শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২
শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২

মো. শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

বিংশ শতকের আধ্যাত্মিক মহাবিশ্বের উজ্জ্বল নক্ষত্র গাউসুল আযম হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (রহঃ)

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:০৮ এএম | 181 বার পড়া হয়েছে
বিংশ শতকের আধ্যাত্মিক মহাবিশ্বের উজ্জ্বল নক্ষত্র গাউসুল আযম হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (রহঃ)

বাংলার আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এমন কিছু অমর ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যাদের নূরের ছায়ায় শুধু একটি দেশ নয়— গোটা বিশ্ব মানবতার আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছে। তেমনই এক মহান অলির নাম গাউসুল আযম হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (রহঃ) — যিনি ছিলেন বিংশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুফি সাধক, তরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার দীপ্তিমান নক্ষত্র এবং প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ২৮তম বংশধর।

১৮৬৫ সালে (১২৭০ বঙ্গাব্দের ২৯ আশ্বিন) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির পবিত্র মাইজভাণ্ডার গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন গাউসুল আযম সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ)-এর ভাইয়ের পুত্র। তার পূর্বপুরুষ হযরত সৈয়দ হামিদউদ্দিন গৌরী (রহঃ) ১৫৭৫ সালে আরব থেকে বাংলায় আগমন করেন এবং বাংলার গৌড় রাজ্যের প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তার বংশধরগণ চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এই গ্রাম থেকেই জন্ম নেয় ‘তরিকা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া’ — যা আজ বিশ্বজুড়ে আধ্যাত্মিকতার প্রতীক।

শৈশব থেকেই তার মাঝে অলৌকিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যেত। দোলনায় কেউ না দোলালেও তা নিজে থেকেই দুলত, মুখমণ্ডল থেকে বিচ্ছুরিত হতো নূরের জ্যোতি। এমনকি অমুসলিমরাও তার আভায় মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করতেন। তার জন্মের পর গাউসুল আযম আহমদউল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) বলেন—“এই শিশু আমার বাগানের শ্রেষ্ঠ প্রস্ফুটিত গোলাপ। ইউসুফ (আঃ)-এর মতো সৌন্দর্য তার চেহারায় বিরাজমান।”

তার আগমনে গ্রামজুড়ে বরকতের ধারা নেমে আসে— ফলন বৃদ্ধি পায়, পশুপাখির দুধ বাড়ে, মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে— “এই শিশু খোদার রহমত।”

তিনি ফটিকছড়ির ফোরকানিয়া মাদরাসায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষে চট্টগ্রাম মুহসেনিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন। ছাত্রাবস্থায় গভীর রাতেও তাকে মসজিদে নামাজে মগ্ন দেখা যেত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান— তার পেছনে সাদা পোশাকধারী অদৃশ্য ব্যক্তিরা নামাজ পড়তেন, যাদের ফেরেশতা বলে ধারণা করা হয়।

২৫ বছর বয়সে পরীক্ষার সময় তিনি গভীর আধ্যাত্মিক অবস্থায় পৌঁছান— জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর তাকে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে আনা হয়, যেখানে তার আধ্যাত্মিক জাগরণের সূচনা ঘটে।

গাউসুল আযম আহমদউল্লাহ্ (কঃ)-এর নির্দেশে তিনি একদিন পাহাড়ের গহীনে চলে যান এবং সেখানে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে জিকির, ধ্যান ও মুনাজাতে মগ্ন থাকেন। তার ধ্যানস্থ স্থানে জ্যোতি বিচ্ছুরিত হতো, বন্য প্রাণীরাও তার আশপাশে শান্তভাবে বসে থাকতো। তার অলৌকিক প্রভাবে অসংখ্য উপজাতি ও অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করেন।

আজও খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ে তার সাধনাস্থলসমূহ পবিত্র স্থান হিসেবে পূজিত— যেখানে লাখো আশেকান নিয়মিত যিয়ারতে আসেন।

১২ বছর পর দরবারে ফিরে এসে তিনি দীর্ঘদিন নীরব থাকতেন। কথা না বলেও তার দোয়া ও ইশারায় হাজারো মানুষ সমস্যামুক্ত হতো, রোগমুক্ত হতো, ঈমানের পথে ফিরতো। তার দোয়ার বরকতে শত শত অলিয়ায়ে কামেল জন্ম নিয়েছেন, যাদের মাধ্যমে আজও বিশ্বজুড়ে মানবতার বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে।

গাউসুল আযম বাবাভাণ্ডারী (রহঃ)-এর তরিকায় প্রতিফলিত হয় “স্রষ্টাকে ভালোবাসো, সৃষ্টির সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দাও” — এই মহান দর্শন। এই তরিকার মূল বার্তা ছিল মানবপ্রেম, সহমর্মিতা, শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব। তার শিক্ষা আজও কোটি আশেকানকে আল্লাহপ্রেমে অনুপ্রাণিত করছে।

