শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২
শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২

শেখ হাসিনাসহ গণহত্যায় ‘নির্দেশদাতা’-দের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৪, ৪:৫০ পিএম | 207 বার পড়া হয়েছে
শেখ হাসিনাসহ গণহত্যায় ‘নির্দেশদাতা’-দের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ

গণহত্যায় জড়িত ও অভিযুক্ত পলাতক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হননি কিন্তু পলাতক অথবা আত্মগোপনে আছেন, তাদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদরদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকায় যারা দেশ থেকে পলাতক, তাদের ফেরাতে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৮ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে গ্রেপ্তার হওয়া হেভিওয়েট মন্ত্রী-এমপিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের। ওই দিন জুলাই-আগস্ট গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম।

এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে। নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে সামরিক হেলিকপ্টারে চড়ে ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে চলে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি।

আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অনেক নেতাই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিম দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এছাড়া, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমান, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, চাঁদপুরের সাবেক এমপি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া দেশ ছেড়েছেন।

সরকারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বুঝে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, পুলিশের পলাতক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, হারুন-অর রশীদ, বিপ্লব কুমারসহ ঊর্ধ্বতন অনেক কর্মকর্তা ও আমলাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে গুরুত্ব দিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

তাদের দেশে ফেরানোটা কি শুধু ‘প্রক্রিয়ার মধ্যে বন্দি’, নাকি আদতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে? এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (প্রশাসন) গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। ১৮ নভেম্বর তাদের হাজির করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল থেকে আদেশের অনুলিপি আইজিপির কাছে পাঠানো হয়েছে। আমরা জেনেছি, আইজিপির দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে ট্রাইব্যুনালের আদেশ পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আইজিপির কাছে পাঠানো হয়েছে। আইজিপির দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে ট্রাইব্যুনালের আদেশ পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, ফারুক খান, দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী, সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, শাহজাহান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার, গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, বিচারপতি মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র বা আইন মন্ত্রণালয় থেকে এখনও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো আবেদন আসেনি। য‌দি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থে‌কে পররা‌ষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন আসে তবে শেখ হাসিনাসহ অন্য পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হ‌বে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে স্পষ্ট করতে হবে যে, কে কোথায় পালিয়ে অবস্থান করছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষ হচ্ছেন আদালত। আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাইবে। তবে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে অপরাধী প্রত্যর্পণে ২০১৩ সালে একটি বন্দিবিনিময় চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাসহ অন্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকা ২০১৩ সালের চুক্তি অনুসরণ করবে। চুক্তিটি ২০১৬ সালে সংশোধন করা হয়।

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র বা আইন মন্ত্রণালয় থেকে এখনও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো আবেদন আসেনি। য‌দি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থে‌কে পররা‌ষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন আসে তবে শেখ হাসিনাসহ অন্য পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হ‌বে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে স্পষ্ট করতে হবে যে, কে কোথায় পালিয়ে অবস্থান করছেন।

কপি-পেস্টের দিন শেষ

ইউটিউব এখন ক্রিয়েটর চায়, কপিয়ার নয়

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪১ এএম
ইউটিউব এখন ক্রিয়েটর চায়, কপিয়ার নয়

Warnings! ইউটিউব সম্প্রতি এই ধরনের হাজার হাজার চ্যানেল ব্যান করছে, আপনার সব পরিশ্রম মুহূর্তেই শেষ হয়ে যেতে পারে!

সম্প্রতি ইউটিউব তাদের প্ল্যাটফর্মকে আরও উন্নত করার জন্য কোয়ালিটির ওপর খুব বেশি জোর দিচ্ছে এবং হাজার হাজার চ্যানেলকে কোনো নোটিশ ছাড়াই ব্যান করে দিচ্ছে।

অনেকেই শর্টকাটে সফল হওয়ার জন্য এমন কিছু পথ বেছে নিচ্ছেন, যা এখন ইউটিউবের অ্যালগরিদমের কাছে Red Flag হিসেবে চিহ্নিত। এই লিস্টটা অবশ্যই Save করে রাখুন এবং নিজের চ্যানেলের সাথে মিলিয়ে দেখুন!

১. AI ভয়েসওভার দিয়ে বানানো ফেসলেস কম্পাইলেশন চ্যানেল

এই ধরনের চ্যানেল এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। অন্যের ভিডিওর ক্লিপ, স্টক ফুটেজ আর AI ভয়েস দিয়ে বানানো “Top 10” বা “Amazing Facts” টাইপের চ্যানেল, যেগুলোতে নিজস্বতা বা নতুনত্ব (Minimal Transformation) নেই, সেগুলো ইউটিউব এখন “low-effort” কনটেন্ট হিসেবে গণ্য করছে এবং ব্যান করে দিচ্ছে।

