বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামে বিসিক উদ্যোক্তা মেলার নামে বাণিজ্য মেলা পরিচালনা সহ নানা অভিযোগ

MD.Ruhul Amin (Ruku)
MD.Ruhul Amin (Ruku) - Kurigram District Reporter, Kurigram District প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:৪১ পিএম | 121 বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামে বিসিক উদ্যোক্তা মেলার নামে বাণিজ্য মেলা পরিচালনা সহ নানা অভিযোগ

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বাণিজ্য মেলায় রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিসিকের স্থানীয় উপব্যবস্থাপকের কারসাজিতে মেলা পরিচালনার সুযোগ নিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কয়েক লাখ টাকা।

বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের তথ্যানুসন্ধানের পর স্থানীয় প্রশাসন মেলায় বসানো সব বাণিজ্যিক রাইড বন্ধের নির্দেশ দিলেও অন্যান্য কার্যক্রম চলমান ছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২৭ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের হাতে তৈরি হস্ত ও কুটির শিল্প সামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রয়ের কথা থাকলেও মেলায় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি খুবই কম। অধিকাংশ স্টল ভরা সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্যদ্রব্যে। অনেক স্টলে সাইনবোর্ড নিচে নামিয়ে রাখা হয়েছে অজ্ঞাত কারণে।

এছাড়া দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্টলের সামনে ভেজা পোশাক শুকানোয় মেলায় আসা নারী উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীরা পড়ছেন অস্বস্তিতে।

মেলার জন্য সরকারি বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ২০টি স্টল। মোট ৯৮টি স্টলের বাকি ৭৮টি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে নিবন্ধনহীন ব্যবসায়ীদের হাতে। সাভার, রাজশাহী, ঢাকা, চাঁদপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতিদিন ১–২ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। যদিও সরকারি হিসেবে প্রতিটি অনিবন্ধিত স্টলের ভাড়া জমা দেওয়ার কথা ৩ হাজার টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, এসব ৭৮টি স্টল একাধিক দালালের মাধ্যমে ‘শ’ নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয় ৮–১০ হাজার টাকায়। যারা একাধিক স্টল পেয়েছেন, তাদের দিতে হয়েছে ২০–২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এসব হিসাব মিলিয়ে বিসিক উপব্যবস্থাপক আগাম হিসেবে পকেটস্থ করেন প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। রংপুর ও লালমনিরহাটের তিস্তা এলাকায় ‘শ’ নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করে এসব অর্থ গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে। এ কাজে তার বিশেষ সহকারী সুমন মিয়া সহযোগিতা করেছেন।

মেলার ভেতরের স্টল থেকে প্রতিদিন ১–২ হাজার টাকা তুলছেন বিসিকের আরেকজন কর্মী ও একটি মধ্যস্থতাকারী চক্র। এছাড়া নৌকা, ট্রেন, বক্সিং পয়েন্টসহ কয়েকটি রাইড থেকেও উপব্যবস্থাপকের পকেটে ঢুকছে মোটা অংকের টাকা। নাইটগার্ড থাকা সত্ত্বেও এসব স্টলে চুরির অভিযোগ করেছেন অনেক দোকানদার। তাদের দাবি, জামদানী শাড়ি, থ্রি–পিস, আংটিসহ নানা মালামাল চুরি গেছে।

মেলায় ঘুরতে আসা স্থানীয় দম্পতি আশিকুর ও রত্না বলেন, “হস্ত ও কুটির শিল্পের প্রদর্শনী দেখতে এসেছি। কিন্তু এখানে যে ধরনের পণ্যের স্টল আছে, তা দেখে বোঝা যাচ্ছে না—এটি উদ্যোক্তা মেলা, না বাণিজ্য মেলা।”

স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, বার্ষিক পরীক্ষার সময় স্কুলসংলগ্ন স্থানে বাণিজ্যিক মেলা তাদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর।

সুজন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি খন্দকার খায়রুল আনাম বলেন, “মেলা নিয়ে যথাযথ প্রচারণা হয়নি। অনেক স্থানীয় উদ্যোক্তাই জানেন না মেলা হচ্ছে। পরীক্ষার সময়ে স্কুলের পাশে এমন মেলা অযৌক্তিক। এছাড়া দূরদূরান্তের ব্যবসায়ীদের টাকা নিয়ে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও গুরুতর। বিষয়টি প্রশাসনের তদন্ত করা উচিত।”

অভিযোগ সম্পর্কে উপব্যবস্থাপক শাহ মোহাম্মদ জোনায়েদ বলেন, “বাইরের উদ্যোক্তাদের আসায় কোনো বাধা নেই। স্থানীয়রা আগ্রহী না হওয়ায় তাদের ডাকা হয়েছে। আমরা তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিইনি। আমি ঢাকায় মিটিংয়ে আছি, ফিরে কথা বলব।”

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “মেলায় কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি কাম্য নয়। আপনারা যা যা জানালেন তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অবৈধ পুকুর খননের সংবাদ করতে গিয়ে তাড়াশে সাংবাদিক লাঞ্ছিত,থানায় অভিযোগ দায়ের

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
অবৈধ পুকুর খননের সংবাদ করতে গিয়ে তাড়াশে সাংবাদিক লাঞ্ছিত,থানায় অভিযোগ দায়ের

