শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৪, ৩:৩৮ পিএম | 128 বার পড়া হয়েছে
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাকে আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে ট্রাইবুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  

চিফ প্রসিকিউটরের করা আবেদন গ্রহণ করে আজ বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বেঞ্চর অন্য সদস্যরা হলেন, বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালে হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন আমলের সব হত্যা, গণহত্যা, বিচার বহির্ভূত হত্যা, পিলখানা হত্যার বর্ণনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চায় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর নিয়োগের পর প্রথম কর্মদিবসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মহিতুল হক এনাম চৌধুরী এদিন ট্রাইব্যুনালে আসেন। এ সময় ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার ও অন্য কর্মকর্তারা তাদের অভ্যর্থনা জানান।

গত ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্যদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করতে ২০১০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। সেই ট্রাইব্যুনাল জামায়াত-বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষণা করা হয় এবং তা কার্যকরও হয়।

এর মধ্যেই গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারায় এই আন্দোলনে। হাসিনা সরকারের ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিলে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার করার সিদ্ধান্ত হয়।

ছাত্র আন্দোলনের সময় কয়েকশ মৃত্যুর ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বিবেচনা করে শেখ হাসিনাসহ ক্ষমতাচ্যুত সরকারের কয়েক ডজন মানুষের বিরুদ্ধে বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে এরইমধ্যে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ

চাঁদাবাজি থেকে সরকারি প্রকল্পে বাধা: ময়মনসিংহে আইনের শাসনের পরীক্ষা

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৬:৪২ পিএম
চাঁদাবাজি থেকে সরকারি প্রকল্পে বাধা: ময়মনসিংহে আইনের শাসনের পরীক্ষা

ময়মনসিংহ মহানগরী ও সংলগ্ন এলাকায় গত ছয় মাসে একাধিক সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে চাঁদাবাজি,সশস্ত্র হামলা,সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা,সাংবাদিক ও শিক্ষা– প্রতিষ্ঠানের প্রতি হুমকি,জোরপূর্বক লিখিত ও ভিডিও স্বীকারোক্তি আদায়। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন,পুলিশ ও বিশেষ বাহিনীসহ গোটা আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কালানুক্রমিক অভিযোগ ও ঘটনায় চোখ রাখা যায়: ২৩ জুন ২০২৫ – মাদ্রাসায় চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি। পালপাড়া,১৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত মদিনাতুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসায় রাত ১০টার দিকে ২০–২৫ জনের একটি দল ১,৫০,০০০ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ – সরকারি সড়ক নির্মাণে বাধা। আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কারিতাস মোড় পর্যন্ত নির্মাণ কাজ চলাকালীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ। পুলিশ মামলাটি গ্রেপ্তার সহ আদালতে পাঠালে পরদিন জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ – সংবাদকর্মীর প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা। বলাশপুরে ২টি ইজিবাইক ও নগদ ২০,০০০ টাকা লুট, ৫০ টাকার স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় এবং ভিডিও ধারণ করে “সংবাদ মিথ্যা” স্বীকার করানো হয়। পালপাড়া এলাকায় সরকারি জায়গা দখল–স্থানীয়দের অভিযোগ,একটি সরকারি খোলা জায়গা দখল করে সেখানে মাদক ব্যবসা ও অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এলাকাটি ধীরে ধীরে মাদককেন্দ্র ও অপরাধ সংঘটনের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। ৬ জানুয়ারি ২০২৬ – পূর্ববর্তী ঘটনার প্রেক্ষিতে মোবাইল ভিডিও ধারণ করে “চাঁদা দাবির অভিযোগ মিথ্যা” স্বীকার করানোর চেষ্টা। ২০ জানুয়ারি ২০২৬ – ভোরে বাসায় অনুপ্রবেশ, ৩০,০০০ টাকা চাঁদা দাবিসহ লুটপাট ও ১০০ টাকার দুটি সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায়। অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থা: স্থানীয়রা জাহাঙ্গীর ওরফে “সুন্দরী জাহাঙ্গীর” ও তার সহযোগীদের নাম উল্লেখ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা হিসেবে পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব-১৪ ও সিআইডি তদন্তে নিয়োজিত। আইনগত কাঠামো: বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০,ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ অনুসারে এসব অভিযোগ শাস্তিযোগ্য। বিশেষত চাঁদাবাজি, ডাকাতি,জোরপূর্বক লিখিত ও ভিডিও স্বীকারোক্তি আদায়,সরকারি সম্পত্তি দখল ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ আইনের আওতায় পড়ে।
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া বনাম বাস্তবতা: প্রশাসন চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। তবে পৃথক মামলার অগ্রগতি, ভুক্তভোগী সুরক্ষা এবং জামিন-পরবর্তী নজরদারি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে,তা এখনও পরিস্কার নয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন: সরকারি জায়গা দখল করে অপরাধকেন্দ্র গড়ে ওঠার অভিযোগ সত্য হলে,তা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মাদক বিস্তার, অপরাধচক্রের প্রভাব বৃদ্ধি এবং নাগরিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। প্রমাণ ও ডকুমেন্টেশন: জিডি/এফআইআর নথি,ভিডিও ও অডিও প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ,সংবাদপত্র প্রতিবেদন এবং প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত। সুপারিশ:
তাৎক্ষণিক: সমন্বিত তদন্ত টিম (পুলিশ + র‍্যাব + সিআইডি),ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ,ভুক্তভোগী ও সাক্ষী সুরক্ষা। দীর্ঘমেয়াদি: চাঁদাবাজি প্রতিরোধ টাস্কফোর্স,উন্নয়ন প্রকল্পে নিরাপত্তা প্রটোকল, জেলা পর্যায়ে জবাবদিহি প্রতিবেদন প্রকাশ।
সর্বশেষ: যদি অভিযোগ গুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি আইনের শাসন,প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং নাগরিক নিরাপত্তার মৌলিক প্রশ্নে রূপান্তরিত। দ্রুত,দৃশ্যমান এবং নিরপেক্ষ তদন্তই জনমনে আস্থা পুনঃস্থাপন করতে পারে।

