শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২
শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২

চুয়াডাঙ্গায় ফুয়েল কার্ড, নিয়ম মানছে না কেউ: কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সদস্যরাও দেখছেন না কার্ড

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৯ পিএম | 3 বার পড়া হয়েছে
চুয়াডাঙ্গায় ফুয়েল কার্ড, নিয়ম মানছে না কেউ: কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সদস্যরাও দেখছেন না কার্ড

জ্বালানি তেলের সংকট ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে চুয়াডাঙ্গায় আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হয়েছে ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ কার্যক্রম। তবে সে নিয়ম মানছে না কেউই। তেল পাম্পে জ্বালানির জন্য ভিড় করলেও কার্ড প্রদর্শন করছেন না গ্রাহকরা। এমনকি তেল পাম্প কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সদস্যরাও কার্ড দেখছেন না।

অথচ জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনকে পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ না করার নির্দেশনা রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৩ এপ্রিল থেকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়। সব যানবাহনের চালক বা মালিককে নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড প্রদর্শন করেই তেল নিতে হবে। এ নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, পাম্পে ট্যাগ অফিসার থাকার কথা থাকলেও, কোনো পাম্পে ট্যাগ অফিসার নেই। নিয়ম-কানুন না মেনেই চলছে জ্বালানি তেল সরবরাহ।

সরেজমিনে বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ২২ টি তেল পাম্পে ফুয়েল কার্ড ছাড়াই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও বিভিন্ন পাম্পে ছিল দীর্ঘ লাইন। কেউ কেউ রাত তিনটা থেকে লাইনে অপেক্ষা করে তেল সংগ্রহ করছে। আবার, জেলার কৃষকরা ডিজেল সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁড়িয়েছে।

পাম্পে তেল নিতে আসা এক মোটরসাইকেল চালক তানভির রহমান বলেন, ‘ভোরবেলা এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। দু’ঘন্টা পর পেলাম ৫০০ টাকার অকটেন। তেল নিতে গিয়ে পাম্পে কোনো ফুয়েল কার্ডের ব্যবস্থাপনা দেখলাম না। প্রায় সবাই ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল নিচ্ছে।’

রুহুল আমিন নামে একজন গাড়িচালক বলেন, ‘লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। তেল পেতে অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। প্রশাসনের লোকজন আর পাম্পের চেনাজানা মানুষ এদিক-ওইদিক থেকে ঢুকে তেল নিয়ে যাচ্ছে। আর যারা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে তারা তেল পাচ্ছে না। কষ্ট করে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করলাম। ফুয়েল কার্ডের ব্যবহার তো দেখলাম না।’

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিক উজ জামান বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল ৭:০০ টা থেকে রাত ৮:০০ টা পর্যন্ত জেলার ২২ টি পেট্রলপাম্পে কার্ডধারীদের তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে কৃষিকাজের স্বার্থে ডিজেল সরবরাহে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তেলের অপচয় ও অবৈধ বিক্রি বন্ধ হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে। নিয়ম অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ফুয়েল কার্ডে উল্লেখ রয়েছে গ্রাহক আগে কত তারিখে ও কী পরিমাণ তেল নিয়েছেন; যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। কার্ড পেতে আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন কপি ও ছবি জমা দিতে হয়েছে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ও উপজেলা পর্যায় থেকে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

তাড়াশের তালম সাহেব বাজারে  ইয়াবাসহ জনতার হাতে আটক ২ জন

জহুরুল ইসলাম তাড়াশ  প্রতিনিধি: প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৯ পিএম
তাড়াশের তালম সাহেব বাজারে  ইয়াবাসহ জনতার হাতে আটক ২ জন

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম সাহেব বাজার এলাকায়  ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের তাড়াশ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্দেহজনক চলাফেরা দেখে  (বৃহস্পতিবার)  তালম সাহেব বাজার এলাকায় স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে  ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটককৃত ব্যক্তিদের  হেফাজতে নেয়।

আটককৃতরা হলেন—তাড়াশ পৌরসভার সদর ওয়াবদা বাঁধ এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে বাবু (৪৫) এবং মৃত বাবলু হোসেনের ছেলে বিদ্যুৎ (৩৮)।

এ বিষয়ে তাড়াশ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল জনতার এই উদ্যোগকে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নরসিংদীতে ডাব পাড়াকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

মোঃ মুক্তাদির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
নরসিংদীতে ডাব পাড়াকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

নরসিংদীর পলাশে গাছ থেকে ডাব পাড়াকে কেন্দ্র মামুন মিয়া নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামে এই হত্যা ঘটনা ঘটে।নিহত মামুন মিয়া গালিমপুর গ্রামের মোমেন মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, গত দুই দিন আগে প্রতিবেশি ইসমাঈলের ছেলে আজিজুর ইসলাম মামুনকে দিয়ে বাড়ির পাশের কয়েকটি ডাব গাছ থেকে ডাব পাড়ায়। পরে কিছু ডাব মামুন নিয়ে গেলে তা নিয়ে আজিজুরের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। গতকাল এ নিয়ে সামাজিক ভাবে আপোস মিমাংসা করা হলেও বিষয়টি মানতে নারাজ আজিজুর। পরে আজ সকালে মামুনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আজিজুর তার ভাই হযরত আলীসহ পরিবারের লোকেরা দা,ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল মামুন জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ।

পোরশায় সড়কে রশি টেনে ডাকাতি: বাবা-ছেলেসহ ৪ ডাকাত গ্রেফতার

মর্তুজা শাহাদত সাধন, নওগাঁ প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
পোরশায় সড়কে রশি টেনে ডাকাতি: বাবা-ছেলেসহ ৪ ডাকাত গ্রেফতার

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় সড়কে রশি টেনে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— সাপাহার উপজেলার খোট্টাপাড়া গ্রামের আবু তাহের (৫৬) ও তাঁর ছেলে কামাল হোসেন (২৩), নওগাঁ সদর উপজেলার দোগাছী দক্ষিণপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা (৫৫) এবং মহাদেবপুর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের মোস্তাক আহমেদ (৪৬)।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পোরশা উপজেলার সারাইগাছী-খাট্টাপাড়া ফকিরের মোড় এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দলটি একটি সেতুর ওপর রশি টেনে ছয়জন আরোহীসহ দুটি মোটরসাইকেলের পথরোধ করে। পরে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, একটি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন মোবাইল ফোন এবং ১২৫ সিসির দুটি ডিসকভার মোটরসাইকেল লুটে নেয়।

ডাকাতরা ভুক্তভোগীদের পাশের একটি আম বাগানে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় পরদিন পোরশা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, মামলার তদন্তে নেমে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই ব্যবহার করে মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে। পরবর্তীতে নওগাঁ সদর ও মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে মাদক ও দ্রুত বিচার আইনে দুটি, আবু তাহেরের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ পাঁচটি, কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি এবং মোস্তাক আহমেদের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ আটটি মামলা চলমান রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ডাকাত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

error: Content is protected !!