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে অবৈধ পুকুর খননের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার সগুনা গ্রামের বাসিন্দা ও দৈনিক চলনবিল প্রবাহ পত্রিকার সাংবাদিক রাশিদুল হাসান (৩২) গত ৪ মার্চ ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার গুল্টা এলাকায় অবৈধ পুকুর খননে উপজেলা প্রশাসনের একটি অভিযানের সংবাদ সংগ্রহে যান। তার সঙ্গে ছিলেন দৈনিক শ্যামল বাংলা ও দৈনিক তৃতীয় মাত্রা পত্রিকার সাংবাদিক খালিদ হাসান।

‎সংবাদ সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটে তাড়াশ থানাধীন ধোপাগাড়ি বাজার এলাকায় পৌঁছালে ঠিকাদার মো. রাজু আহমেদ (৫৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন তাদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

‎ভুক্তভোগীদের দাবি, এ সময় তাদের মারধর করা হয় এবং ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে চেয়ার দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে হাত তুলে বাধা দিলে রাশিদুল হাসানের হাতে ও মাথায় আঘাত লাগে। এতে তার হাতে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে রক্তপাত হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে শাবল ও লোহার রড নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

‎ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা তাড়াশ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারা হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

‎এ বিষয়ে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎উল্লেখ্য, তাড়াশ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীন পুকুর খননের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব খননের ফলে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অবৈধ খনন বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি জরুরি।

‎সচেতন মহল মনে করছেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন। অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

তাছলিমা আক্তার মুক্তা

ফুলকে ভালোবাসো

তাছলিমা আক্তার মুক্তা প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১:৫৯ পিএম
ফুলকে ভালোবাসো

ফুলের মতো সুন্দর হয়ে
ফোটলে গাছে গাছে ,
কত্ত পাখি আসতো কাছে
আমায় ভালোবাসে ।

মানুষ গুলোও বাসতো ভালো
আসতো আমার কাছে ,
নানা রঙের সুভাষ ছড়িয়ে
থাকতাম তাদের পাশে ।

পাখির সাথে করতাম খেলা
হাওয়ার তালে তালে ,
ভালোবেসে ছোট্ট শিশুকে
চুমু দিতাম গালে ।

কলি হয়ে ফোটাতাম আমি
সোনালী রোদ্দুরে
ভীষণ খুশি থাকতাম মোরা
এই পৃথিবী জুড়ে ।

ছিরো না কেউ ফুল কখনো
ফুলের বাগান থেকে ,
সারাজীবন ফুলরা তোমাদের
সুভাষ যাবে মেখে ।

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী

গোদাগাড়ীতে অসহায় প্রতিবন্ধী বিধবার জমি দখলের চেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১:২৭ পিএম
গোদাগাড়ীতে অসহায় প্রতিবন্ধী বিধবার জমি দখলের চেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মাদারপুর ডিমভাঙ্গা এলাকায় এক অসহায় শারীরিক প্রতিবন্ধী বিধবা নারীর বসতভিটা দখলের চেষ্টা ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোসা. সাবেরা খাতুন তার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদারপুর গ্রামের মৃত আলতাব হোসেনের মেয়ে মোসা. সাবেরা খাতুন তার বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া রেলওয়ের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। নিঃসন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী প্রভাবশালী মো. শাজাহান আলী ও তার চার ছেলে এসরাইল, ইউসুফ, খালেক ও মোসাহাক ওই জায়গাটি লিখে দেওয়ার জন্য তাকে দীর্ঘকাল ধরে চাপ দিয়ে আসছে।
​জায়গা দিতে অস্বীকার করায় বিবাদীপক্ষ তার ওপর অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাবেরা খাতুন জানান ​তার বাড়ির সামনে মলমূত্র ও গোবর ফেলে পরিবেশ দূষিত করা হচ্ছে।
​ড্রেন বন্ধ করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
​গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
​সরকারি টিউবওয়েল দখল ও জনভোগান্তি
​স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত শাজাহান আলী ও তার ছেলেরা সরকারিভাবে প্রাপ্ত একটি টিউবওয়েল নিজেদের দখলে নিয়ে ঘিরে রেখেছে। ফলে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ খাবার পানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। পানি নিতে গেলে স্থানীয়দের সাথেও দুর্ব্যবহার ও হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসী।

​প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ
​ভুক্তভোগী সাবেরা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ, আমার কেউ নেই। তারা আমার বাড়িতে তালা মেরে আমাকে বের করে দিতে চায়। আমি থানা ও পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি অনেক আগে, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি। আমি এখন প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছি।
​এলাকাবাসীর মতে, একজন সহায়-সম্বলহীন নারীর ওপর এমন আচরণ চরম অমানবিক। দীর্ঘদিন অভিযোগ পড়ে থাকলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

​বর্তমানে সাবেরা খাতুন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন। তিনি তার বসতভিটা রক্ষা এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

এই বিষয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউসুফ আলীর সঙ্গে ফোনে তার কথা বললে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন ।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানতে চাইলে প্রশ্নের জবাবে
তিনি সাংবাদিককে বলেন কি ভুলভাল বকছেন, এবং সাংবাদিককে বলে নিউজ করলে দেখে নেব ‌এমন হুমকি প্রদান করে।

error: Content is protected !!