মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

বিশ্বনবী সা. বিদায় হজের ভাষণ মুসলিম উম্মাহর জন্য শিক্ষণীয়

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৬:০৩ পিএম | 261 বার পড়া হয়েছে
বিশ্বনবী সা. বিদায় হজের ভাষণ মুসলিম উম্মাহর জন্য শিক্ষণীয়

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের শেষ হজকে বিদায় হজ বলা হয়। এই হজে আল্লাহর রাসূল সা. এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, যা বিদায় হজের ভাষণ হিসেবে পরিচিত মুসলিম বিশ্বের কাছে। এই ভাষণে তিনি মুসলিম উম্মাহর করণীয় সম্পর্কে জানিয়েছিলেন। এতো বছর পরও বিদায় হজের ভাষণ মুসলিম উম্মাহর জন্য শিক্ষণীয় ও স্মরণীয়।

দশম হিজরির জিলহজ মাসে বিদায় হজ পালন করেছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আরবি মাসের দশম হিজরির ৯ জিলহজ। রোজ শুক্রবার। হজের সময় আরাফা ময়দানে দুপুরের পর হজরত মুহাম্মদ (সা:) লক্ষাধিক সাহাবার সমাবেশে এ ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। হমদ ও সানার পর তিনি বলেন:

হে মানুষ! তোমরা আমার কথা শোনো। এরপর এই স্থানে তোমাদের সাথে আর একত্রিত হতে পারবো কি না, জানি না। হে মানুষ! আল্লাহ বলেন, হে মানব জাতি! তোমাদেরকে আমি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে সমাজ ও গোত্রে ভাগ করে দিয়েছি যেন তোমরা পরস্পরের পরিচয়
জানতে পারো’।

অতএব শুনে রাখো, মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। আরবের ওপর কোনো আনারবের, অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তেমনি সাদার ওপর কালোর বা কালোর ওপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে বেশি সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী, যে আল্লাহকে ভালোবাসে।

হে মানুষ! শুনে রাখো, অন্ধকার যুগের সকল বিষয় ও প্রথা আজ থেকে বিলুপ্ত হলো। জাহিলি যুগের রক্তের দাবিও রহিত করা হলো।…

হে মানুষ! শুনে রাখো, অপরাধের দায়িত্ব কেবল অপরাধীর ওপরই বর্তায়। পিতা তার পুত্রের জন্য আর পুত্র তার পিতার অপরাধের জন্য দায়ী নয়।

হে মানুষ! তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্মান, তোমাদের সম্পদ পরস্পরের জন্যে চিরস্থায়ীভাবে হারাম (অর্থাৎ পবিত্র ও নিরাপদ) করা হলো, যেমন আজকের এই দিন, আজকের এই মাস, এই শহরের সকলের জন্যে হারাম।…

হে মানুষ! তোমরা ঈর্ষা ও হিংসা- বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকবে। ঈর্ষা ও হিংসা মানুষের সকল সৎ গুণকে ধ্বংস করে। হে মানুষ! নারীদের সম্পর্কে আমি তোমাদের সর্তক করে দিচ্ছি। তাদের সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করো না। তাদের ওপর যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে, তেমনি তোমাদের ওপর তাদেরও অধিকার রয়েছে। সুতরাং তাদের কল্যাণের দিকে সব সময় খেয়াল রেখো।

হে মানুষ! অধীনস্থদের সম্পর্কে সতর্ক হও। তোমরা নিজেরা যা খাবে তাদেরও তা খাওয়াবে। নিজেরা যা পরবে, তাদেরও তা পরাবে। শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করবে।

যে মানুষ! বিশ্বাসী সেই ব্যক্তি যার হাতে ও মুখ থেকে অন্যের সম্মান, ধন ও প্রাণ নিরাপদ। সে নিজের জন্যে যা পছন্দ করে অন্যের জন্যেও তা-ই পছন্দ করে। হে মানুষ! বিশ্বাসীরা পরস্পরের ভাই। সাবধান! তোমরা একজন আরেকজনকে হত্যা করার মতো কুফরি কাজে লিপ্ত হয়ো না।…

