ফেনীতে তীব্র শীতে বোরো চারা নষ্ট
ফেনী জেলায় চলমান তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জেলার দাগনভূঞা, ফুলগাজী, সোনাগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের আলো না পাওয়ায় বীজতলার চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। এতে চারা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১০ থেকে ২০ দিন বয়সী অনেক বীজতলায় চারার রং হলুদাভ হয়ে যাচ্ছে, কাণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং কোথাও কোথাও পাতা বের হওয়ার আগেই চারা নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে নিচু জমি ও চরাঞ্চলে শীত ও কুয়াশার প্রভাব বেশি পড়ছে। দাগনভূঞা উপজেলার বারাহী গোবিন্দসহ আশপাশের এলাকায় নিচু জমিতে তৈরি বীজতলাগুলোতে শীতের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ফুলগাজীর বাসুদেবপুর এলাকায় আগাম বীজতলার চারা তুলনামূলক ভালো থাকলেও মধ্যমেয়াদি বীজতলায় কুয়াশার কারণে বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। সোনাগাজীর চরচান্দিয়া ও উপকূলঘেঁষা চরাঞ্চলে রাতের ঠান্ডা বেশি থাকায় বীজতলা ঢেকে না রাখলে চারা টিকে থাকছে না। একই চিত্র ছাগলনাইয়ার গতিয়া এলাকাতেও দেখা গেছে।
দাগনভূঞার কৃষক রহিম উল্লাহ বলেন, “সময়মতো বীজতলা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু কয়েক দিন ধরে কনকনে ঠান্ডা আর কুয়াশায় অনেক চারা ঠিকমতো শক্ত হচ্ছে না। এ অবস্থা চললে আবার নতুন করে বীজতলা করতে হতে পারে।”
ফুলগাজীর কৃষক সাদেক জানান, “এ বছর বীজ, সার আর শ্রমের খরচ আগের চেয়ে অনেক বেশি। এখন যদি চারা নষ্ট হয়, তাহলে বাইরে থেকে চারা কিনে লাগাতে হবে। এতে একরপ্রতি কয়েক হাজার টাকা খরচ বাড়বে।”
সোনাগাজীর চরাঞ্চলের কৃষক মোস্তফা বলেন, “চর এলাকায় শীত বেশি পড়ে। রাতে কুয়াশা আর ঠান্ডায় বীজতলা ঢেকে না রাখলে চারা নষ্ট হয়ে যায়। কৃষি অফিসের পরামর্শে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছি, তবুও দুশ্চিন্তা কাটছে না।”
কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমান আবহাওয়া আরও কয়েক দিন স্থায়ী হলে অনেককে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হতে পারে। এতে সময়ের পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বাড়বে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা বেশি চাপে পড়বেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিক উল্লাহ বলেন, “বোরো আবাদকে ঘিরে ফেনী জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি ভালো রয়েছে। তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে কিছু বীজতলায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের চারা সংকটের আশঙ্কা নেই। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি চলছে।” অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. মাসুদ হোসেন বলেন, “শীতের সময় বীজতলা খোলা থাকলে চারার ক্ষতি হয়। তাই স্বচ্ছ পলিথিন বা ছাউনি দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা, প্রতিদিন সকালে পানি পরিবর্তন করা এবং কুয়াশা কেটে গেলে সূর্যের আলো নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জানুয়ারি মাসজুড়ে প্রয়োজনে নতুন করে চারা উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।”
মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “১৫ থেকে ২০ দিন বয়সী বীজতলাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে কৃষকরা পরামর্শ মেনে চললে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব।” অন্যদিকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল বাতেন জানান, “চর ও নিচু এলাকায় বিশেষ নজরদারি চলছে। বিকল্প বীজতলা প্রস্তুত রাখতে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো কারণে চারা নষ্ট হলেও নির্ধারিত সময়ে রোপণ ব্যাহত না হয়।” কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে ফিরলে ফেনী জেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বোরো আবাদ সম্ভব হবে এবং বড় কোনো সংকট দেখা দেবে না।














