সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

তুর পাহাড়ের সেই শেষ সফর

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৮ পিএম | 63 বার পড়া হয়েছে
তুর পাহাড়ের সেই শেষ সফর

হযরত মূসা (আঃ) ছিলেন আল্লাহর অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তেজস্বী একজন নবী। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তাঁর সাহসিকতা ও গাম্ভীর্য ছিল অটুট। একদিন তিনি নিজ গৃহে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, এমন সময় হঠাৎ এক অচেনা ব্যক্তি কোনো অনুমতি বা সালাম ছাড়াই তাঁর সামনে এসে দাঁড়াল। লোকটির কণ্ঠে ছিল কঠোরতা, সে সরাসরি বলল— “হে মূসা! মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও।”
এক অলৌকিক থাপ্পড় ও আজরাইলের প্রস্থান
মূসা (আঃ) ছিলেন প্রখর ব্যক্তিত্বের অধিকারী। অপরিচিত ব্যক্তির এমন ধৃষ্টতা এবং বিনাশর্তে জান কবজের ঘোষণা শুনে তিনি ক্রুদ্ধ হলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, “তুমি কোন পথে আমার জান কবজ করবে? আমার মুখ দিয়ে? যে মুখ দিয়ে আমি আল্লাহর সাথে কথা বলেছি! নাকি আমার চোখ দিয়ে? যা দিয়ে আমি আল্লাহর নূরের ঝলকানি দেখেছি!”
আজরাইল (আঃ) যখন কোনো সদুত্তর না দিয়ে তাঁর দায়িত্ব পালনে অনড় থাকলেন, তখন মূসা (আঃ) বেয়াদবির শাস্তি হিসেবে তাঁকে এক সজোরে থাপ্পড় মারলেন। সেই আঘাত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, মালাকুল মউত আজরাইল (আঃ)-এর একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হলো। তিনি জান কবজের কথা ভুলে ব্যথিত অবস্থায় আল্লাহর দরবারে ফিরে গেলেন।
আজরাইল (আঃ) আরজ করলেন, “হে রাব্বুল আলামিন! আপনি আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন, যিনি এখন মরতে চান না এবং যাঁর শক্তিতে আমি আজ আহত।”
আল্লাহর হেকমত ও দ্বিতীয় সাক্ষাৎ
আল্লাহ তাআলা আজরাইল (আঃ)-এর চোখ সুস্থ করে দিলেন এবং বললেন, “তুমি আবার যাও। তবে এবার দম্ভ নিয়ে নয়, বরং আমার সালাম ও সৌজন্য নিয়ে যাও। তাঁকে বলো—তাঁর রব তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন।”
আজরাইল (আঃ) এবার অত্যন্ত নম্রভাবে মূসা (আঃ)-এর সামনে হাজির হলেন। আল্লাহর সালাম পেয়ে মূসা (আঃ)-এর মন শান্ত হলো। তিনি শেষবারের মতো তুর পাহাড়ে যাওয়ার এবং আল্লাহর দিদার পাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন। আল্লাহ তাঁর আরজি কবুল করলেন।
নির্জন প্রান্তরে রহস্যময় কবর
তুর পাহাড় থেকে ফেরার পথে মূসা (আঃ) দেখলেন সাতজন লোক একটি সুন্দর কবর খনন করছে। তিনি কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “এটি কার কবর?” তারা উত্তর দিল, “এক পরম ঈমানদার ব্যক্তির জন্য। তবে তাঁর শারীরিক গঠন ঠিক আপনার মতোই লম্বা। আপনি কি একটু কবরে শুয়ে দেখবেন মাপ ঠিক আছে কি না?”
মূসা (আঃ) কবরে শোবামাত্রই এর নির্জনতা ও প্রশান্তিতে মুগ্ধ হলেন। তিনি দোয়া করলেন, “হে আল্লাহ! এই নির্জন স্থানটিই আমার শেষ ঠিকানা হিসেবে কবুল করুন।” ঠিক তখনই এক ফেরেশতা জান্নাত থেকে একটি সুগন্ধি আপেল নিয়ে তাঁর সামনে এলেন। মূসা (আঃ) পরম শান্তিতে “বিসমিল্লাহ” বলে আপেলটিতে কামড় দিলেন। আর সেই স্বর্গীয় ঘ্রাণ আর স্বাদ আস্বাদনের মুহূর্তেই অলৌকিকভাবে তাঁর জান কবজ হয়ে গেল। ফেরেশতারা সেখানেই তাঁকে দাফন করলেন। এ কারণেই আজও পৃথিবীর কোনো মানুষ নিশ্চিতভাবে জানে না যে আল্লাহর এই মহান কালিমুল্লাহর কবর ঠিক কোথায় অবস্থিত।
গল্পের শিক্ষা:
১. মৃত্যু অনিবার্য: নবীদের মতো শক্তিশালী মানুষের কাছেও আজরাইল আসে, তবে তাঁদের বিদায় হয় অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার সাথে। ২. বিনয় ও শিষ্টাচার: আল্লাহর বার্তাবাহক হলেও সঠিক পদ্ধতি ও বিনয় অবলম্বন করা ইবাদতের অংশ। ৩. আল্লাহর পরিকল্পনা: মানুষের পরিকল্পনা যেখানে শেষ হয়, আল্লাহর রহস্যময় ও সুন্দর পরিকল্পনা সেখান থেকেই শুরু হয়।
এই ঘটনার বিবরণ সহীহ বুখারী (হাদিস নম্বর ৩৪০৭) এবং সহীহ মুসলিম (হাদিস নম্বর ২৩৭২)-এর মতো সহীহ হাদিসে বর্ণিত আছে।

ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে সিয়াম লিখেছেন, ‘গত ২৮ মার্চ আমি জাতীয় ছাত্রশক্তি থেকে পদত্যাগ করেছি। এই পথচলায় যারা আমার সহযোদ্ধা ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। জাতীয় ছাত্রশক্তি ও এনসিপির নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রয়াস সফল হোক এই কামনা করি।’

আবু তৌহিদ মো. সিয়াম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বাগছাসের নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে গত ২৩ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

এরপর ৩১ অক্টোবর সংগঠনটির চার সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম।

মোঃ সাকিব মুন্সী

মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ সাকিব মুন্সী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান আকন্দ শফিক, তিনি মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নিজ বাড়ির সামনে বিলে ঘাস কাটতে গেলে জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের মো. সোহেল (৩৫), তার ভাই মো. কায়েস (২৮), কাউসার (৩০) ও মো. সাগর (২২) মিলে তাকে মারধর করে এবং পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার মদন পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা, এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত সোহেল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মেহেদী হাসান আমার চাষকৃত জমিতে ঘাস কাটছিল। আমি বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। তবে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নিউজফিডে অহেতুক একটা বিতর্ক দেখছি।
দুজনের বয়স কাছাকাছি, কিন্তু জয়া যেভাবে নিজেকে মেন্টেইন করেছেন, নিজের বয়সকে ধরে রেখেছেন, বিপাশা সেভাবে পারেননি,
তার শরীরে বয়সের ছাপ পড়েছে, চুল পেকেছে আরো কত কি।
সমস্যাটা আসলে কার চুল সাদা, কার ফিগার ছিপছিপে, কার মেকআপ কম সেটা না, সমস্যাটা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।
একটা অদ্ভুত মানসিকতা ধীরে ধীরে সমাজে জায়গা করে নিয়েছে।
যেখানে একজন নারী বয়সকে যেভাবে গ্রহণ করবেন, সেটাকেই আদর্শ বানিয়ে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিপাশা হায়াত যদি নিজের সাদা চুল, স্বাভাবিক বয়স এসবকে গ্রহণ করেন, সেটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ, তার স্বাচ্ছন্দ্য।
কিন্তু সেই পছন্দকে মাপকাঠি বানিয়ে অন্য নারীদের বিচার করা এটা আসলে প্রশংসা না, এটা নিয়ন্ত্রণের আরেক রূপ।
একইভাবে, জয়া আহসান যদি নিজেকে ফিট রাখেন, স্টাইলিশ থাকেন, কিংবা নিজের মতো করে ইয়াং অনুভব করতে চান, তাহলে সেটাও তার অধিকার।
বয়স বাড়লেই কেন একজন নারীকে নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢুকে যেতে হবে?
কেন তার সাজ, পোশাক, এমনকি নিজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছু সমাজ ঠিক করে দেবে?
সবচেয়ে বড় সমস্যার বিষয় হলো এই তুলনাটা।
একজনকে তুলে ধরতে গিয়ে আরেকজনকে ছোট করা।
একজন স্বাভাবিক, কারণ তিনি বয়স মেনে নিয়েছেন,
আরেকজন অস্বাভাবিক, কারণ তিনি নিজেকে ধরে রাখতে চান।
এই বিভাজনটা আসলে কতটা যুক্তিযুক্ত?
সত্যি বলতে, এখানে প্রশংসার আড়ালে একটা সূক্ষ্ম চাপ কাজ করে, তুমি এমন হও, না হলে তুমি ভুল, তুমি খারাপ।
কেউ সাদা চুলে স্বাচ্ছন্দ,
কেউ রঙ করে ভালো লাগে।
কেউ মেকআপ ছাড়াই স্বস্তিতে,
কেউ সাজতে ভালোবাসে।
এই ভিন্নতাই স্বাভাবিক।
সমালোচনা যদি করতেই হয়, তাহলে এই দ্বিমুখী মানসিকতারই করা উচিত।
যেখানে একজন নারীর স্বাধীন পছন্দকে আরেকজনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।
কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ,
নারী কি নিজের মতো করে বাঁচতে পারবে?
নাকি তাকে সবসময় অন্যের পছন্দ অনুযায়ী বদলাতে হবে?

error: Content is protected !!