শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২
শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২

কুড়িগ্রামে প্রকাশ্য নিলাম গোপনে বেনামে সারলেন এসিল্যান্ড, কবে নিলাম হয়েছে জানেন না সর্বোচ্চ দরদাতা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৬ পিএম | 29 বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামে প্রকাশ্য নিলাম গোপনে বেনামে সারলেন এসিল্যান্ড, কবে নিলাম হয়েছে জানেন না সর্বোচ্চ দরদাতা

প্রকাশ্য নিলাম আহ্বান করেও গোপনে ও বেনামে সরকারি গাছ কাটার নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। নিলামের নামে অতিরিক্ত সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সম্প্রতি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিস চত্বরে।

সর্বোচ্চ দরদাতাই জানেন না কবে, কোথায় নিলাম হয়েছে

অভিযোগ উঠেছে, আর্থিক সুবিধা নিয়ে পছন্দের ব্যক্তির কাছে নামমাত্র মূল্যে সরকারি গাছ বিক্রি করতেই এই গোপন নিলামের আয়োজন করা হয়েছে। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত নুর আলম নিজেও জানেন না কবে এবং কোথায় নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তিনি নিলামে উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানিয়েছেন।

সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত নুর আলম বলেন, “আমি জানি না কবে, কোথায় নিলাম হয়েছে। আমি উপস্থিত ছিলাম না। শুনেছি, আমার নামে আমার মামা নিলামে অংশ নিয়েছিলেন।”

নিলাম বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন, পার্কিং ও রাস্তা নির্মাণের জন্য অফিস চত্বরে থাকা ১৭টি মেহগনি ও ১টি কাঁঠাল গাছসহ ছোট-বড় মোট ২১টি গাছ প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে কেটে অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়। এ নিয়ে গত ৫ মার্চ প্রকাশ্য নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে গাছ নিলাম কমিটি। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমিটির সভাপতি এবং এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম কমিটির সদস্য সচিব।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১৫ মার্চ কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিস চত্বরে প্রকাশ্য নিলাম ডাকের মাধ্যমে এসব গাছ বিক্রি করা হবে। ২১টি গাছের নিলাম ডাক মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ১ হাজার ৪১০ টাকা। তবে নির্ধারিত তারিখে ইউনিয়ন ভূমি অফিস চত্বরে গিয়ে আগ্রহীরা কোনো নিলামের আয়োজন দেখতে পাননি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোনো ঘোষণা ছাড়াই গোপনে নিজ কার্যালয় সদর উপজেলা ভূমি অফিসে বেনামে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম। মাত্র তিনজন ব্যক্তিকে উপস্থিত ও নিলামে অংশগ্রহণকারী দেখিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার টাকায় নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন দেখানো হয়।

২১টি নয়, কাটা হয়েছে ২৮টি গাছ

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিলামে ২১টি গাছ বিক্রি করা হলেও ঈদের ছুটির সুযোগ নিয়ে ২৮টি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত এসব গাছের জন্য বাড়তি সুবিধা নিয়েছেন নিলাম সংশ্লিষ্টরা। গাছ কাটার সময় ভূমি অফিসের কোনো কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম গাছ কাটার সময় উপস্থিত না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

অতিরিক্ত গাছ কাটার কথা স্বীকার করে সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুল জালাল বলেন, “বন বিভাগ ২১টি গাছ চিহ্নিত করলেও লে-আউটের জন্য ২ থেকে ১টি গাছ বেশি কাটা হয়েছে। তবে তা এসিল্যান্ড স্যারের অনুমতি সাপেক্ষে।

পোরশায় সড়কে রশি টেনে ডাকাতি: বাবা-ছেলেসহ ৪ ডাকাত গ্রেফতার

মর্তুজা শাহাদত সাধন, নওগাঁ প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
পোরশায় সড়কে রশি টেনে ডাকাতি: বাবা-ছেলেসহ ৪ ডাকাত গ্রেফতার

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় সড়কে রশি টেনে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— সাপাহার উপজেলার খোট্টাপাড়া গ্রামের আবু তাহের (৫৬) ও তাঁর ছেলে কামাল হোসেন (২৩), নওগাঁ সদর উপজেলার দোগাছী দক্ষিণপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা (৫৫) এবং মহাদেবপুর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের মোস্তাক আহমেদ (৪৬)।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পোরশা উপজেলার সারাইগাছী-খাট্টাপাড়া ফকিরের মোড় এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দলটি একটি সেতুর ওপর রশি টেনে ছয়জন আরোহীসহ দুটি মোটরসাইকেলের পথরোধ করে। পরে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, একটি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন মোবাইল ফোন এবং ১২৫ সিসির দুটি ডিসকভার মোটরসাইকেল লুটে নেয়।