ইমামে আহলে সুন্নাত শেরে বাংলা আজিজুল হক আল ক্বাদেরী (রহঃ) তার সম্পর্কে লিখেছেন—“তাহার কারামত লেখনী ও বর্ণনার বাহিরে চলে গেছে।”

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব যেমন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, কবি জসীমউদ্দিন, আহমদ ছফা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ তার আধ্যাত্মিক মর্যাদা সম্পর্কে শ্রদ্ধাভরে মন্তব্য রেখেছেন।

জার্মান অধ্যাপক ড. হ্যান্স হার্ডার লিখেছেন—“The Maijbhandaris of Chittagong — have created a unique humanistic model of modern Sufism.”

১৯৩৭ সালের ৫ এপ্রিল (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ ২২ চৈত্র, ২২ মহররম) তিনি পরম করুণাময়ের সান্নিধ্যে চলে যান। তার জানাযার ইমামতি করেন তার শাহজাদা হযরত সৈয়দ আবুল বশর আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী (কঃ)।

প্রতি বছর তার জন্মবার্ষিকী (২৯ আশ্বিন) ও ওফাত দিবস (২২ চৈত্র) লক্ষাধিক আশেকানদের অংশগ্রহণে মহাসমারোহে পালিত হয়— যা এখন বিশ্বব্যাপী এক বিশাল আধ্যাত্মিক মিলনমেলা।

তার রওজা শরীফ আজও নূরের আলোয় উদ্ভাসিত। যেন হযরত রুমী (রহঃ)-এর বাণী বাস্তব রূপ পেয়েছে—“দেখো, আল্লাহ কিভাবে তার বন্ধুদের স্থানকে আলোকিত করে রেখেছেন! এ আলো কোন সাধারণ আলো নয়— এটি খোদার নূরের আলো।”

গাউসুল আযম সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (রহঃ) শুধু একজন সুফি সাধক নন— তিনি ছিলেন মানবতার স্থপতি, প্রেমের দূত ও আল্লাহর নূরের প্রতীক। তার জীবন আমাদের শেখায়—“আল্লাহকে ভালোবাসো, মানুষকে ভালোবাসো, এবং মানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করো।”

তার তরিকায় মাইজভাণ্ডারীয়া আজও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে শান্তি, ভালোবাসা ও আল্লাহর নূরের বার্তা — যা কোনো কালের জন্য নিভে যাওয়ার নয়।

নাটোরে ১২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারি আটক

মো: রাজিবুল ইসলাম বাবু বিশেষ প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৩ পিএম
নাটোরে ১২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারি আটক

নাটোরে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে নাটোর সদর থানাধীন চকরামপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- রাজবাড়ী সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মৃত কাসেম শেখের ছেলে লিটন শেখ (৪২) এবং নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ছাতিয়ানগাছা মন্ডলপাড়া গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩৫)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় , গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৩টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত শহরের চকরামপুর এলাকায় ইসলামিয়া পচুর হোটেলের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় কুড়িগ্রাম থেকে ফরিদপুরগামী শাহী ক্লাসিক (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৫৩৫৭) নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের দুই যাত্রীর কাছে থাকা স্কুল ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক খন্দকার নাজিম উদ্দিন।

এ ঘটনায় পরিদর্শক খন্দকার নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আটক ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মো: রাজিবুল ইসলাম বাবু
বিশেষ প্রতিনিধি
নাটোর।
০১৩১০-৩২১ ৩০৬.
০১৭৪০-৮১৫ ৫০৬.
৩ এপ্রিল ২০২৬.

সুন্দরবন থেকে অস্ত্র-গুলিসহ দুই বনদস্যু আটক, উদ্ধার ৩ জেলে

রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০২ পিএম
সুন্দরবন থেকে অস্ত্র-গুলিসহ দুই বনদস্যু আটক, উদ্ধার ৩ জেলে

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযানে  অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ  দুই বনদস্যু আটক। এসময় উদ্ধার করা হয় মুক্তি পনের দাবিতে দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা  তিন জেলেকে।
‎শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন, কোস্টগার্ড  পশ্চিমজোন এর মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন ।

‎তিনি জানান,গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত দস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী সদস্যরা সুন্দরবনের বাইনতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে,  শুক্রবার ভোরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা বনের ভেতর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আভিযানিক দল কর্তৃক দস্যুদের ধাওয়া করে। এসময় ২টি একনলা বন্দুক, ২৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১,১০০ টাকাসহ  বন দস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করে তাদের আস্তানা ধ্বংস করা হয়।