হে মানুষ! শুনে রাখো, আজ হতে বংশগত শ্রেষ্ঠত্ব বা কৌলিন্য প্রথা বিলুপ্ত করা হলো। কুলীন বা শ্রেষ্ঠ সে-ই যে বিশ্বাসী ও মানুষের উপকার করে। হে মানুষ! ঋণ অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। বিশ্বস্ততার সাথে প্রত্যেকের আমানত রক্ষা করতে হবে। কারো সম্পত্তি- সে যদি স্বেচ্ছায় না দেয়, তবে তা অপর কারো জন্যে হালাল নয়। তোমরা কেউ দুর্বলের ওপর অবিচার করো না।

হে মানুষ! জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও মূল্যবান। জ্ঞানার্জন প্রত্যেক নর-নারীর জন্য ফরজ।কারণ জ্ঞান মানুষকে সঠিক পথ দেখায়। জ্ঞান অর্জনের জন্যে প্রয়োজনে তোমরা চীনে যাও। হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রভুর ইবাদত করবে। নামাজ কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে,রোজা রাখবে, হজ করবে আর সঙ্গবদ্ধভাবে নেতাকে অনুসরণ করবে; তাহলে তোমরা জান্নাতে দাখিল হতে পারবে।

হে মানুষ! শুনে রাখো, একজন কুশ্রী কদাকার ব্যক্তিও যদি তোমাদের নেতা মনোনীত হয়, যতদিন পর্যন্ত সে আল্লাহর কিতাব অনুসারে তোমাদের পরিচালিত করবে, ততদিন পর্যন্ত তাঁর আনুগত্য করা তোমাদের অবশ্য কর্তব্য।

হে মানুষ! শুনে রাখো, আমার পর আর কোন নবী নেই। হে মানুষ! আমি তোমাদের কাছে দুটো আলোকবর্তিকা রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এ দুটোকে অনুসরণ করবে, ততদিন তোমরা সত্য পথে থাকবে। এর একটি আল্লাহর কিতাব। দ্বিতীয়টি হলো আমার জীবন-দৃষ্টান্ত।

হে মানুষ! তোমরা কখনোই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। কেননা অতীতে বহু জাতি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে।

হে মানুষ! প্রত্যেকেই শেষ বিচারের দিনে সকল কাজের হিসেব দিতে হবে। অতএব সাবধান হও! হে মানুষ! তোমরা যারা এখানে হাজির আছো, আমার! এ বাণী কে সবার কাছে পৌঁছে দিও।

(এরপর তিনি জনতার উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করলেন)

হে মানুষ! আমি কি তোমাদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছি? সকলে সমস্বরে জবাব দিলোঃ হ্যাঁ! এরপর নবীজি (সা:) বললেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো! আমি আমার সকল দায়িত্ব পালন করেছি!

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ

নকল দুধ ও ঘি তৈরির দায়ে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
নকল দুধ ও ঘি তৈরির দায়ে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে নকল দুধ ও ঘি তৈরি হচ্ছে পাবনার ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলায় এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এমনই অবৈধ কর্মকান্ডের সত্যতা পাওয়ায় তিনটি দুগ্ধ উৎপাদনকারী এবং সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা বাজারে এ অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত রাসায়নিক, ভেজাল ডালডা ও পাউডার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা বাজারের কেয়া ডেইরিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানকালে সেখানে ক্ষতিকর ডালডা, ইউরিয়া, ডিটারজেন্ট, সোডা সহ বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে নকল দুধ তৈরির প্রমাণ পান সংশ্লিষ্টরা। এ সময় কেয়া ডেইরি স্বত্বাধিকারী আয়েশা সিদ্দিকা কেয়া কে নকল দুধ তৈরির দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন। জরিমানার টাকা দিয়ে রেহাই পান ভেজাল দুধ উৎপাদনকারী।
একই সময় পার্শ্ববর্তী এলাকার আমিনা ডেইরি এবং প্রিমিয়াম ফুডে অভিযান চালিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধ সংরক্ষণ করার দায়ে আমিনা ডেইরীকে ৩০ হাজার এবং প্রিমিয়াম ফুডকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনার সরকারি পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, ‘ভেজাল দুধ ও ঘি তৈরির গোপন সংবাদ পেয়ে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ও অন্য দু’টিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভেজাল দুধ ও ঘিতে সয়লাব হয়ে গেছে এ অঞ্চল। ভেজাল রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সোচ্চার হতে হবে বলে জানান তিনি।’
ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন বলেন, ‘এ অঞ্চলে নকল দুধ ও ঘি উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন সোচ্চার রয়েছে। যেখান থেকেই অভিযোগ আসছে সেখানেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।’

