বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

রূপগঞ্জে টানা বর্ষণে ত্রিশ গ্রামে জলাবদ্ধতায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫, ৯:১৯ পিএম | 101 বার পড়া হয়েছে
রূপগঞ্জে টানা বর্ষণে ত্রিশ গ্রামে জলাবদ্ধতায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

ঢাকার উপকন্ঠের রূপগঞ্জের তিন লাখ বাসিন্দা উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। আকাশে মেঘ জমলেই নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী সেচ প্রকল্পের ভেতরে বসবাসকারীদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এলাকার কোথাও জমেছে হাঁটু সমান পানি। আবার কোথাও কোমর সমান পানি। তারাবো পৌরসভার আভ্যন্তরিণ পানি নিষ্কাশনের খাল সংস্কার করলেই জলাবদ্ধতা নিরসন হবে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন

টানা বর্ষণে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ৩০টি এলাকায় লক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি। জলাবদ্ধতা এখানে স্থায়ী রূপ নিতে যাচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে সেচ প্রকল্প নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের খালগুলো বেদখল হয়ে ভরাট হওয়ার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রচ- দুর্ভোগে রয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার তারাবো, বরপা, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল, মধ্যপাড়া, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, বৌবাজার, বাক্সোর্চা, খালপাড়, ইসলামবাগ, আমলাবো, কালী, আমলাবো মুসলিমপাড়া, ডুলুরদিয়া, গোলাকান্দাইল নতুন বাজার, কান্দাপাড়া, বলাইখা, বিজয়নগর, মদিনানগর, তারাবো পৌরসভার তেঁতলাবো, শান্তিনগর, বাগানবাড়ি, পশ্চিম কান্দাপাড়া, উত্তর মাসাবো, যাত্রামুড়া, রূপসী ও ভুলতা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, সোনাবো, পাঁচাইখা ও ইসলামপুরসহ আশপাশের এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। পানিবন্দি এসব এলাকার ৫০ হাজার মানুষ। কারো কারো বাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পরিমাণ। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। গবাদি পশু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। বাড়িতে পানি ওঠায় কেউ কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেউ কেউ বাঁশের মাচার ওপর বসবাস করছে। কয়েকটি শিল্পকারখানায়ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে গেছে। শিল্পকারখানার নির্গত কেমিক্যাল ও দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানিতে সয়লাব অনেক এলাকা। এতে রোগাক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন বয়সি মানুষ।

১৯৮৪ সালে ৯০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে নারায়রগঞ্জ-নরসিংদী অগ্রনী সেচ প্রকল্প-১ ও পরে ১৯৯৩ সালে ১শ’ ১ কোটি ব্যয়ে শীতলক্ষ্যার পূর্ব পাড়ের ৫ হাজার হেক্টর জমি ঘিরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ হওয়ার ক’বছর বাদেই এখানে শুরু হয় জলাবদ্বতা। জনবসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দুর্ভোগও।

৯০ দশকের পর নিয়মবহিভূর্তভাবে অগ্রনীর ভেতরে মিল-কারখানা গড়ে উঠলে অগ্রনী পরিনত হয় আবাসিক ও শিল্প এলাকায়। সেই থেকে দুর্ভোগ চরমে উঠে মানুষের। বসতি আর কারখানার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিবছর বাড়ে জলাবদ্বতাও।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সংস্কারকাজের বর্জ্য ফেলে পানি নিষ্কাশনের খাল বন্ধ করে দেওয়ায় তারাবো আল-ফালাহ জামে মসজিদ ও কবরস্থানেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নামাজ পড়তে মসজিদে যেতে সমস্যা হচ্ছে। কবরস্থানেও লাশ দাফন করা যাচ্ছে না। তারবো আল-ফালাহ জামে মসজিদের

গোলাকান্দাইল গ্রামের ইব্রাহিম মিয়া বলেন, খাল খননের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বহু আবেদন ও নিবেদন করেও কোনো ফল হচ্ছে না।

গোলাকান্দাইল মধ্যেপাড়া গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী নাঈম মিয়া বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে নিম্নআয়ের মানুষদের সমস্যা হচ্ছে বেশি। শিল্পকারখানার নির্গত বর্জ্যে পানি নিষ্কাশন খালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্পকারখানা থেকে নির্গত কেমিক্যালযুক্ত পানি জমে থাকা পানিতে এসে মিশছে। আর কুচকুচে কালো বিষাক্ত এই পানিতে হাঁটাচলা করতে গিয়ে মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কীটপতঙ্গ, মাছ মরে গিয়ে জীববৈচিত্র্য হুমকির ত্রুখে পড়ছে।

দক্ষিণপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলী বলেন, আমাদের বাড়িঘরে হাঁটুসমান পানি উঠেছে। ঘর থেকে বের হতে পারছি না। চুলায় আগুন জ্বালাতে পারি না। বিশুদ্ধ পানি নেই। জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ির অনেক ভাড়াটিয়া এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। গোলাকান্দাইল এলাকার শিক্ষক রতন লাল বলেন, শিল্পাঞ্চল হওয়ায় রূপগঞ্জে জমির দাম বেশি। তুলনামূলকভাবে নিচু জমির দাম কম। তাই অনেকেই নিচু অঞ্চলে কম দামে জমি ক্রয় করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করছেন। আর সে কারণেই নির্মিত ঘরবাড়িতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে দ্রুত প্রদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তারাবো পৌরসভার শান্তিনগর গ্রামের রওশন আলী বলেন, ১৪-১৫ বছর ধরে এখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে আমাদের বাঁচতে হচ্ছে। বানিয়াদী এলাকায় সুইজগেট থাকলেও সেখানে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সময়মতো মেশিন চালু না রাখায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পাম্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

