একজন শিক্ষকের হাতে গড়া শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান: বেলাল উদ্দীন প্রাং-এর আদর্শ নেতৃত্ব
শিক্ষা মানুষ গড়ার মাধ্যম, আর সেই কারিগর যদি হন মানবিক, দায়িত্বশীল ও মমতাময়, তাহলে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন বদলে যায়, তেমনি বদলে যায় শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। তেমনই একজন শিক্ষক হলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কাহালু উপজেলা শাখার সম্মানিত সভাপতি ও কাহালু তইরুন্নেছা (পাইলট) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বেলাল উদ্দীন প্রাং।
তিনি শুধু একজন প্রধান শিক্ষক নন, একজন নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবক, একজন আলোকবর্তিকা যিনি নিজের আদর্শ, নিষ্ঠা ও ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাঁর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর মমতা, আর সততা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে পুরো প্রতিষ্ঠানটিই যেন বদলে গেছে।
প্রতিদিন সকালে বিদ্যালয়ের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে থাকা একজন প্রধান শিক্ষক, যিনি একে একে প্রবেশ করা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের মতো স্নেহ দিয়ে সম্ভাষণ জানান—এ দৃশ্য কাহালু তইরুন্নেছা (পাইলট) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি নিয়মিত চিত্র। কারো গায়ে কাঁপুনি, চোখে অশ্রু, মুখে উদ্বেগ দেখলেই তিনি পাশে দাঁড়ান। কখনো জিজ্ঞেস করেন, “কী হয়েছে মা?” কখনো ডেকে পাঠান অফিসে, কখনো খরচ বহন করেন নিজেই।
অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো, বই-খাতা, পোশাক, এমনকি টিফিনের খরচ দেওয়া যেন তাঁর দৈনন্দিন কাজেরই অংশ। স্কুল ফাঁকি দিলে শাসন করেন, আবার মন খারাপ থাকলে আদর দিয়ে কাছে টেনে নেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ভালোবাসা দিয়েই শিক্ষার্থীকে গড়া যায়।
শিক্ষার্থীরা বলে, “স্যার আমাদের সব সময় সাহস দেন, বলেন—তোমরা পারবে। কেউ অসুস্থ হলে ওষুধ দেন, বাসায় খবর নেন। পরীক্ষার সময় নিজ হাতে খাতা দেখে, ভুল ধরিয়ে দেন। এমন স্যার আর কোথাও দেখিনি।”
শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রতিও তার সমান মমতা। সহকর্মীরা বলেন, “স্যার কখনো আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন না। বরং উৎসাহ দিয়ে পাশে থাকেন। আমরা সবাই তাঁকে একজন অভিভাবক মনে করি।”
বিদ্যালয়ের নিয়মশৃঙ্খলা, শিক্ষার মান, ফলাফলের ধারাবাহিক উন্নতি, এবং সুন্দর পরিবেশ—সবকিছুতেই তার অবদান অগ্রগণ্য। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি থেকে শুরু করে স্থানীয় অভিভাবক মহল পর্যন্ত তাঁর কাজের প্রশংসায় মুখর।
একইসঙ্গে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কাহালু উপজেলা শাখার সভাপতি হিসেবে তিনি শিক্ষক সমাজের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তার নেতৃত্বে শিক্ষক সমাজ আজ আরও ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল।
মোঃ বেলাল উদ্দীন প্রাং বলেন, “আমি চেষ্টা করি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজের সন্তানের মতো ভাবতে। ওদের মনের কথাগুলো বুঝে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারলেই নিজেকে সার্থক মনে হয়।”
এই মানুষটি প্রমাণ করেছেন—একজন শিক্ষক শুধু বই পড়ান না, তিনি ভালোবাসা, মূল্যবোধ ও জীবনের শিক্ষা দেন। আর সে কারণেই আজ তাঁর হাতে গড়া তইরুন্নেছা (পাইলট) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি স্কুল নয়, এটি শিক্ষার একটি প্রাণন্ত উৎস, একটি প্রেরণার বাতিঘর।

















