সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

দুই নদীর সঙ্গমস্থলে রহস্যময় সফর

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম | 60 বার পড়া হয়েছে
দুই নদীর সঙ্গমস্থলে রহস্যময় সফর

একদা হযরত মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের এক বিশাল জনসভায় অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ভাষণ দিচ্ছিলেন। জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন, “হে আল্লাহর নবী! এই পৃথিবীতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় জ্ঞানী ব্যক্তি কে?” মূসা (আঃ) বিনয়ের সাথে উত্তর দিলেন, “আমি।”
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবীর এই উত্তরটি পছন্দ করলেন না, কারণ তিনি জ্ঞানের মূল উৎস হিসেবে আল্লাহর নাম নেননি। আল্লাহ ওহী পাঠালেন, “হে মূসা! দুই নদীর সঙ্গমস্থলে আমার এমন এক বান্দা আছে, যার জ্ঞান তোমার চেয়েও বেশি।” মূসা (আঃ) লজ্জিত হলেন এবং সেই জ্ঞানীর সন্ধান পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠলেন।
১. সাগরের বুকে চড়ুই পাখির শিক্ষা
দীর্ঘ সফরের পর মূসা (আঃ) জনৈক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেলেন, যাঁর নাম খিজির (আঃ)। মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম দিয়ে বললেন, “আমি আপনার কাছে এসেছি সেই সঠিক জ্ঞান শিখতে, যা আল্লাহ আপনাকে শিখিয়েছেন।”
খিজির (আঃ) মৃদু হেসে বললেন, “হে মূসা! আল্লাহর কিছু জ্ঞান আমার আছে যা আপনি জানেন না, আবার আপনার কাছে কিছু জ্ঞান আছে যা আমি জানি না। তবে আমার সাথে থাকতে হলে আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। আপনি কি পারবেন?” মূসা (আঃ) ওয়াদা করলেন তিনি ধৈর্য ধরবেন।
সফরের শুরুতে তাঁরা একটি নৌকায় উঠলেন। তখন একটি চড়ুই পাখি এসে সাগরের পানিতে ঠোঁট ডুবিয়ে এক ফোঁটা পানি পান করল। খিজির (আঃ) বললেন, “হে মূসা! এই পাখিটি তার ঠোঁটে করে যতটুকু পানি নিল, আল্লাহর অসীম জ্ঞানের সমুদ্র থেকে আমার আর আপনার জ্ঞান ঠিক ততটুকুই সামান্য। ভাবুন তবে আল্লাহর জ্ঞান কত বিশাল!”
২. তিনটি রহস্যময় ঘটনা ও ধৈর্যের পরীক্ষা
প্রথম ঘটনা: মাঝপথে খিজির (আঃ) হঠাৎ কুঠার দিয়ে নৌকার একটি তক্তা ভেঙে ফেললেন। মূসা (আঃ) অবাক হয়ে বললেন, “এ কী করলেন? মাঝিরা দয়া করে আমাদের বিনে পয়সায় পার করে দিচ্ছে, আর আপনি তাদের নৌকা ফুটো করে ডুবিয়ে দিতে চাইছেন?” খিজির (আঃ) বললেন, “আমি কি বলিনি আপনি ধৈর্য ধরতে পারবেন না?” মূসা (আঃ) ক্ষমা চাইলেন।
দ্বিতীয় ঘটনা: নৌকা থেকে নেমে তাঁরা বনের পথে হাঁটছিলেন। হঠাৎ খিজির (আঃ) এক কিশোরকে দেখা মাত্র হত্যা করলেন। মূসা (আঃ) শিউরে উঠলেন, “আপনি একটি নিষ্পাপ শিশুকে বিনাপরাধে মারলেন? এটি তো জঘন্য অন্যায়!” খিজির (আঃ) পুনরায় সেই শর্তের কথা মনে করিয়ে দিলেন।
তৃতীয় ঘটনা: তাঁরা এক কৃপণ জনপদে পৌঁছালেন। ক্ষুধার্ত থাকলেও গ্রামবাসীরা তাঁদের আতিথ্য দিল না। সেখানে একটি দেয়াল হেলে পড়েছিল। খিজির (আঃ) বিনা পরিশ্রমে সেটি মেরামত করে দিলেন। মূসা (আঃ) বললেন, “তারা আমাদের খাবার দিল না, আর আপনি তাদের দেয়াল সারিয়ে দিলেন? মজুরি নিলেও তো খাবার কেনা যেত!”
৩. রহস্যের পর্দা উন্মোচন
এবার খিজির (আঃ) বললেন, “মূসা! এখানেই আমাদের বিচ্ছেদ। তবে শোনো এর পেছনের রহস্য—যা আল্লাহ আমাকে জানিয়েছেন কিন্তু তোমার চোখে ধরা পড়েনি।”
নৌকা: সামনে এক জালেম রাজা সব ভালো নৌকা কেড়ে নিচ্ছিল। আমি নৌকাটি ত্রুটিযুক্ত করে দিলাম যেন রাজা এটি না নেয় এবং দরিদ্র মাঝিরা পরে মেরামত করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
বালক: ওই শিশুটি বড় হয়ে চরম অবাধ্য হতো এবং তার নেককার পিতামাতাকে কুফরিতে লিপ্ত করত। আল্লাহ তার বদলে তাঁদের উত্তম সন্তান দেবেন।
দেয়াল: ওই দেয়ালের নিচে দুই এতিম শিশুর গুপ্তধন লুকানো ছিল। দেয়ালটি ভেঙে পড়লে সম্পদ চুরি হয়ে যেত। আল্লাহ চাইলেন তারা বড় হয়ে যেন বাবার রেখে যাওয়া সম্পদ খুঁজে পায়।
মূসা (আঃ) স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, আমরা চোখে যা দেখি তার আড়ালে আল্লাহর এক বিশাল পরিকল্পনা থাকে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে যা অনিষ্ট মনে হয়, তার গভীরেও পরম কল্যাণ লুকায়িত থাকতে পারে।
গল্পের শিক্ষা:
১. বিনয়: পৃথিবীর সব জ্ঞান আল্লাহর দান। নিজেকে বড় জ্ঞানী মনে করা অহংকার, যা আল্লাহ পছন্দ করেন না। ২. ধৈর্য: আল্লাহর হেকমত বা রহস্য বোঝা মানুষের সীমিত বুদ্ধির কাজ নয়। তাই বিপদে অস্থির না হয়ে ধৈর্য ধরা উচিত। ৩. দৃষ্টিভঙ্গি: সব সময় যা দেখা যায় তাই চূড়ান্ত সত্য নয়; প্রতিটি ঘটনার পেছনে আল্লাহর এক সূক্ষ্ম বিচার ও মঙ্গল নিহিত থাকে।

ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে সিয়াম লিখেছেন, ‘গত ২৮ মার্চ আমি জাতীয় ছাত্রশক্তি থেকে পদত্যাগ করেছি। এই পথচলায় যারা আমার সহযোদ্ধা ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। জাতীয় ছাত্রশক্তি ও এনসিপির নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রয়াস সফল হোক এই কামনা করি।’

আবু তৌহিদ মো. সিয়াম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বাগছাসের নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে গত ২৩ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

এরপর ৩১ অক্টোবর সংগঠনটির চার সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম।

মোঃ সাকিব মুন্সী

মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ সাকিব মুন্সী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান আকন্দ শফিক, তিনি মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নিজ বাড়ির সামনে বিলে ঘাস কাটতে গেলে জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের মো. সোহেল (৩৫), তার ভাই মো. কায়েস (২৮), কাউসার (৩০) ও মো. সাগর (২২) মিলে তাকে মারধর করে এবং পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার মদন পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা, এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত সোহেল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মেহেদী হাসান আমার চাষকৃত জমিতে ঘাস কাটছিল। আমি বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। তবে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নিউজফিডে অহেতুক একটা বিতর্ক দেখছি।
দুজনের বয়স কাছাকাছি, কিন্তু জয়া যেভাবে নিজেকে মেন্টেইন করেছেন, নিজের বয়সকে ধরে রেখেছেন, বিপাশা সেভাবে পারেননি,
তার শরীরে বয়সের ছাপ পড়েছে, চুল পেকেছে আরো কত কি।
সমস্যাটা আসলে কার চুল সাদা, কার ফিগার ছিপছিপে, কার মেকআপ কম সেটা না, সমস্যাটা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।
একটা অদ্ভুত মানসিকতা ধীরে ধীরে সমাজে জায়গা করে নিয়েছে।
যেখানে একজন নারী বয়সকে যেভাবে গ্রহণ করবেন, সেটাকেই আদর্শ বানিয়ে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিপাশা হায়াত যদি নিজের সাদা চুল, স্বাভাবিক বয়স এসবকে গ্রহণ করেন, সেটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ, তার স্বাচ্ছন্দ্য।
কিন্তু সেই পছন্দকে মাপকাঠি বানিয়ে অন্য নারীদের বিচার করা এটা আসলে প্রশংসা না, এটা নিয়ন্ত্রণের আরেক রূপ।
একইভাবে, জয়া আহসান যদি নিজেকে ফিট রাখেন, স্টাইলিশ থাকেন, কিংবা নিজের মতো করে ইয়াং অনুভব করতে চান, তাহলে সেটাও তার অধিকার।
বয়স বাড়লেই কেন একজন নারীকে নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢুকে যেতে হবে?
কেন তার সাজ, পোশাক, এমনকি নিজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছু সমাজ ঠিক করে দেবে?
সবচেয়ে বড় সমস্যার বিষয় হলো এই তুলনাটা।
একজনকে তুলে ধরতে গিয়ে আরেকজনকে ছোট করা।
একজন স্বাভাবিক, কারণ তিনি বয়স মেনে নিয়েছেন,
আরেকজন অস্বাভাবিক, কারণ তিনি নিজেকে ধরে রাখতে চান।
এই বিভাজনটা আসলে কতটা যুক্তিযুক্ত?
সত্যি বলতে, এখানে প্রশংসার আড়ালে একটা সূক্ষ্ম চাপ কাজ করে, তুমি এমন হও, না হলে তুমি ভুল, তুমি খারাপ।
কেউ সাদা চুলে স্বাচ্ছন্দ,
কেউ রঙ করে ভালো লাগে।
কেউ মেকআপ ছাড়াই স্বস্তিতে,
কেউ সাজতে ভালোবাসে।
এই ভিন্নতাই স্বাভাবিক।
সমালোচনা যদি করতেই হয়, তাহলে এই দ্বিমুখী মানসিকতারই করা উচিত।
যেখানে একজন নারীর স্বাধীন পছন্দকে আরেকজনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।
কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ,
নারী কি নিজের মতো করে বাঁচতে পারবে?
নাকি তাকে সবসময় অন্যের পছন্দ অনুযায়ী বদলাতে হবে?

error: Content is protected !!