মৈকুলি গ্রামের মোহাম্মদ মেহেদী হাছান বলেন বলেন, বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। একের পর এক প্রকল্প ঘোষণা হলেও বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে দুর্ভোগকে মেনে নিচ্ছে। অনেকেই বলছেন, জলাবদ্ধতা যেন আমাদের নিয়তি হয়ে গেছে।

বরপা গ্রামের মুনছুর আলী বলেন, বৃষ্টি শুরু হলেই দুশ্চিন্তা শুরু হয়। কোমর পানি পার হয়ে বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাতে হয়। দোকানে পানি, অফিসে পানি জীবনটা যেন থমকে যায়। কিন্তু সমস্যার কোনো সমাধান নেই।

বরপা বাগানবাড়ি গ্রামের জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা প্রায় প্রতি বর্ষায় পানির নিচে ডুবে থাকি। একটু বৃষ্টি হলেই শান্তি নগর শান্তিতে থাকে না। রাস্তা-ঘাট, ঘরের উঠানসহ সব জলে ভরে যায়। স্কুলগামী শিশু, অফিসগামী মানুষ, রোগী সবাই ভোগান্তিতে পড়ে।

রূপসী কাহিনা গ্রামের মাহমুদুল হাসান ইমন বলেন, জলাবদ্ধতার পানি শুধু চলাচলে অসুবিধা নয়। একেকটা রোগের উৎস হয়ে উঠছে, বিশেষ করে চর্মরোগ, এলার্জি, ঘা, চুলকানি লেগেই থাকে।

রূপগঞ্জে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আক্তার হোসেন বলেন, খাল-বিল ভরাট হওয়া, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও অচল পাম্পমেশিন এই তিনটি কারণেই মূলত জলাবদ্ধতা হচ্ছে। আপাতত আমরা নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছি জলাবদ্ধতা নিরসনে জন্য আশা করি যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করবো।রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, রূপগঞ্জের বিভিন্ন জায়গা থেকে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। আমি গত ১১ মাসে ৮টি খাল পুনরুদ্ধার করেছি। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন ও ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক রাকিবুল আলম রাজিব বলেন, রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলো এখানকার অধিকাংশ খাল দখল হয়ে গেছে। বিশেষ করে তারাবো পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের খালগুলো এখন নানা শিল্প গ্রুপের দখলে। ফলে পানি বের হতে পারছে না, আর জলাবদ্ধতা এখন স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড চেষ্টা করছে দখল হওয়া খালা উদ্ধার করতে। যাতে স্বাভাবিক পানি নিস্কাশনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা যায়।

SIRAJUL KABIR BULBUL

উখিয়া উপজেলা পরিষদের প্রশাসক পদে আলোচনায় উখিয়া উপজেলা বি এন পি সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী

SIRAJUL KABIR BULBUL প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১:২৬ পিএম
উখিয়া উপজেলা পরিষদের  প্রশাসক পদে আলোচনায় উখিয়া উপজেলা বি এন পি সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী

তাছলিমা আক্তার মুক্তা

মেলেনি ঈদের ছুটি

তাছলিমা আক্তার মুক্তা প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১:২৪ পিএম
মেলেনি ঈদের ছুটি

গোলাপি আপার মনটা খারাপ
মেলেনি ঈদের ছুটি ,
গার্মেন্টেসের চাকা সচল রাখতে
চেপে ধরছেন টুটি ।

বেশি টাকার দিচ্ছেন ওফার
গার্মন্টসের কর্মকর্তা ,
মেশিনটা সচল রাখতে হবে
দায়িত্ব তাদের উপরবর্তা ।

ছোট ছোট ছেলে মেয়ে বাসায়
কে রাঁধিবে সেমাই ,
বছর কয়েক আগে স্বামী ছেড়ে
একলা জীবন কাটাই ।

আরেকটা নারী বিয়ে করে এখন
সুখের আছেন স্বামী ,
মায়ের কাছে সন্তানের ভবিষ্যত
আর বর্তমান সুখটা দামী।

সব পুরুষ জাতি সন্তান ছেড়ে
বাঁধতে পারেন নতুন ঘর ,
ক্ষমতার জোরে ছাড়তে পারে
স্ত্রী সন্তান করতেপারে পর ।

মা পারেনি সন্তান ফেলে রেখে
নিজের সুখটা ভাবতে ,
ঈদের দিনেও কামলা খাটে
সন্তানকে সুখে রাখতে ।

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কামরুন তানিয়া

পেকুয়ায় মা–মেয়েকে অবৈধভাবে সাজা প্রদানকারী ইউএনও’র শাস্তিমুলক বদলি

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কামরুন তানিয়া প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১:২৩ পিএম
পেকুয়ায় মা–মেয়েকে অবৈধভাবে সাজা প্রদানকারী ইউএনও’র শাস্তিমুলক বদলি

কক্সবাজারের পেকুয়ায় মা-মেয়েকে অবৈধভাবে সাজা প্রদানকারী পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম মাহবুবকে শাস্তিমুলক বদলি করা হয়েছে। তাকে পার্বত্য জেলা বান্দরবান এর রুমা উপজেলার ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে রুমা উপজেলার ইউএনও মো. এমদাদুল হক শরীফকে পেকুয়া উপজেলার ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পেকুয়ায় মা–মেয়েকে অবৈধভাবে পেকুয়া থানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অবৈধভাবে সাজা দেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম প্রতিবাদ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং এর জেরে চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের তদন্তের ভিত্তিতে শাস্তিমুলক বদলি হিসাবে ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুবের এই বদলির আদেশ জারি করা হলো।

error: Content is protected !!