২. ‘ঘরে বসে আয় করুন’ টাইপের চ্যানেল

যেসব চ্যানেল “গ্যারান্টি দিয়ে দিনে ১০০০ টাকা আয় করুন” বা এই ধরনের চটকদার ও অবাস্তব আয়ের লোভ দেখায়, সেগুলোকে ইউটিউব এখন স্ক্যাম হিসেবে ধরছে। এই ধরনের চ্যানেলগুলোতে খুব দ্রুত Strike আসছে এবং চ্যানেল টারমিনেট হয়ে যাচ্ছে।

৩. অটোমেটেড বা ‘AI Slop’ চ্যানেল

এগুলো হলো সেইসব চ্যানেল, যেগুলো Reddit-এর গল্প বা বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে আর্টিকেল কপি করে, সেগুলোর ওপর AI দিয়ে ভয়েসওভার এবং ছবি বসিয়ে ভিডিও বানায়। এই চ্যানেলগুলোতে কোনো মানবিক ছোঁয়া বা মৌলিকত্ব থাকে না। ইউটিউব এগুলোকে “automated spam” হিসেবে চিহ্নিত করছে।

৪. ভুয়া ক্রাইম স্টোরির চ্যানেল

True Crime একটি জনপ্রিয় Niche, কিন্তু যেসব চ্যানেল কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া মিথ্যা ঘটনাকে সত্যি বলে চালায়, কাল্পনিক গল্পকে বাস্তব হিসেবে উপস্থাপন করে বা সঠিক সোর্স উল্লেখ করে না, সেগুলোকে ইউটিউব Misinformation ছড়ানোর দায়ে ব্যান করছে।

৫. AI দিয়ে বানানো ভুয়া নিউজ ও রাজনৈতিক চ্যানেল

বর্তমান সময়ের নির্বাচন, বিচার বা যেকোনো সংবেদনশীল ঘটনা নিয়ে AI দিয়ে বানানো ভুয়া ফুটেজ, মিথ্যা উক্তি বা ভুয়া খবর প্রচারকারী চ্যানেলগুলোকে ইউটিউব কোনো ছাড় দিচ্ছে না। Disclosure ছাড়া AI ব্যবহার করাটাও এখানে বড় ধরনের ঝুঁকি।

৬. AI দিয়ে বানানো সেলিব্রিটি গসিপ চ্যানেল

থাম্বনেইলে AI দিয়ে সেলিব্রিটিদের বিকৃত বা কাল্পনিক ছবি তৈরি করা, তাদের মুখে ভুয়া কথা বসিয়ে দেওয়া বা মিথ্যা গসিপ ছড়ানো চ্যানেলগুলো ইউটিউবের টার্গেট লিস্টে রয়েছে। এটি ব্যক্তিত্বের অধিকার লঙ্ঘন করে এবং প্ল্যাটফর্মের নীতিবিরুদ্ধ।

৭. এডিট করা পুলিশ বা আইনি ফুটেজ

পুলিশের বডি ক্যামেরার ফুটেজ বা আদালতের ভিডিও এমনভাবে এডিট করে উপস্থাপন করা, যা মূল ঘটনাকে ভুলভাবে দেখায় বা কোনো চলমান আইনি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে, সেই চ্যানেলগুলোকেও কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে।

৮. অন্যের ভিডিওর কপি-পেস্ট কম্পাইলেশন চ্যানেল

কোনো অনুমতি ছাড়া অন্যের টিকটক ভিডিও, ফানি ক্লিপস বা গেমিং ফুটেজ ডাউনলোড করে শুধু জোড়া লাগিয়ে আপলোড করে দেওয়া চ্যানেলগুলো এখন কপিরাইট স্ট্রাইকের পাশাপাশি সরাসরি ব্যানও হয়ে যাচ্ছে। ইউটিউব এখন “Repetitious Content” পলিসি নিয়ে অনেক বেশি কঠোর।

তাহলে এখন উপায় কী?

উপায় হলো Originality এবং Transformation। আপনি অন্যের ক্লিপ বা AI ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু তার সাথে অবশ্যই আপনার নিজস্ব ধারাভাষ্য, বিশ্লেষণ, শিক্ষণীয় কিছু বা কমেডি যোগ করতে হবে।

আপনার ভিডিওতে আপনার নিজস্বতার (Your Own Touch) ছাপ থাকতে হবে।

সহজ কথায়, কপি-পেস্টের দিন শেষ। ইউটিউব এখন ক্রিয়েটর চায়, কপিয়ার নয়।

বিচারিক প্রক্রিয়ায় ঐতিহাসিক অগ্রগতি

গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

শেখ জসিম উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

গাজীপুরে তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

মামলার বাদী ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর গাজীপুর জেলা স্টাফ রিপোর্টার, নিহত সাংবাদিক তুহিনের বড় ভাই সেলিমের সাক্ষ্যগ্রহণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

চার্জ গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়াকে সাংবাদিক সমাজ বিচারিক ব্যবস্থার এক “ঐতিহাসিক মাইলফলক” হিসেবে দেখছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবাদিক হত্যা মামলার ইতিহাসে চার্জ গঠনের পর এত দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়া বিরল, ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন ঘটনা।

গত ৭ আগস্ট গাজীপুরের ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার বর্বর ঘটনা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করে। সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারিক পরিণতির পথে এবার দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার, সহকর্মী ও সারাদেশের সাংবাদিক সমাজে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