পিঁপড়ার ফরিয়াদ ও সোলায়মান (আ.)-এর মুচকি হাসি

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
পিঁপড়ার ফরিয়াদ ও সোলায়মান (আ.)-এর মুচকি হাসি

হযরত সোলায়মান (আ.) ছিলেন এমন এক সম্রাট, যাঁকে আল্লাহ তাআলা জ্বিন, মানুষ এবং পশুপাখির ওপর আধিপত্য দান করেছিলেন। তাঁর সেনাবাহিনী ছিল বিশ্বের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন বিশাল বাহিনী। কিন্তু এই সুবিশাল বাহিনীতে ছিল কঠোর শৃঙ্খলা; প্রতিটি জ্বিন, মানুষ আর পাখি নিজ নিজ সারিতে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান করত।
১. পিঁপড়াদের রাজ্যে বিশাল বাহিনীর আগমন
একদিন হযরত সোলায়মান (আ.) তাঁর সেই বিশাল বাহিনী নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথ চলতে চলতে তাঁরা এমন এক উপত্যকায় এসে পৌঁছালেন, যেখানে ছিল অগণিত পিঁপড়ার বসবাস। দূর থেকে ধেয়ে আসা সেই বিশাল বাহিনীর পদধ্বনি আর ধুলোর মেঘ দেখে পিঁপড়াদের রানি শঙ্কিত হয়ে পড়ল। রানি বুঝতে পারল, এই বাহিনী যদি তাদের জনপদের ওপর দিয়ে যায়, তবে মুহূর্তের মধ্যে লক্ষ লক্ষ পিঁপড়া পিষ্ট হয়ে শেষ হয়ে যাবে।
২. রানির সতর্কবার্তা ও নবীর প্রতি অগাধ বিশ্বাস
পিঁপড়া রানি তখন উচ্চকণ্ঠে তার জাতিকে সতর্ক করে দিয়ে বলল:
“হে পিঁপড়া দল! তোমরা দ্রুত নিজ নিজ গর্তে ঢুকে পড়ো। নতুবা সোলায়মান এবং তাঁর বাহিনী তোমাদের পিষ্ট করে ফেলবে, অথচ তাঁরা তা টেরও পাবেন না (অজ্ঞাতসারে)।”
এই ছোট্ট বাক্যের ভেতরে লুকিয়ে ছিল এক বিশাল দর্শন। পিঁপড়া রানি জানত, সোলায়মান (আ.) একজন নবী, আর কোনো নবী কখনো জেনেশুনে আল্লাহর কোনো সৃষ্টির ওপর জুলুম করতে পারেন না। তাই সে ‘অজ্ঞাতসারে’ শব্দটি ব্যবহার করে নবীর মর্যাদাকে সমুন্নত রাখল। আলস্নাহ তা’আলা কোরআন কারীমে এ কাহিনীটি বর্ণনাপূর্বক এরশাদ করেন-
“আর একত্র করা হয়েছিল সোলায়মানের জন্য তাঁর সৈন্যবাহিনী- জ্বিন, মানব ও পক্ষীকূল হতে এবং অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন ব্যূহে বিভক্ত করা হল। এমন কি যখন তারা উপনীত হল পিপীলিকার এক ময়দানে, তখন এক পিপীলিকা বলল, হে পিপীলিকা দল! তোমরা প্রবেশ কর স্ব স্ব গর্তে, তোমাদের যেন পদতলে পিষ্ট না করেন সোলায়মান ও তাঁর বাহিনী, তাদের অজ্ঞাতসারে।” (সূরা- নামল, আয়াত- ১৭-১৮)
৩. বাতাসের ঝাপটায় ভেসে আসা সেই শব্দ
আল্লাহ তাআলা হযরত সোলায়মান (আ.)-কে পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের ভাষা বোঝার অলৌকিক ক্ষমতা দিয়েছিলেন। অনেক দূর থেকে বাতাসের ঝাপটায় পিঁপড়া রানির সেই সতর্কবার্তা সোলায়মান (আ.)-এর কানে পৌঁছাল। একটি ক্ষুদ্র পিঁপড়ার মুখে নিজের বাহিনীর প্রতি এমন সতর্কবার্তা এবং তাঁর ন্যায়বিচারের প্রতি এমন অগাধ আস্থা দেখে সোলায়মান (আ.)-এর মন আনন্দে ভরে উঠল।
৪. শুকরিয়ার সিজদা ও মুচকি হাসি
পিঁপড়া রানির কথা শুনে হযরত সোলায়মান (আ.) মুচকি হাসলেন। তিনি অত্যন্ত অভিভূত হলেন যে, একটি তুচ্ছ পিঁপড়াও তাঁর আমানতদারিতা সম্পর্কে অবগত। তিনি তখনই আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দোয়া করলেন:
“হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন যাতে আমি আপনার সেই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে ও আমার পিতামাতাকে দান করেছেন। আর আমি যেন এমন নেক আমল করতে পারি যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন।” আলস্নাহ তা’আলা কোরআন কারীমে এ কাহিনীটি বর্ণনাপূর্বক এরশাদ করেন-
অর্থঃ তখন হযরত সোলায়মান (আঃ) পিপীলিকার কথা শুনে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, হে আলস্নাহ! এতে আমাকে দৃঢ়তা দান করম্নন, যেন আমি শোকর আদায় করতে পারি আপনার ঐসব নেয়ামতের, যা আপনি আমাকে ও আমার পিতাকে দান করেছেন, আর যেন নেক আমল করতে পারি, যাতে আপনি সন্ত্মুষ্ট হন এবং আমাকে প্রবিষ্ট করম্নন আপনার রহমতের মাধ্যমে, আপনার পূণ্যবান বান্দাদের দলে। সূরা আন-নামলের ১৮-১৯ নম্বর আয়াত থেকে নেওয়া হয়েছে।
গল্পের শিক্ষা:
ন্যায়বিচারের আদর্শ: একজন প্রকৃত শাসকের পরিচয় হলো ক্ষুদ্রতম প্রাণের প্রতিও তাঁর মায়া ও ইনসাফ থাকা।
পিঁপড়ার বুদ্ধিমত্তা: বিপদ দেখে কেবল আহাজারি না করে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিজের জাতিকে রক্ষা করা নেতার গুণ।
সৃষ্টিকর্তার কুদরত: মহাবিশ্বের অধিপতি আল্লাহ একটি ক্ষুদ্র পিঁপড়াকেও যেমন ভাষা দিয়েছেন, তেমনি একজন নবীকেও দিয়েছেন সেই ভাষা বোঝার জ্ঞান।
নবীদের মর্যাদা: ইতর প্রাণীও জানত যে আল্লাহর নবী কখনো জেনেশুনে কারও ক্ষতি করেন না।

নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু

নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদর আসনের এমপি মিজানুর রহমান মিনু।
নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের জন্য বিদ্যুৎমন্ত্রীকে ডিও দিয়েছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাবের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে এরইমধ্যে কমিটি গঠন করেছে বিদ্যুৎ ও জালানি মন্ত্রণালয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটি গঠনের বিষয়টি সোমবার জানাজানি হলে রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়। সামাজিক মাধ্যমে উঠেছে প্রতিবাদের ঝড়। খোদ নেসকোর কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝেও ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু স্পষ্টভাবে জানান, রাজশাহী দেশের ঐহিত্যবাহী প্রাচীন একটি শহর ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। ব্রিটিশ আমলেও বিদ্যুৎ বিভাগের সদর দপ্তর রাজশাহীতে ছিলো। রাজশাহী ব্রিটিশ আমলের বিভাগীয় প্রশাসনিক কেন্দ্র, দেশের গোটা উত্তরাঞ্চল ছাড়াও যার আওতাধীন ছিল বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মালদা, পশ্চিম দিনাজপুর ও জলপাইগুড়ি জেলাও। রাজশাহীর প্রশাসনিক মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার কথা জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী মিনু বলেন, নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকবে।

error: Content is protected !!