এ.এস.এম হামিদ হাসান, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

এ.এস.এম হামিদ হাসান, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৪ পিএম
কিশোরগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের নিলাম সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা। পাশাপাশি সকল হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সহকর্মীরা।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে জেলা শহরের আখড়া বাজার চত্বরে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে কিশোরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ।

কর্মসূচিতে কিশোরগঞ্জ প্রেস ক্লাব, কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম, কিশোরগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আহত দুই সাংবাদিক হলেন—চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি খায়রুল আলম ফয়সাল (৩৭) এবং গ্লোবাল টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ফয়জুল ইসলাম ভূইয়া পিংকু (৪২)। তারা দুজনই কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক।

সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন আসরের নামাজের পর ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানকৃত বিভিন্ন সামগ্রী নিলামে তোলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অল্প দামে এসব সামগ্রী কিনে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যান চারজন সাংবাদিক। এ সময় ওই সিন্ডিকেটের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে মব সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় খায়রুল আলম ফয়সাল ও ফয়জুল ইসলাম ভূইয়া পিংকু গুরুতর আহত হন।

পরে মসজিদের দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সহায়তায় আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা বর্তমানে বাসায় ফিরে গেছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফয়জুল ইসলাম ভূইয়া পিংকু বৃহস্পতিবার রাতে বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৮ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

মানববন্ধনে সাংবাদিকরা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যে নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন, তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এটি শুধু সাংবাদিকদের ওপর হামলা নয়, এটি স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর আঘাত। আমরা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

কিশোরগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এমন সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দাবি জানাই—ভিডিও ফুটেজ দেখে অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কামাল ভূঞা জানান, হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত জীবন ও মনা নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে এবং দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেলিম মাহবুবঃ

ছাতকে হাওর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ

সেলিম মাহবুবঃ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩১ পিএম
ছাতকে হাওর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ

ছাতকে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ পরিদর্শন করেছেন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে ছাতক উপজেলার সিংচাপইড়,জাউয়াবাজার,দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের চাউলির হাওর এলাকায় ৮,১৮,২৪,২০ ও ১৫ নং পিআইসি পরিদর্শন করা হয়।

পরিদর্শনকারী নেতৃবৃন্দ জানান, অধিকাংশ বাঁধের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ৮ নাম্বার পিআইসিতে খণ্ড-খণ্ড স্থানে বাঁধ নির্মাণ শেষ হলেও সেখানে জরুরি ভিত্তিতে ঘাস লাগানো প্রয়োজন। অন্যথায় বৃষ্টি হলে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ওই পিআইসিতে কোনো সাইনবোর্ডও দেখা যায়নি।

১৮ নাম্বার পিআইসির কাজ শেষ হলেও এখনও ঘাস লাগানো হয়নি। ২০ নাম্বার পিআইসিতে সাইনবোর্ড রয়েছে এবং কাজও শেষ হয়েছে। তবে মাঝখানে কাজ সম্পন্ন হলে ও পূর্ব এবং পশ্চিম পাশের কিছু অংশে এখনও মাটি ভরাট হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই অংশটি পিআইসির আওতার বাইরে রয়েছে।

১৫ নাম্বার পিআইসির কাজ শেষ হয়েছে এবং সাইনবোর্ডও রয়েছে। তবে ঘাস লাগানোর কাজ এখনও বাকি রয়েছে। ২৪ নাম্বারপিআইসির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে,তবে মাঝখানে কিছু অংশে এখনও কাজ চলমান। যে অংশের কাজ শেষ হয়েছে সেখানে ঘাস লাগানো জরুরি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,বাঁধের কাজ প্রায় ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাঁধের কাজ গত ২৮ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে অসম্পূর্ণ কাজ যথাযথভাবে শেষ করার জন্য সরকারি ভাবে আরও ১৫ দিন সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন ছাতক শাখার আহবায়ক দিলোয়ার হোসেন ও সদস্য সচিব উজ্জীবক সুজন তালুকদার বলেন, বাঁধের কাজ মোটামুটি শেষ এবং পর্যাপ্ত মাটি দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকটি স্থানে ঘাস লাগানো হয়নি, কোথাও কোথাও মাটিতে ফাটল দেখা গেছে এবং কিছু জায়গায় মাটি অগোছালো রয়েছে,বিভিন্ন পিআইসি খন্ড- খন্ড স্থান নিচু রয়েছে।তারা আশা প্রকাশ করেন সময়সীমা বাড়ানো হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ সকল সমস্যার সমাধান করা হবে। অন্যান্য পিআইসি গুলোতে শিগগিরই জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ তারা পরিদর্শন করবেন। পাশা পাশি প্রশাসন ও মনিটরিং কমিটির নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, ছাতকে ২৭ টি পিআইসি পরিদর্শনের মাধ্যমে হাওর রক্ষা বাঁধকে মজবুত ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। পরিদর্শনকালে সংগঠনের সিনিয়র সদস্য জামিল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

error: Content is protected !!