বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২
বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

মো: সেলিম রানা

জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুত ও পুলিশ হত্যার বিচার নিশ্চিতের উদ্যোগ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম | 50 বার পড়া হয়েছে
জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুত ও পুলিশ হত্যার বিচার নিশ্চিতের উদ্যোগ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, জুলাই আন্দোলনের ঘটনাবলি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, জুলাই মাসে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় আহত ও নিহত ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া এবং পুলিশ হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে যারা জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন—তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হবে। এই তালিকায় বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে আন্দোলনে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের তথ্য। এ বিষয়ে তিনি বিএনপি নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় যেসব ঘটনায় সহিংসতা, অরাজকতা ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে—সেগুলোর পেছনে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা এবং পুলিশ হত্যার ঘটনাগুলোকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। খুব শিগগিরই এসব ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কিছু সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত চলছে। বিশেষ করে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কিছু গোষ্ঠী, যেমন ছাত্রশিবির ও এনসিপি সমর্থকদের ভূমিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো খোঁজখবর নিচ্ছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তদন্তের মাধ্যমে সঠিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য যারা পরিকল্পিতভাবে মব তৈরি করছে, অরাজকতা ছড়াচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে—তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে সক্রিয় করেছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ শান্তি, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন চায়। তাই যেকোনো ধরনের সন্ত্রাস, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইন ও ন্যায়ের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও একটি নিরাপদ ও স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশের শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিভ্রান্তি, গুজব ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই আন্দোলনের ঘটনাবলি নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ

পাবনা-৩ নির্বাচনী আসনে ভোট পুন:গণনা চেয়ে আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
পাবনা-৩ নির্বাচনী আসনে ভোট পুন:গণনা চেয়ে আবেদন

আজ পাবনা-৩ নির্বাচনী আসনে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্বাচনী স্পেশাল বেঞ্চে অবৈধ ফলাফল বাতিল পূর্বক ভোট পুন:গণনা চেয়ে আবেদন করা হয়।

নির্বাচনী স্পেশাল বেঞ্চের একক বিচারক বিচারপতি মো: জাকির হোসেন শুনানি শেষে অবৈধ ফলাফল বাতিল এবং ভোট পুন:গণণা চেয়ে আবেদন গ্রহণ করেন এবং আগামী ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে শুনানির দিন ধার্য্য করেছেন।

আদেশে তিনি ওই আসনের ব্যালট সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।

​মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল, গোদাগাড়ী রাজশাহী

গোদাগাড়ী মডেল থানা ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্য থেকে আধুনিকতার অগ্রযাত্রায় ১৬১ বছর

​মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল, গোদাগাড়ী রাজশাহী প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
গোদাগাড়ী মডেল থানা ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্য থেকে আধুনিকতার অগ্রযাত্রায় ১৬১ বছর

রাজশাহী জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন প্রশাসনিক ইউনিট ‘গোদাগাড়ী মডেল থানা’ তার দীর্ঘ ১৬১ বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নিয়ে সেবার আধুনিক রূপকার হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ১৮৬৫ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত এই থানাটি বর্তমানে শুধু একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, বরং সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের এক অনন্য মডেলে পরিণত হয়েছে।

​উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে গোদাগাড়ী ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর ও ব্যবসা কেন্দ্র। পদ্মা ও মহানন্দা নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮৬৫ সালে ব্রিটিশ সরকার এখানে থানা স্থাপন করে। দেশভাগ এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই থানার ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

​মডেল থানায় রূপান্তর ও আধুনিকায়নে
​সাধারণ থানাকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ‘মডেল থানায়’ রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০০৪-২০০৫ সালের দিকে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ২০০৫ সালের ৫ মে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর আনুষ্ঠানিকভাবে এর নতুন ভবন ও মডেল থানা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

​প্রায় ৪৭৫.২৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই বিশাল থানা এলাকাটি ৯টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হওয়ায় এবং রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের ওপর অবস্থানের কারণে এই থানার কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে এখানে একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলসহ একটি দক্ষ টিম কাজ করছে, যা গোদাগাড়ী সার্কেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

​মডেল থানা হওয়ার পর এখানে যুক্ত হয়েছে বিশেষ কিছু সেবা:​নারী ও শিশু ডেস্ক: ভুক্তভোগী নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা আইনি সহায়তা ও কাউন্সেলিং।
​বিট পুলিশিং: ৯টি ইউনিয়ন ও ২ টি পৌরসভায় বিট অফিসের মাধ্যমে দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা।
​সিসিটিভি মনিটরিং: গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো সিসিটিভির আওতায় এনে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ।