ডাকাতরা ভুক্তভোগীদের পাশের একটি আম বাগানে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় পরদিন পোরশা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, মামলার তদন্তে নেমে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই ব্যবহার করে মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে। পরবর্তীতে নওগাঁ সদর ও মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে মাদক ও দ্রুত বিচার আইনে দুটি, আবু তাহেরের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ পাঁচটি, কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি এবং মোস্তাক আহমেদের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ আটটি মামলা চলমান রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ডাকাত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নাটোরে ১২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারি আটক

মো: রাজিবুল ইসলাম বাবু বিশেষ প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৩ পিএম
নাটোরে ১২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারি আটক

নাটোরে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে নাটোর সদর থানাধীন চকরামপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- রাজবাড়ী সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মৃত কাসেম শেখের ছেলে লিটন শেখ (৪২) এবং নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ছাতিয়ানগাছা মন্ডলপাড়া গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩৫)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় , গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৩টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত শহরের চকরামপুর এলাকায় ইসলামিয়া পচুর হোটেলের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় কুড়িগ্রাম থেকে ফরিদপুরগামী শাহী ক্লাসিক (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৫৩৫৭) নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের দুই যাত্রীর কাছে থাকা স্কুল ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক খন্দকার নাজিম উদ্দিন।

এ ঘটনায় পরিদর্শক খন্দকার নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আটক ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মো: রাজিবুল ইসলাম বাবু
বিশেষ প্রতিনিধি
নাটোর।
০১৩১০-৩২১ ৩০৬.
০১৭৪০-৮১৫ ৫০৬.
৩ এপ্রিল ২০২৬.

সুন্দরবন থেকে অস্ত্র-গুলিসহ দুই বনদস্যু আটক, উদ্ধার ৩ জেলে

রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০২ পিএম
সুন্দরবন থেকে অস্ত্র-গুলিসহ দুই বনদস্যু আটক, উদ্ধার ৩ জেলে

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযানে  অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ  দুই বনদস্যু আটক। এসময় উদ্ধার করা হয় মুক্তি পনের দাবিতে দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা  তিন জেলেকে।
‎শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন, কোস্টগার্ড  পশ্চিমজোন এর মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন ।

‎তিনি জানান,গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত দস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী সদস্যরা সুন্দরবনের বাইনতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে,  শুক্রবার ভোরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা বনের ভেতর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আভিযানিক দল কর্তৃক দস্যুদের ধাওয়া করে। এসময় ২টি একনলা বন্দুক, ২৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১,১০০ টাকাসহ  বন দস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করে তাদের আস্তানা ধ্বংস করা হয়।

‎কোস্টগার্ড জানায়, আটক বন দস্যু মোঃ সোহাগ হাওলাদার (৩৫) বাগেরহাটের শরণখোলা এবং বাবুল সানা (৪২) খুলনার পাইকগাছা থানার বাসিন্দা। উভয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতি করে আসছিল।

‎অপরদিকে, আরও একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের খোল ডাঙ্গ খাল সংলগ্ন এলাকা বনদস্যু জোনাব বাহিনীর আস্তানায় অভিযান চালায় কোস্টগার্ড। এসময় মুক্তিপণের দাবিতে দস্যু বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ৩ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্টগার্ডের অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কোন বন দস্যুকে আটক করতে পারেনি কোস্টগার্ড।

‎এ সময় দস্যুদের আস্তানা থেকে ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৩টি ওয়াকিটকি চার্জার, ৩টি মোবাইল ব্যাটারি ও ১টি কুড়াল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জেলে ইনতাজ (৫০), মোশাররফ (৪২) ও আনিস (৪৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা।

‎আটককৃত ডাকাত, জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় কোস্টগার্ড।

‎কোস্টগার্ড সুত্রে জানাযায়, গত বছরের শুরু থেকে  অদ্যাবধি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে কুখ্যাত করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীর মোট ৬১ জন দস্যুকো আটক  করা হয়েছে। ওই সব অভিযানে  ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩০৮ রাউন্ড ফাঁকা গোলা ও ১,৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি জব্দ এবং দস্যুদের কবল থেকে ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

error: Content is protected !!