ইতিকাফের গুরুত্বপূর্ণ বিধান
লাইলাতুল কদরপ্রাপ্তিতে ইতিকাফের গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘লাইলাতুল কদর হাজার মাস থেকেও উত্তম।’ (সুরা : কদর, আয়াত : ৩)
সেহেতু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইতিকাফের মূল লক্ষ্য ছিল লাইলাতুল কদর পাওয়া। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করেছেন।
এরপর তিনি মাঝের ১০ দিন তুর্কি কুব্বাতে (এক ধরনের ছোট তাঁবুতে) ইতিকাফ করেছেন। যে তাঁবুর দরজার ওপর একটি কার্পেট ঝোলানো ছিল। (বর্ণনাকারী বলেন) তিনি তাঁর হাত দিয়ে কার্পেটটিকে কুব্বার (তাঁবু) এক পাশে সরিয়ে দিলেন। এরপর তাঁর মাথা বের করে লোকদের সঙ্গে কথা বললেন। লোকেরা তাঁর কাছে এলো। অতঃপর তিনি বলেন, আমি প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করেছি—এই রাতের (লাইলাতুল কদরের) খোঁজে, এরপর মাঝের ১০ দিন ইতিকাফ করেছি। এরপর আমাকে বলা হলো, লাইলাতুল কদর শেষ দশকে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন ইতিকাফ করে। তখন লোকেরা তাঁর সঙ্গে ইতিকাফ করেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬৭)
প্রকৃত অর্থে ইতিকাফের ইতিবাচক ফলাফল মানুষের জীবনে তাত্ক্ষণিকভাবে, এমনকি ইতিকাফের দিনগুলোতে পরিলক্ষিত হয়। এ ছাড়া পরবর্তী রমজান পর্যন্ত অনাগত দিনগুলোর ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। আতা আল-খুরাসানি (রহ.) বলেন, ইতিকাফকারীর উদাহরণ ওই ব্যক্তির মতো, যে নিজেকে আল্লাহর সামনে পেশ করে বলছে, হে আল্লাহ যতক্ষণ না তুমি ক্ষমা করো, আমি তোমার দরবার ত্যাগ করব না; হে আমার রব, যতক্ষণ না তুমি আমাকে ক্ষমা করো, আমি তোমার দরবার ত্যাগ করব না। (শারহুল ইবনে বাত্তাল আলাল বুখারি, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-১৮২)
ইতিকাফের কিছু মাসআলা
১. ইতিকাফকারী যদি বিনা প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হয় তাহলে তার ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যায়। হাদিসে আছে, একান্ত বাধ্য না হলে মসজিদ থেকে বের হবে না। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ২১১৫)
মনে রাখবেন, ইতিকাফ মানে বান্দা সম্পূর্ণ আল্লাহর হয়ে যাওয়া। মসজিদে সঙ্গীদের সঙ্গে গল্প করা, মোবাইলে ফোনালাপ, গোসল করতে বেশি সময় লাগানো—এসব ইতিকাফ পরিপন্থী কাজ। ইতিকাফে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার সব কিছুর চিন্তা থেকে মনকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। কেবল আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকতে হবে। তবেই ইতিকাফ সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা যায়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের ইতিকাফ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।