‎কোস্টগার্ড জানায়, আটক বন দস্যু মোঃ সোহাগ হাওলাদার (৩৫) বাগেরহাটের শরণখোলা এবং বাবুল সানা (৪২) খুলনার পাইকগাছা থানার বাসিন্দা। উভয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতি করে আসছিল।

‎অপরদিকে, আরও একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের খোল ডাঙ্গ খাল সংলগ্ন এলাকা বনদস্যু জোনাব বাহিনীর আস্তানায় অভিযান চালায় কোস্টগার্ড। এসময় মুক্তিপণের দাবিতে দস্যু বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ৩ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্টগার্ডের অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কোন বন দস্যুকে আটক করতে পারেনি কোস্টগার্ড।

‎এ সময় দস্যুদের আস্তানা থেকে ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৩টি ওয়াকিটকি চার্জার, ৩টি মোবাইল ব্যাটারি ও ১টি কুড়াল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জেলে ইনতাজ (৫০), মোশাররফ (৪২) ও আনিস (৪৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা।

‎আটককৃত ডাকাত, জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় কোস্টগার্ড।

‎কোস্টগার্ড সুত্রে জানাযায়, গত বছরের শুরু থেকে  অদ্যাবধি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে কুখ্যাত করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীর মোট ৬১ জন দস্যুকো আটক  করা হয়েছে। ওই সব অভিযানে  ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩০৮ রাউন্ড ফাঁকা গোলা ও ১,৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি জব্দ এবং দস্যুদের কবল থেকে ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

মাদারীপুর শিবচরে ৩ দিন পর তেল পাম্পে উপচে পড়া ভিড়, কৃষকদের জন্য স্যালাইন-পানির ব্যবস্থা

অপি মুন্সী: শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:- প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৯ পিএম
মাদারীপুর শিবচরে ৩ দিন পর তেল পাম্পে উপচে পড়া ভিড়, কৃষকদের জন্য স্যালাইন-পানির ব্যবস্থা

‎সারাদেশের মত মাদারীপুর জেলার শিবচরেও জালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মোটরসাইকেল চালক,গাড়ি চালকসহ কৃষি কাজেও ব্যাপক সমস্যায় পড়েছে।

‎ শুক্রবার ৩শরা এপ্রিল শিবচরে তিন দিন পর পাম্পগুলোতে তেল আসায় মোটরসাইকেল ও গাড়ির উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে সংগ্রহ করতে হচ্ছে জালানি তেল এতে চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কৃষি কাজে জমি চাষ, সেচ প্রদানের জন্য খেটে খাওয়া গ্রামের বয়স্ক কৃষকদেরও লাইনে দাড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

‎সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় শিবচরের আব্দুল হাকিম খান (এ এইচ কে) ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল, গাড়ি ও কৃষকেরা লাইনে দাড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। তবে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। শৃঙ্খলাভাবে লাইন ঠিক রাখার জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

‎তেল নিতে আসা কৃষক লাভলু হাওলাদার বলেন, এখন ধানে সেচ দিতে হয়,জমি চাষ করতে হয়, ঠিকমত যদি আমরা তেল না পাই তাহলে চাষাবাদ করবো কিভাবে। তিনি আরো বলেন, আমরা যদি জমিতে সময়মত বীজ বপন করতে না পারে,তাহলে খাবো কি? সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।

‎মোটরসাইকেল তেল সংগ্রহ করতে আসা মনির হোসেন বলেন,তিন পর শিবচরে তেল আসছে রৌদ্রের মধ্যে লাইনে দাড়িয়ে আছি তেল নিতে হবে কিছু করার নাই। তিনি বলেন, মোটরসাইকেলে ৩০০ টাকার বেশি তেল দেয় না, এতক্ষণ লাইনে দাড়িয়ে থেকে এত কম তেল না দিয়ে ১ হাজার টাকার দিলে ভালো হত।

‎ এ দিকে আব্দুল হাকিম খান (এ এইচ কে) ফিলিং স্টেশনের পক্ষে থেকে বিনামূল্যে কৃষক ও বয়স্কদের জন্য খাবার পানি ও স্যালাইন সরবরাহ করতে দেখা গেছে।

‎শিবচর হাইওয়ে থানার ওসি জহিরল ইসলাম জানান, তিন দিন পরে শিবচরের ফিলিং স্টেশন গুলোতে তেল আসছে,এ জন্য একটু ভীড় দেখা যাচ্ছে, লাইনে দাড়িয়ে সুশৃঙ্খল ভাবে যাতে সবাই তেল সংগ্রহ করতে পারে সে জন্য আমরা কাজ করছি।

error: Content is protected !!