শামীমা ইসলাম বর্ষা
শুভ্রতা
হঠাৎ নিজের নাম শুনে চমকে উঠলাম।
পেছনে ফিরে তাকালাম,
রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে জানতে চাইলাম—
“আপনি আমার নাম জানেন কিভাবে?”
সেদিন তো আমাদের কোনো কথা হয়নি!
তুমি মুচকি হেসে বললে,
“আমি দশ মিনিট আগে জেনেছি আপনি শুভ্রতা।”
— “কীভাবে?”
— “আপনি গোলাপের তোড়া কিনতে গিয়ে যখন টাকা দিলেন, দোকানদার রসিদে আপনার নাম লিখেছিল। আপনি নিজেই বলেছিলেন।”
আমি অবাক হলাম, আবার ভাবলাম,
তুমি কি সত্যিই এতটুকু কারণ ধরে আমাকে মনে রেখেছো?
— “ওহ… তো?”
— “তো কিছু না। তবে আমি আপনাকে একটা কথা বলতে চাই।”
— “কি কথা?”
— “আমি জানি আপনি বেলি ফুলের মালাটা নিতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু আমি ইচ্ছে করেই আগে নিয়ে নিয়েছি।”
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
“কেন?”
তুমি হাসলে।
একটা গভীর, রহস্যময় হাসি।
তারপর বললে,
“সেদিন আমার শার্টের বোতামে আপনার শাড়ি আটকে গিয়েছিল।
তারপর থেকে আপনি আমার মস্তিষ্কের জালে আটকা পড়ে আছেন।”
আমি নির্বাক হয়ে গেলাম।
তুমি কি মজা করছো, নাকি সত্যিই বলছো?
তারপর তুমি বললে,
“প্রতিশোধ নিতে চাই।”
— “কিভাবে?”
— “আপনার খোলা চুলে এই মালাটা পরিয়ে দিয়ে।”
বলতে বলতেই তুমি আমার চুলে বেলি ফুলের মালাটা পরিয়ে দিলে।
আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।
চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠলো এক অদ্ভুত অনুভূতিতে।
তারপর তুমি হাঁটু গেড়ে বসে বললে,
“আমি পৃথিবীর বিস্ময়কর এক সৃষ্টির সামনে দাঁড়িয়ে আছি।
যার সমুদ্র-গভীর চোখ আর বৈশাখী মেঘের মতো কোঁকড়ানো চুলের ঐশ্বর্য আছে।
পৃথিবীতে আমার প্রবেশ…
আমি কি তোমার শুভ্র মেঘ হতে পারি?”
রাত তখন আরও গভীর।
শহর তখন আরও নিঃশব্দ।
আর আমি?
আমি শুধু তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম,
যেন সেখানে আমার সমস্ত জবাব লুকিয়ে আছে।