বুধবার দুপুরে প্রধান অভিযুক্ত কেটু মিজান ওরফে কোপা মিজান, তার স্ত্রী গোলাপিসহ মোট আটজন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু করেন।

মামলার বাদী ও নিহত সাংবাদিকের বড় ভাই সেলিমের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচারিক লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সূচিত হয়। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু একটি মামলার অগ্রগতি নয়; বরং সাংবাদিক হত্যা বিচারে রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছার একটি বড় পরীক্ষা।

সাংবাদিক তুহিনের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত চন্দ্র সরকার বলেন,“চার্জ গঠনের পর এত দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়া সত্যিই ইতিবাচক। আমরা ইতোমধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরের আবেদন করেছি। অনুমোদন পেলে পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যেই বিচার শেষ করা সম্ভব। তবে এখনো সরকারি অনুমোদন না পাওয়ায় কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।”

দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর সম্পাদক এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল-এর প্রধান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন,“গত ৫৪ বছরে দেশে ৬৯ জন সাংবাদিক নিহত হলেও অধিকাংশ হত্যার বিচার হয়নি, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক। তুহিন হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হলে এটি একটি ব্যতিক্রমী নজির হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন,“দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিলে ৯০ দিনের মধ্যেই রায় সম্ভব। আমরা গত কয়েক মাস ধরে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়ে আসছি। আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ায় প্রথমবারের মতো মনে হচ্ছে—এই বিচার আমরা সত্যিই দেখতে যাচ্ছি।”

মামলার বাদী সেলিম বলেন,“দ্রুত বিচার চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করেছি। আজ দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ায় আমাদের পরিবারের জন্য এটি বড় স্বস্তির বিষয়। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।”

সাংবাদিক নেতাদের অভিমত, এই মামলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে বাংলাদেশে সাংবাদিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দেশজুড়ে সাংবাদিক সমাজ কালো ব্যাজ ধারণ, মানববন্ধন, প্রেস ক্লাব কর্মসূচি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবাদ গড়ে তোলে। একটাই স্লোগান তখন উচ্চারিত হয়—“তুহিন হত্যার বিচার চাই, দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, তুহিন শুধু একজন সাংবাদিকই ছিলেন না—তিনি ছিলেন সত্যের কণ্ঠস্বর। তার মৃত্যু ছিল সাংবাদিকতা, সমাজ ও গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। বিচার বিলম্বিত হলে সেই ক্ষত আরও গভীর হতো।

চার্জ গঠন, দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ধারাবাহিক শুনানির মাধ্যমে এই মামলার অগ্রগতি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যা আর ধামাচাপা দেওয়া যাবে না।

সাংবাদিক মহলের দৃঢ় বিশ্বাস, তুহিন হত্যার বিচার কার্যকরভাবে সম্পন্ন হলে এটি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে।

প্রশ্ন এখন একটাই—রাষ্ট্র কি এবার সত্যিই প্রমাণ করবে, সত্যের কণ্ঠ কখনো রুদ্ধ করা যায় না।

এ.এস.এম হামিদ হাসান, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কটিয়াদীতে মেজর আখতারের হাত ধরে দুই শতাধিক লোকের জামায়াতে যোগদান

এ.এস.এম হামিদ হাসান, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
কটিয়াদীতে মেজর আখতারের হাত ধরে দুই শতাধিক লোকের জামায়াতে যোগদান

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিএনপির সাবেক এমপি,বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সদ্য জামায়াতে যোগদান করা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের হাত ধরে বিএনপিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় দুই শতাধিক মানুষ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকাল থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে মেজর রঞ্জনের বাড়িতে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। মেজর আখতারের উপস্থিতিতে যোগদানকৃত ব্যক্তিরা জামায়াতের সহযোগী সদস্য ফর্ম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ লাভ করেন।

জানা গেছে, গত ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন। এরপর থেকে তিনি স্থানীয় এলাকা ও ঢাকায় জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে বক্তব্য দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে জামায়াতে মনোনীত ১০ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।

এছাড়া‌ও গত বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকা-১১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ দেন।য পাশাপাশি নিজ এলাকায় তিনি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের বিষয়ে ব্যাপকভাবে ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপিসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, সাবেক ইউপি সদস্য এবং দুজন সনাতন ধর্মাবলম্বীর ব্যক্তিসহ প্রায় দুই শতাধিক লোক জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, দেশ ও মানুষের কল্যাণে আদর্শভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত হয়েছেন। এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীর হয়ে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

মেজর রঞ্জন আরও বলেন, দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে হলে সৎ ও আদর্শভিত্তিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং মানুষকেও সেই আহ্বান জানিয়েছি। ইতোমধ্যে আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মানুষ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহশ্রাম-ধূলদিয়া ও চান্দপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। মেজর রঞ্জন বলেন ইনশাআল্লাহ আগামীকাল বিকেলেও এই যোগদান কর্মসূচি চলমান থাকবে।