সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

বিয়েটা কনটেন্ট নাকি কমিটমেন্ট?

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই, ২০২৫, ৫:৩০ পিএম | 173 বার পড়া হয়েছে
বিয়েটা কনটেন্ট নাকি কমিটমেন্ট?

বিয়েটা কনটেন্ট নাকি কমিটমেন্ট?
― ইনফ্লুয়েন্সারদের ভিউয়ের জন্য বিয়ে ট্রেন্ডের সামাজিক প্রভাব
আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা দৃশ্য খুব সাধারণ হয়ে উঠেছে।
একটা সুন্দর সাজসজ্জা, অভিজাত লোকেশন, হাসিমুখে বর-কনে, আর ব্যাকগ্রাউন্ডে ভাইরাল গান।
দেখে মনে হয়—কারো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন।
কিন্তু কয়েকদিন পরই ক্যাপশন আসে:
“This was just a content shoot. Not a real wedding.”
অথবা, লাইভে এসে ইনফ্লুয়েন্সার বলছেন—“ভিউয়ের জন্যই করেছিলাম। সত্যিকারের বিয়ে না।”
এই ট্রেন্ড এখন শুধু হাস্যকর নয়, বরং সামাজিকভাবে বিপজ্জনক। কারণ, এটা কেবল বিনোদনের নামে ব্যক্তিগত অনুভূতিকে নয়, সম্পর্ক, প্রতিশ্রুতি, বিশ্বাস এবং সামাজিক মানসিকতাকেও তুচ্ছ করে দিচ্ছে।
বিয়ে—সদ্য ভাইরাল হওয়া গিমিক নয়, এটা এক সামাজিক চুক্তি।
বিয়ে মানে কেবল সাজসজ্জা, ছবি তোলা বা ভিডিও বানানো নয়।
বিয়ে হলো দুইটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতির সম্পর্ক।
আমাদের সমাজে বিয়ের গুরুত্ব বহুপ্রজন্ম ধরে তৈরি হয়েছে।
এটা কেবল একটি পারিবারিক উৎসব নয়—একটি সামাজিক, ধর্মীয় এবং মানসিক বন্ধন।
কিন্তু যখন কেউ শুধু ইউটিউব ভিউ বা রিলস ভিউয়ের জন্য “বিয়ে” নামের নাটক করে, তখন তারা সেই সম্পর্কের গাম্ভীর্যকে ছোট করে ফেলে।
এই ট্রেন্ড সমাজে কী বার্তা দিচ্ছে?
১. “বিয়ে মানে বিনোদন”—এই ভুল ধারণা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে
অনেক তরুণ-তরুণী এখন ইনফ্লুয়েন্সারদের দেখে ভাবছে—বিয়েটাও একটা শো!
যেখানে আপনি চাইলে অভিনয় করতে পারেন, চাইলে পরে অস্বীকার করতে পারেন।
এর ফলে বিয়ের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা হারাচ্ছে।
২. বিশ্বাসভঙ্গকে স্বাভাবিক করা হচ্ছে
যখন কেউ বলে, “এইটা আসলে মজার ভিডিও ছিল, সত্যিকারের বিয়ে না”—তখন তারা বুঝতে পারে না যে তাদের ফলোয়ারদের মধ্যে অনেকেই হয়তো সেটা সত্যি ভেবেছিল।
তাদের চোখে আপনি প্রতারণা করছেন।
আর এই মিথ্যা বারবার দেখলে মানুষের মধ্যেও বিশ্বাস হারানোর প্রবণতা তৈরি হয়।
৩. বিয়ের আগেই মানসিক প্রস্তুতি কমে যাচ্ছে
যারা সত্যিকারে বিয়ে করতে যাচ্ছে, তাদের মধ্যেও একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়—
“সত্যিই কি এটা সিরিয়াস কিছু? নাকি যে কেউ যখন তখন শেষ করে দিতে পারে?”
এই মনোভাব মানসিকভাবে মানুষকে কমিটমেন্ট-ভীতু করে তুলছে।
৪. ফলোয়ারদের ইমোশন নিয়ে খেলা
এগুলো কেবল “ফান কন্টেন্ট” নয়। অনেক ফলোয়ার ইনফ্লুয়েন্সারদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে—ভালোবাসে, অনুপ্রাণিত হয়, তাদের দেখে জীবন গুছাতে চায়।
তাদের চোখে এসব নাটক ভেঙে দেয় বিশ্বাস, এবং এক ধরনের হতাশা তৈরি করে।
তাহলে ইনফ্লুয়েন্সারদের দায় কতটুকু?
ইনফ্লুয়েন্সাররা কেবল “নিজের প্ল্যাটফর্ম” চালাচ্ছেন না—তারা সমাজের বহু তরুণ-তরুণীর রোল মডেল।
তারা যা দেখায়, তা অনেকেই সত্যি ভাবে।
তাই কোনো কিছু “মজার” বা “ভিউ পাওয়ার” অজুহাতে করলে, তার প্রভাব শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থাকে না—তা সমাজের চিন্তাধারাকে ধ্বংস করে।
কী হতে পারে এর ইতিবাচক বিকল্প?
• সম্পর্ককে শ্রদ্ধা করে এমন কনটেন্ট তৈরি করা
• সত্যিকারের বিয়ের প্রস্তুতি, মানসিকতা, দায়িত্ব ইত্যাদি নিয়ে ভিডিও বানানো
• “ভিউ নয়, ভ্যালু”—এই নীতিতে কনটেন্ট বানানো
• কমিটমেন্টের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলা
বিয়ে কোনো ট্রেন্ড নয়। বিয়ে কোনো ভাইরাল চ্যালেঞ্জ নয়। বিয়ে হলো জীবন গঠনের সূচনা।
ইনফ্লুয়েন্সারদের অনেক বড় প্ল্যাটফর্ম আছে, তাদের দায়িত্বও ততটাই বড়।
তারা যদি “মিথ্যা সম্পর্ক” দেখিয়ে দর্শকের আবেগ নিয়ে খেলেন, তাহলে সেটি কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতি নয়—সমগ্র সমাজে একটা ভুল বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
সুতরাং, কনটেন্টের নামে “ভিউয়ের জন্য বিয়ে” এক ধরনের সম্পর্ক বিকৃতি, যা আমাদের সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ভিউ শেষ হবে একদিন।
কিন্তু সমাজের ভিত যদি নড়ে যায়, তার দায় আমরা কেউ এড়াতে পারবো না।

ফরিদপুরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

মোঃমাহফুজুর রহমান বিপ্লব। প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০২ এএম
ফরিদপুরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে বিকাশ চন্দ্র কর্মকার (৪৫) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর করেছে বলে জানাযায়।

আজ রোববার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের সাতৈর রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্মের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বিকাশ চন্দ্র কর্মকার বোয়ালমারী উপজেলার কামারহাটি গ্রামের নিতাই চন্দ্র কর্মকারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি কয়েক বছর আগে সাতৈর বাজারে স্বর্ণের ব্যবসা করতেন। ব্যবসায় লোকসানের কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং দেনা পরিশোধ করতে জমিজমা বিক্রি করেন। প্রায় দুই বছর আগে তার স্ত্রী মারা যায়। এরপর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
স্থানীয়দের ধারণা, ঋণগ্রস্ততা ও ব্যক্তিগত হতাশা থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যার পদ বেঁচে নেয়।

জানাযায়, রাজশাহী থেকে গোপালগঞ্জগামী গামী ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনার সংবাদ পেয়ে বোয়ালমারী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দীর্ঘ এক যুগ পর কোর্টের রায়, স্থানীয় জনতার সহায়তায় জমি উদ্ধার

ফারুক হোসাইন, ব্যুরো প্রধান, রংপুর প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০০ এএম
দীর্ঘ এক যুগ পর কোর্টের রায়, স্থানীয় জনতার সহায়তায় জমি উদ্ধার

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের উত্তর ঘনেশ্যাম তুষভান্ডার বাজার এলাকায় ০৫-০৪-২৫ রোজ বৃহস্পতিবার দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে জমির মালিকানা ফিরে পেয়েছেন প্রকৃত মালিকরা। সিভিল জজ আদালতের মোকদ্দমা নম্বর ১২৩/১৫-এর রায় ও ডিক্রির ভিত্তিতে স্থানীয় জনতার সহায়তায় জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, তুষভান্ডার বাজার এলাকার ৪৮৩৪ দাগের ‘ক’ তফসিলে বর্ণিত প্রায় ৪০ শতক জমি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে অবৈধভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন দেবদাস রায় মোহন, পিতা: যতীন্দ্র মোহন, উত্তর ঘনেশ্যাম। এ ঘটনায় শ্রী বিপিন চন্দ্র রায় ওরফে নূর মোহাম্মদ, পিতা: বিজন ভূষণ রায় বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ শুনানি ও প্রমাণ উপস্থাপনের পর আদালত প্রকৃত মালিকের পক্ষে রায় প্রদান করেন।
রায় কার্যকর হওয়ার পর স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এতে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটে। স্থানীয়রা জানান, এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হয় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রকৃত মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা জমি ফিরে পেয়ে খুশি এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অন্যায়-জুলুম আর কারও সঙ্গে না ঘটে, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সার সিন্ডিকেট বন্ধের দাবিতে গাইবান্ধায় সড়ক অবরোধ, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

মোঃ মিঠু মিয়া গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৭ এএম
সার সিন্ডিকেট বন্ধের দাবিতে গাইবান্ধায় সড়ক অবরোধ, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সার সিন্ডিকেট বন্ধের দাবিতে গাইবান্ধায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে শ্রমিক দল। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এই অবরোধে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সৃষ্টি হয় যানজট। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

অবরোধ চলাকালে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম ফকু, সাধারণ সম্পাদক এস এম হুনান হক্কানি এবং জেলা যুবদলের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নুর মোহাম্মদ প্রিন্সসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা কামালকে অবৈধভাবে বাফার গোডাউনে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। তিনি সারের সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন।

তারা আরও বলেন, অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অপসারণ করা না হলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

কর্মসূচি শেষে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

error: Content is protected !!