নেতৃত্বে যারা ছিলেন ও আছেন
​১৮৬৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত কয়েকশ কর্মকর্তা এখানে ওসির দায়িত্ব পালন করেছেন।
গোদাগাড়ী মডেল থানায় বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের নাম এবং তাঁদের যোগদানের তারিখ ও প্রস্থানের সময়কাল । ১৯৮৩ সাল থেকে বর্তমান (২০২৬) পর্যন্ত কর্মকর্তাদের।

​ঐতিহাসিক তালিকা (১৯৮৩ – ২০০০-এর দশক)
ক্রমিক কর্মকর্তার নাম আগমন প্রস্থান
০১ জনাব মো: আব্দুর রহমান ০৬-১১-৮৩ ০৬-০৭-৮৫
০২ জনাব মো: গোলাম মোস্তফা মিঞা ০৬-০৭-৮৫ ২২-০৪-৮৬
০৩ জনাব মো: আব্দুল বাতেন ৩০-০৪-৮৬ ০৬-০৭-৮৬
০৪ জনাব সৈয়দ মোমেন হোসেন ১৩-০৭-৮৬ ০৬-১০-৮৭
০৫ জনাব ফেরদৌস হোসেন ১২-১০-৮৭ ১১-০৮-৮৯
০৬ জনাব মো: আব্দুল হাই ২৯-০৮-৮৯ ০৪-০৯-৯১
০৭ জনাব মো: হেলাল উদ্দীন ০৪-০৯-৯১ ২০-০৪-৯২
০৮ জনাব কে এম হাবিবুর রহমান ০২-০৬-৯২ ১৯-০৪-৯৪
০৯ জনাব হেলাল উদ্দীন (বিপিএম ও ইউএনপিএম) ১৯-০৪-৯৪ ২০-০৪-৯৬
১০ জনাব হুমায়ুন কবির সরকার ২০-০৪-৯৬ ২৯-০৮-৯৭
১১ জনাব দেওয়ান মো: রেজাউল করিম (পিপিএম) ২৯-০৮-৯৭ ০৬-০৭-৯৮
১২ জনাব মোহাম্মদ গোলাম রহমান ০৬-০৭-৯৮ ২২-১০-৯৯
১৩ জনাব কে এম হাবিবুর রহমান ২৯-১০-৯৯ ০৬-০৮-০১

মধ্যবর্তী তালিকা (২০০১ – ২০২০)
ক্রমিক কর্মকর্তার নাম আগমন প্রস্থান
১৪ জনাব মো: আকতারুজ্জামান ০৮-০৮-০১ ২৮-১০-০১
১৫ জনাব এম সালাহ উদ্দিন আহমেদ ২৯-১০-০১ ১৭-০৬-০৩
১৬ জনাব মো: সাইদুর রহমান ১৭-০৬-০৩ ২৪-০৭-০৬
১৭ জনাব মো: আবু বক্কর সিদ্দিক ২৪-০৭-০৬ ২৫-০৩-০৯
১৮ জনাব মো: শামসুল আলম শাহ ২৬-০৩-০৯ ১০-১২-০৯
১৯ জনাব মো: আতাউর রহমান ১১-১২-০৯ ০৪-১২-১০
২০ জনাব মো: আলমগীর হোসেন ০৫-১২-১০ ০৩-০৭-১২
২১ জনাব মো: আবু জাফর বিশ্বাস ০৩-০৭-১২ ১০-০৫-১৩
২২ জনাব মো: এস এম আবু ফরহাদ ১১-০৫-১৩ ১৫-০৯-১৫
২৩ জনাব হিপজুর আলম মুন্সি ১৬-০৯-১৫ ১৫-০৮-১৮
২৪ জনাব জাহাঙ্গীর আলম ১৬-০৮-১৮ ৩১-০৩-২০
২৫ জনাব মো: খলিলুর রহমান পাটোয়ারী ০১-০৪-২০ ৩০-০৯-২১

সাম্প্রতিক তালিকা (২০২১ – বর্তমান ২০২৬)
ক্রমিক কর্মকর্তার নাম আগমন প্রস্থান
২৬ জনাব মো: কামরুল ইসলাম (আইজিপি ব্যাচ) ১৬-০৬-২১ ৩১-১০-২৩
২৭ জনাব মো: আব্দুল মতিন ৩১-১০-২৩ ০৯-০৮-২৪
২৮ জনাব মো: আতাউর রহমান (আইজিপি ব্যাচ) ১০-০৮-২৪ ১৫-০৯-২৪
২৯ জনাব মো: মনিরুল ইসলাম (আইজিপি ব্যাচ) ১৫-০৯-২৪ ০৬-১০-২৪
৩০ জনাব মুহাম্মদ রুহুল আমিন (আইজিপি ব্যাচ) ০৭-১২-২৪ ১৮-০৯-২৫
৩১ জনাব মো: হাসান বাসির (আইজিপি ব্যাচ) ০৮-১২-২৫ বর্তমান

তবে ২০০৫ সালে মডেল থানা হওয়ার পর প্রথম ওসির দায়িত্ব পালন করেন এসএম আবু ফরহাদ। এরপর কামরুল ইসলাম, হিফজুর আলম মুন্সি ও খায়রুল ইসলামের মতো কর্মকর্তারা এখানে মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন তারা ।

​সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় গোদাগাড়ী থানার প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো মাদক (বিশেষ করে হেরোইন) ও অনলাইন জুয়া, চোরাচালান রোধ। বর্তমান ওসির নেতৃত্বে নিয়মিত রেকর্ড পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে থানাটি সারা দেশে আলোচিত হচ্ছে। ‘ওপেন ডে পুলিশিং’ এবং ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে এই মডেল থানা।
​প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রেখে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানা আগামী দিনে আরও জনবান্ধব হয়ে উঠবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।

মাদক ও অনলাইন জুয়া, অপরাধমুক্ত গোদাগাড়ী গড়তে জিরো টলারেন্স ঘোষণা ওসির।
বর্তমানে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন জনাব মোঃ হাসান বাসির (আইজিপি ব্যাচ প্রাপ্ত)।
কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিকবার জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে থানার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।

​শতবর্ষী গোদাগাড়ী মডেল থানার ঐতিহ্য ধরে রেখে সেবার মানকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোঃ হাসান বাসির (আইজিপি ব্যাচ প্রাপ্ত)। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে থানার বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

ওসি হাসান বাসির বলেন, গোদাগাড়ী একটি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে মাদকের চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। তবে আমাদের নীতি স্পষ্ট মাদক ও অনলাইন জুয়া খেলার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’। গত এক বছরে আমরা কোটি কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করেছি এবং বিপুল সংখ্যক অপরাধীকে আইনের আওতায় এনেছি। মাদক ও অনলাইন জুয়া নির্মূলে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

থানার সেবার মান নিয়ে তিনি বলেন, আমরা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। পুরো উপজেলাকে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে, যা সরাসরি থানা থেকে মনিটর করা হয়। এছাড়া বিট পুলিশিং ও ওপেন হাউজ ডে-র মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের দূরত্ব এখন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

থানায় সংরক্ষিত ব্রিটিশ আমলের নথিপত্র ও ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, বর্তমানে আমাদের থানায় নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ডেস্ক অত্যন্ত কার্যকর। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় অর্ধশত নারী ও শিশু এখান থেকে আইনি সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং পাচ্ছেন। আমরা চাই গোদাগাড়ী মডেল থানা হবে সাধারণ মানুষের আস্থার শেষ ঠিকানা।

তাড়াশে দুস্থদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ

জরুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
তাড়াশে দুস্থদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক শতাধিক অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ডানা ইলেকট্রনিক্স এর  উদ‍্যোগে ঈদের সামগ্রী হিসেবে, তেল, খেজুর,  চিনি, চাল, এবং লাচ্ছার সমন্বয়ে বিশেষ প্যাকেট প্রস্তুত করে ১ শতাধিক পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়।

বুধবার  (১১ মার্চ)  সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার দিঘীসগুনা এম, এ, আর, নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে মাঠে ডানা ইলেকট্রনিক্সের মালিক ও উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মির্জা ফারুক আহমেদ  উপস্থিত থেকে ঈদের সামগ্রী বিতরণের উদ্বোধন করেন।

এ সময় আরও  উপস্থিত ছিলেন, দিঘীসদগুনা এম,এ, আর নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মির্জা আব্দুর রশিদ মাহমুদ (বকুল), উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারিক খন্দকার, মো জহুরুল ইসলাম, মির্জা রাকিবুল ইসলাম (শরিফ),  মো ইউনুস আলী প্রমুখ।

ঈদের  সামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে কষ্ট হচ্ছিল। এই সহায়তা তাদের ঈদের আনন্দের  স্বস্তি এনে দিয়েছে।’

ডানা ইলেকট্রনিক্সের মালিক মির্জা ফারুক আহমেদ জানান, রমজান আত্মসংযম ও সহমর্মিতার মাস। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে এসে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।

error: Content is protected !!