শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২
শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২

পাল্টা হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৪, ১২:৫৪ এএম | 113 বার পড়া হয়েছে
পাল্টা হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল

ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেহরানের রাস্তায় লোকজন উৎসব করছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন ‘ইরান বড় ভুল করেছে এবং এজন্য তাকে মূল্য দিতে হবে’।

ইসরায়েলের সহযোগীরা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইসরায়েলের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত থাকবে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুদ্ধবিরতির আহবান জানিয়েছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বুধবার বৈঠকে মিলিত হবে।

ইরান বলেছে, ইসরায়েল যদি পাল্টা হামলা চালায়, তাহলে ইসরায়েলের সব অবকাঠামোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে।

বিবিসির সিকিউরিটি করেসপন্ডেন্ট ফ্রাঙ্ক গার্ডনার লিখেছেন, ইরান গত এপ্রিলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক সহযোগীরা দেশটিকে যেভাবে ধৈর্য ধারণের আহবান জানিয়েছিলো এবার তেমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ইসরায়েলের এখনকার কৌশল হলো এক সাথে দু’ভাবে এগুনো: হত্যা, বিমান হামলা ও প্রতিরোধ- যার মাধ্যমে ইরান ও ছায়াশক্তিগুলোকে বুঝিয়ে দেয়া যে ইসরায়েলে আঘাত করলে আরও বেশি শক্তির মুখোমুখি হতে হবে।

সাবেক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা আভি মেলামেদ বলেছেন, “ইরানের হামলা হলো ইসরায়েলকে বড় ধরনের পাল্টা হামলার জন্য উস্কানি দেয়া…আমরা ইরানি লক্ষ্যবস্তু গুলোতে উল্লেখযোগ্য ও তাৎক্ষণিক ইসরায়েলি জবাব দেখতে পাবো”।

ইরানে হামলার জন্য দীর্ঘদিনের একটি পরিকল্পনা ইসরায়েলের হাতে থাকবে। এর প্রতিরক্ষা প্রধান এখন পর্যালোচনা করে দেখবেন কখন ও কীভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিতে আঘাত করবেন।

এর মধ্যে অবশ্যম্ভাবী সামরিক লক্ষ্যবস্তু হবে স্থলভাগে যেখান থেকে মঙ্গলবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।

সুতরাং ফায়ারিং এর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র যেখানে রাখা হয়েছে শুধু সেই জায়গা নয় বরং কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, এমনকি রিফুয়েলিং সেন্টারগুলোও এর আওতায় থাকবে।

এমনকি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিয়েছে যারা এবং যারা এটি পরিচালিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে ইরানের অভ্যন্তরেই গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে পারে ইসরায়েল। আর যদি দেশটি আরও বেশি কিছু করতে চায় তাহলে তারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করতে পারে।

যে পথেই এগুক ইসরায়েল, এতেও ইরানের পাল্টা হামলা অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে এবং এর মাধ্যমে দেশ দুটি হামলা ও প্রতিশোধে চিরস্থায়ী এক চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়বে।

গত এপ্রিলে ইসরায়েল যেভাবে ইরানের হামলার জবাব দিয়েছিলো তার চেয়ে এবার আরও অনেক বেশি শক্তি নিয়ে আক্রমণ করতে প্রলুব্ধ হবে দেশটি।

ওই সময় ইসরায়েলকে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত রাখতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলার পর তিনশর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ইসরায়েলকে টার্গেট করে ছুঁড়েছিল ইরান।

শেষ পর্যায়ে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার কাছে ছোট কিন্তু প্রতীকী হামলা করেছিলো। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো কম কিন্তু ইরানকে তারা দেখিয়েছে যে চাইলে তারা কোথায় পৌঁছাতে পারে।

এবার হয়তো এর থেকে ভিন্ন হবে পরিস্থিতি। ইসরায়েল সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চল জুড়ে তার কর্মকাণ্ডকে বিবেচনা করে তার শত্রু ও হুমকিগুলোকে নিশ্চিহ্ন করা।

ইরান যেমন মনে করেছে যে জুলাইয়ে তেহরানে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া ও কয়েকদিন আগে হেজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ হত্যার জবাব দিতে হবে, ইসরায়েলও তেমনি ইরানের সরাসরি আক্রমণ নিয়ে চুপ করে থাকবে না।

এমনকি এর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা থেকে শুরু করে মঙ্গলবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যেখান থেকে হয়েছে কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রাখা ও যেখান থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছে রিভল্যুশনারি গার্ডের ঘাঁটি পর্যন্ত।

ইসরায়েলে সরাসরি সামরিক হামলার জন্য ইরানকে ‘কঠোর পরিণতির’ হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে জোর দিয়েছে।

হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছেন এ বিষয়ে ইসরায়েলের সাথে একযোগে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওই অঞ্চল এখন উত্তেজনা – পাল্টা উত্তেজনার একটি চক্রে পড়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত কয়েকমাস ধরে তা এড়ানোর চেষ্টা করছিলেন যাতে গাজা যুদ্ধ ছড়িয়ে না পড়ে। এর মাঝে আবার ইসরায়েলকে নিরবচ্ছিন্ন অস্ত্র সরবরাহ করে গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন ওই অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি ও প্রতিরোধ- দুটোই চালিয়ে গেছে।

এখন ইসরায়েলে ইরানের হামলার জবাবেও তারা সেটি বহাল রাখবেন বলে তিনি জানান।

কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে জি আর (চাল) বিতরণ

শরিফুজ্জামান শান্ত, লালমনিরহাট কালীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি। প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩০ পিএম
কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে জি আর (চাল) বিতরণ

দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে প্রাপ্ত সাম্প্রতিক সময়ে আদিতমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে জিআর (চাল) বিতরণ করেন লালমনিরহাট-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব রোকন উদ্দিন বাবুল মহোদয়।

আমরা স্ব উদ্যোগে সরেজমিনে এসেছি সকল মতের মানুষের স্বার্থে — প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান

মাহিদুল ইসলাম হিমেল হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২২ পিএম
আমরা স্ব উদ্যোগে সরেজমিনে এসেছি সকল মতের মানুষের স্বার্থে — প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় চলমান নৌ-যান ও ফেরি সংকট নিরসনে সরেজমিন পরিদর্শনে এসে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেছেন, “আমরা স্ব উদ্যোগে সরেজমিনে এসেছি সকল মতের মানুষের স্বার্থে। দলমত নির্বিশেষে সবার উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য।”

শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে হাতিয়ার নলচিরা চৌঘাট পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলস্রুতিতে আমরা নিজ দায়িত্ব থেকে হাতিয়ার মানুষের পথ চলা সহজ করতে সমস্যাসমূহ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, হাতিয়ার উভয় পাশের ফেরিঘাট আরও প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই একটি নতুন ফেরি যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। নদীর নাব্যতা স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ফেরি চলাচল আরও নিরাপদ ও টেকসই করতে ঘাটের র‍্যাম্প উন্নয়ন এবং দুই পাশের নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এছাড়াও নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের আরও কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকসহ স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মানুষ।

যশোরে তরুণীর সংবাদ সম্মেলন: প্রেম, ধর্ষণ ও বিষ খাইয়ে হত্যাচেষ্টার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টার: প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৯ পিএম
যশোরে তরুণীর সংবাদ সম্মেলন: প্রেম, ধর্ষণ ও বিষ খাইয়ে হত্যাচেষ্টার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রেম ও বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যশোরে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে ভুক্তভোগী নারী বিষ খাইয়ে তাকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, অন্যদিকে প্রতিপক্ষ একে ১০ লাখ টাকার ‘চাঁদা না পেয়ে সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছে।

শনিবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের চিত্র ফুটে ওঠে।
অভয়নগর উপজেলার পোতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সোনিয়া আক্তার দিয়া (২৫) জানান, তার এই সংকটের শুরু ২০১৪ সালে। ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া যশোর শহরের চোপদারপাড়া এলাকার এহসান আহমেদ ফয়সালের সাথে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সোনিয়ার অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফয়সাল তাকে কুয়াকাটায় নিয়ে একটি হোটেলে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ফয়সাল বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের মে মাসে তিনি কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।

সোনিয়া আরও অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় ফয়সালের পরিবার তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে দেয়। পরে তাকে রাস্তায় ফেলে রাখা হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তাকে এসিড নিক্ষেপ ও গুমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার ভাইকেও পুলিশ দিয়ে আটক করানো হয়েছে।

‘১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে মনগড়া গল্প’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সোনিয়ার কথাবার্তায় কিছু অসংলগ্নতা ধরা পড়লে বিষয়টি ভিন্ন মোড় নেয়। এদিকে অভিযুক্ত ফয়সালের ভগ্নিপতি ব্যবসায়ী আইয়াজ উদ্দিন রিপন সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, এটি একটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো অভিযোগ।

তাদের দাবি, সোনিয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফয়সালের পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। টাকা না পেয়েই মানহানির উদ্দেশ্যে এই নাটক সাজানো হয়েছে এবং রাজনৈতিক নেতাদের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, তাদের কাছে টাকা দাবির ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে।ধর্ষণ মামলা থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টার মামলা এবং সবশেষে সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি বর্তমানে জেলাজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে এখন পুলিশি তদন্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।

error: Content is protected !!