিঠি দিয়েছে।

ইতোমধ্যে উভয় প্রকল্পের দশ টি গভীর নলকূপ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা অন্যত্র পুনঃ স্থাপন করা হয়েছে।
বিএডিসি রায়গঞ্জ জোনের সহকারী প্রকৌশলী মি. আনন্দ বর্মন বলেন, প্রতিটি সেচ প্রকল্প স্থাপন করতে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা করে। সে হিসেবে গণহারে পুকুর খননের কারণে সরকারের এসব সেচ প্রকল্পে সরকার কে ৫০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। কৃষি জমির অভাবে সেচ প্রকল্পগুলো থেকে সরকার কোনো প্রকার রাজস্ব আদায় করতে পারছে না। পাশাপাশি পুকুর খনন ও সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় আবাদি জমি কমে যাওয়ায় শস্য উৎপাদনেও পরছে নেতিবাচক প্রভাব।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মোহাম্মদ রেজাউল হক বলেন, কৃষিজমিতে পুকুর খনন বন্ধে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কৃষিজমির শ্রেণি বদল করে পুকুর খনন পুরোপুরি বেআইনি। কিন্তু সুযোগ সন্ধানীরা অত্যান্ত কৌশলী। তারা আইন অমান্য করেই পুকুর খনন করছে। ফলে কৃষিজমি কমছে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ক্যাপশন:
০১.পুকুর খননে বন্ধ হয়ে যাওয়া বরেন্দ্র বহুমখি সেচ প্রকল্প। যা থেকে কৃষি জমিতে সেচ ও পরিবারের সুপেয় পানি সরবরাহ করা হতো। ছবিটি উল্লাপাড়া উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের উনুখাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ধারণ করা হয়েছে।
০২. প্রকাশ্যে পুকুর খনন চলছে। ছবিটি তাড়াশ উপজেলার তাড়াশ-মহিষলুটি আঞ্চলিক সড়কের ঘরগ্রাম মাঠ থেকে ধারণ করা হয়েছে।

















