সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

তুর পাহাড়ের সেই শেষ সফর

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

হযরত মূসা (আঃ) ছিলেন আল্লাহর অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তেজস্বী একজন নবী। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তাঁর সাহসিকতা ও গাম্ভীর্য ছিল অটুট। একদিন তিনি নিজ গৃহে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, এমন সময় হঠাৎ এক অচেনা ব্যক্তি কোনো অনুমতি বা সালাম ছাড়াই তাঁর সামনে এসে দাঁড়াল। লোকটির কণ্ঠে ছিল কঠোরতা, সে সরাসরি বলল— “হে মূসা! মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও।”
এক অলৌকিক থাপ্পড় ও আজরাইলের প্রস্থান
মূসা (আঃ) ছিলেন প্রখর ব্যক্তিত্বের অধিকারী। অপরিচিত ব্যক্তির এমন ধৃষ্টতা এবং বিনাশর্তে জান কবজের ঘোষণা শুনে তিনি ক্রুদ্ধ হলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, “তুমি কোন পথে আমার জান কবজ করবে? আমার মুখ দিয়ে? যে মুখ দিয়ে আমি আল্লাহর সাথে কথা বলেছি! নাকি আমার চোখ দিয়ে? যা দিয়ে আমি আল্লাহর নূরের ঝলকানি দেখেছি!”
আজরাইল (আঃ) যখন কোনো সদুত্তর না দিয়ে তাঁর দায়িত্ব পালনে অনড় থাকলেন, তখন মূসা (আঃ) বেয়াদবির শাস্তি হিসেবে তাঁকে এক সজোরে থাপ্পড় মারলেন। সেই আঘাত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, মালাকুল মউত আজরাইল (আঃ)-এর একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হলো। তিনি জান কবজের কথা ভুলে ব্যথিত অবস্থায় আল্লাহর দরবারে ফিরে গেলেন।
আজরাইল (আঃ) আরজ করলেন, “হে রাব্বুল আলামিন! আপনি আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন, যিনি এখন মরতে চান না এবং যাঁর শক্তিতে আমি আজ আহত।”
আল্লাহর হেকমত ও দ্বিতীয় সাক্ষাৎ
আল্লাহ তাআলা আজরাইল (আঃ)-এর চোখ সুস্থ করে দিলেন এবং বললেন, “তুমি আবার যাও। তবে এবার দম্ভ নিয়ে নয়, বরং আমার সালাম ও সৌজন্য নিয়ে যাও। তাঁকে বলো—তাঁর রব তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন।”
আজরাইল (আঃ) এবার অত্যন্ত নম্রভাবে মূসা (আঃ)-এর সামনে হাজির হলেন। আল্লাহর সালাম পেয়ে মূসা (আঃ)-এর মন শান্ত হলো। তিনি শেষবারের মতো তুর পাহাড়ে যাওয়ার এবং আল্লাহর দিদার পাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন। আল্লাহ তাঁর আরজি কবুল করলেন।
নির্জন প্রান্তরে রহস্যময় কবর
তুর পাহাড় থেকে ফেরার পথে মূসা (আঃ) দেখলেন সাতজন লোক একটি সুন্দর কবর খনন করছে। তিনি কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “এটি কার কবর?” তারা উত্তর দিল, “এক পরম ঈমানদার ব্যক্তির জন্য। তবে তাঁর শারীরিক গঠন ঠিক আপনার মতোই লম্বা। আপনি কি একটু কবরে শুয়ে দেখবেন মাপ ঠিক আছে কি না?”
মূসা (আঃ) কবরে শোবামাত্রই এর নির্জনতা ও প্রশান্তিতে মুগ্ধ হলেন। তিনি দোয়া করলেন, “হে আল্লাহ! এই নির্জন স্থানটিই আমার শেষ ঠিকানা হিসেবে কবুল করুন।” ঠিক তখনই এক ফেরেশতা জান্নাত থেকে একটি সুগন্ধি আপেল নিয়ে তাঁর সামনে এলেন। মূসা (আঃ) পরম শান্তিতে “বিসমিল্লাহ” বলে আপেলটিতে কামড় দিলেন। আর সেই স্বর্গীয় ঘ্রাণ আর স্বাদ আস্বাদনের মুহূর্তেই অলৌকিকভাবে তাঁর জান কবজ হয়ে গেল। ফেরেশতারা সেখানেই তাঁকে দাফন করলেন। এ কারণেই আজও পৃথিবীর কোনো মানুষ নিশ্চিতভাবে জানে না যে আল্লাহর এই মহান কালিমুল্লাহর কবর ঠিক কোথায় অবস্থিত।
গল্পের শিক্ষা:
১. মৃত্যু অনিবার্য: নবীদের মতো শক্তিশালী মানুষের কাছেও আজরাইল আসে, তবে তাঁদের বিদায় হয় অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার সাথে। ২. বিনয় ও শিষ্টাচার: আল্লাহর বার্তাবাহক হলেও সঠিক পদ্ধতি ও বিনয় অবলম্বন করা ইবাদতের অংশ। ৩. আল্লাহর পরিকল্পনা: মানুষের পরিকল্পনা যেখানে শেষ হয়, আল্লাহর রহস্যময় ও সুন্দর পরিকল্পনা সেখান থেকেই শুরু হয়।
এই ঘটনার বিবরণ সহীহ বুখারী (হাদিস নম্বর ৩৪০৭) এবং সহীহ মুসলিম (হাদিস নম্বর ২৩৭২)-এর মতো সহীহ হাদিসে বর্ণিত আছে।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন