সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

ইয়াজুজ-মাজুজের বন্দিত্ব ও মুক্তির কাহিনী

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম | 48 বার পড়া হয়েছে
ইয়াজুজ-মাজুজের বন্দিত্ব ও মুক্তির কাহিনী

🌋 আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগেকার কথা। পৃথিবীতে তখন রাজত্ব করতেন এক ন্যায়পরায়ণ এবং প্রতাপশালী রাজা, যার নাম জুলকারনাইন। তিনি ঘোড়ায় চড়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াতেন এবং অন্যায়ের বিনাশ করে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করতেন।
১. জুলকারনাইন ও অসহায় মানুষের আর্তনাদ
ভ্রমণ করতে করতে জুলকারনাইন দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী এক জনপদে পৌঁছালেন। সেখানকার মানুষেরা ছিল অত্যন্ত অসহায়। তারা জুলকারনাইনকে এক ভয়ংকর সংবাদ দিল। তারা বলল, “হে জুলকারনাইন! পাহাড়ের ওপাড়ে ‘ইয়াজুজ ও মাজুজ’ নামের এক বর্বর জাতি বাস করে। তারা যখনই এপারে আসে, হত্যা-লুণ্ঠন আর ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠে। আপনি কি আমাদের বাঁচাবেন? বিনিময়ে আমরা আপনাকে কর (টাকা) দেব।”
জুলকারনাইন উত্তর দিলেন, “আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন তা তোমাদের সম্পদের চেয়ে উত্তম। তোমরা শুধু আমাকে শারীরিক শ্রম দিয়ে সাহায্য করো, আমি তোমাদের মাঝে এক নিশ্ছিদ্র প্রাচীর তৈরি করে দেব।”
২. লোহার সেই নিশ্ছিদ্র বেষ্টনী
জুলকারনাইনের আদেশে হাজার হাজার টন লোহা আনা হলো। তিনি দুই পাহাড়ের মাঝখানে লোহার বিশাল স্তূপ সাজিয়ে তাতে আগুনের প্রচণ্ড তাপ দিলেন। লোহা যখন লাল হয়ে গলে গেল, তখন তার ওপর গলিত তামা ঢেলে দেওয়া হলো। তৈরি হলো এক দুর্ভেদ্য মিশ্রণ— ‘রদমা’। এটি ছিল এমন এক প্রাচীর যা এতই মসৃণ যে তার ওপর চড়া অসম্ভব, আর এতই শক্ত যে তা ফুটো করাও অসাধ্য। এভাবেই ইয়াজুজ ও মাজুজ নামের সেই দানবীয় জাতিকে পৃথিবীর বুক থেকে আলাদা করে দেওয়া হলো।
৩. প্রতিদিনের ব্যর্থ চেষ্টা ও একটি ‘ইনশাআল্লাহ’
হাজার হাজার বছর ধরে এই বর্বর জাতিটি সেই প্রাচীরের ওপাড়ে বন্দি আছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তারা প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই প্রাচীর খুঁড়তে থাকে। খুঁড়তে খুঁড়তে যখন প্রাচীরটি একদম পাতলা হয়ে যায় এবং ওপাড়ে সূর্যের আলো দেখা যায়, তখন তাদের সর্দার বলে, “আজ চল, বাকিটুকু কাল শেষ করব।” কিন্তু তারা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে না। ফলে পরের দিন এসে তারা দেখে প্রাচীরটি আল্লাহর হুকুমে আগের চেয়েও বেশি মজবুত হয়ে গেছে।
এভাবে প্রতিদিন তারা ব্যর্থ হয়। কিন্তু কিয়ামতের ঠিক আগে, যখন আল্লাহর ইচ্ছা হবে, তখন তাদের সর্দার বলবে— “চলো আজ ফিরে যাই, ‘ইনশাআল্লাহ’ কাল বাকিটা শেষ করব।” এই একটি ‘ইনশাআল্লাহ’র বরকতে পরদিন তারা প্রাচীরটি ফুটো করতে সক্ষম হবে এবং পঙ্গপালের মতো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে।
৪. তিবিরিয়া হ্রদ ও শেষ পরিণতি
ইয়াজুজ ও মাজুজ যখন বের হবে, তখন তাদের সংখ্যা হবে অগনিত। তারা যখন ফিলিস্তিনের তিবিরিয়া হ্রদের পাশ দিয়ে যাবে, তখন তাদের প্রথম দলটি হ্রদের সব পানি খেয়ে শেষ করে ফেলবে। তারা যা পাবে তা-ই খাবে, যাকে পাবে তাকেই হত্যা করবে। দুনিয়ার সব মানুষকে শেষ করে তারা আকাশের দিকে তীর ছুড়বে। আল্লাহ তাদের পরীক্ষা করার জন্য তীরে রক্ত মাখিয়ে ফেরত পাঠাবেন। তারা ভাববে, “আমরা জমিন ও আসমানের সবাইকে শেষ করে ফেলেছি।”
৫. ঈসা (আ.)-এর দোয়া ও কীটের আক্রমণ
সেই চরম ফিতনার সময় হযরত ঈসা (আ.) মুমিনদের নিয়ে পাহাড়ে আশ্রয় নেবেন। ঈসা (আ.)-এর দোয়ার বরকতে আল্লাহ ইয়াজুজ ও মাজুজের ঘাড়ে এক প্রকার ক্ষুদ্র কীটের আক্রমণ পাঠাবেন। এই মহামারীতে কোটি কোটি ইয়াজুজ-মাজুজ একসাথে ধ্বংস হয়ে যাবে। এরপর বিশাল বড় বড় পাখি এসে তাদের মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেবে এবং বৃষ্টি দিয়ে পুরো পৃথিবী পবিত্র করা হবে।
গল্পের শিক্ষা:
১. ইনশাআল্লাহর শক্তি: হাজার বছর ধরে কঠোর শ্রম দিয়ে যা সম্ভব হয়নি, একটি ‘ইনশাআল্লাহ’র কারণে তা সম্ভব হবে। আল্লাহর ওপর সব কাজে নির্ভর করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। ২. অনিবার্য ধ্বংস: জুলুম ও অহংকারের পরিণতি সব সময়ই ধ্বংসাত্মক। ইয়াজুজ-মাজুজ নিজেদের অপরাজেয় ভাবলেও একটি সামান্য পোকা দিয়ে আল্লাহ তাদের ধ্বংস করবেন। ৩. ঈমানের পরীক্ষা: শেষ জমানায় টিকে থাকতে হলে খাঁটি ঈমান ও আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস অপরিহার্য।

ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে সিয়াম লিখেছেন, ‘গত ২৮ মার্চ আমি জাতীয় ছাত্রশক্তি থেকে পদত্যাগ করেছি। এই পথচলায় যারা আমার সহযোদ্ধা ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। জাতীয় ছাত্রশক্তি ও এনসিপির নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রয়াস সফল হোক এই কামনা করি।’

আবু তৌহিদ মো. সিয়াম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বাগছাসের নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে গত ২৩ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

এরপর ৩১ অক্টোবর সংগঠনটির চার সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম।

মোঃ সাকিব মুন্সী

মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ সাকিব মুন্সী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান আকন্দ শফিক, তিনি মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নিজ বাড়ির সামনে বিলে ঘাস কাটতে গেলে জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের মো. সোহেল (৩৫), তার ভাই মো. কায়েস (২৮), কাউসার (৩০) ও মো. সাগর (২২) মিলে তাকে মারধর করে এবং পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার মদন পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা, এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত সোহেল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মেহেদী হাসান আমার চাষকৃত জমিতে ঘাস কাটছিল। আমি বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। তবে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নিউজফিডে অহেতুক একটা বিতর্ক দেখছি।
দুজনের বয়স কাছাকাছি, কিন্তু জয়া যেভাবে নিজেকে মেন্টেইন করেছেন, নিজের বয়সকে ধরে রেখেছেন, বিপাশা সেভাবে পারেননি,
তার শরীরে বয়সের ছাপ পড়েছে, চুল পেকেছে আরো কত কি।
সমস্যাটা আসলে কার চুল সাদা, কার ফিগার ছিপছিপে, কার মেকআপ কম সেটা না, সমস্যাটা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।
একটা অদ্ভুত মানসিকতা ধীরে ধীরে সমাজে জায়গা করে নিয়েছে।
যেখানে একজন নারী বয়সকে যেভাবে গ্রহণ করবেন, সেটাকেই আদর্শ বানিয়ে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিপাশা হায়াত যদি নিজের সাদা চুল, স্বাভাবিক বয়স এসবকে গ্রহণ করেন, সেটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ, তার স্বাচ্ছন্দ্য।
কিন্তু সেই পছন্দকে মাপকাঠি বানিয়ে অন্য নারীদের বিচার করা এটা আসলে প্রশংসা না, এটা নিয়ন্ত্রণের আরেক রূপ।
একইভাবে, জয়া আহসান যদি নিজেকে ফিট রাখেন, স্টাইলিশ থাকেন, কিংবা নিজের মতো করে ইয়াং অনুভব করতে চান, তাহলে সেটাও তার অধিকার।
বয়স বাড়লেই কেন একজন নারীকে নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢুকে যেতে হবে?
কেন তার সাজ, পোশাক, এমনকি নিজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছু সমাজ ঠিক করে দেবে?
সবচেয়ে বড় সমস্যার বিষয় হলো এই তুলনাটা।
একজনকে তুলে ধরতে গিয়ে আরেকজনকে ছোট করা।
একজন স্বাভাবিক, কারণ তিনি বয়স মেনে নিয়েছেন,
আরেকজন অস্বাভাবিক, কারণ তিনি নিজেকে ধরে রাখতে চান।
এই বিভাজনটা আসলে কতটা যুক্তিযুক্ত?
সত্যি বলতে, এখানে প্রশংসার আড়ালে একটা সূক্ষ্ম চাপ কাজ করে, তুমি এমন হও, না হলে তুমি ভুল, তুমি খারাপ।
কেউ সাদা চুলে স্বাচ্ছন্দ,
কেউ রঙ করে ভালো লাগে।
কেউ মেকআপ ছাড়াই স্বস্তিতে,
কেউ সাজতে ভালোবাসে।
এই ভিন্নতাই স্বাভাবিক।
সমালোচনা যদি করতেই হয়, তাহলে এই দ্বিমুখী মানসিকতারই করা উচিত।
যেখানে একজন নারীর স্বাধীন পছন্দকে আরেকজনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।
কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ,
নারী কি নিজের মতো করে বাঁচতে পারবে?
নাকি তাকে সবসময় অন্যের পছন্দ অনুযায়ী বদলাতে হবে?

error: Content is protected !!