ফেনীতে মানবাধিকার সংগঠনের বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী
নতুন সদস্যদের পরিচিতি, মানবাধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
ফেনীতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তাকারী সংস্থার উদ্যোগে জমকালো পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল ফিতর পুনর্মিলনী ও নতুন সদস্য পরিচিতি সভা।
শহরের সৌদিয়া হোটেলের দ্বিতীয় তলায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংস্থার নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সহকারী যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ হানিফ।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মাওলানা দেলোয়ার হোসেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ নুর ইসলাম ও রবিউল আলম মিটু। আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন দাগনভূঞা উপজেলার সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মাস্টার আবুল কাশেম।
তিনি তার বক্তব্যে মানবাধিকার রক্ষায় সংগঠনের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সমাজে অবহেলিত, নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের সংখ্যা কম নয়। তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা কেবল দায়িত্ব নয়, এটি একটি নৈতিক কর্তব্য—যা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের পালন করা উচিত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফেনী জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামসুল হক চৌধুরী তিনি শিক্ষার মাধ্যমে মানবাধিকার সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, একটি শিক্ষিত সমাজই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে পারে।
তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। নতুন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে শিক্ষক সমাজের সক্রিয় ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
আরেক বিশেষ অতিথি আলাউদ্দিন ভূঁইয়া তার বক্তব্যে বলেন, মানবাধিকার কেবল একটি শব্দ নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।
তিনি সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহকারী পরিচালক হাফেজ বরকত উল্ল্যাহ বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামসহ সকল ধর্মেই মানবাধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ফেনী সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাক্তার কামরুজ্জামান জিকু, এডভোকেট রোমানা আক্তার নিপু এবং নারী ও শিশু নির্যাতন ব্যুরোর প্রধান রোকসানা আক্তার সুমি।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি আইনি সহায়তা সহজলভ্য করা এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
সভায় নতুন সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, যা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ।
নবাগত সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ হানিফ সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, নতুন সদস্যদের সম্পৃক্ততা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, প্রতিটি সদস্য মানবাধিকার বিষয়ে নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে ভূমিকা রাখবেন।
তিনি বলেন, মানবাধিকার রক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ফেনী জেলা শাখার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী, তথ্য অফিসার আলা উদ্দিন ভুঁইয়া, জেলা তথ্য অফিসার ওসমান, ফেনী পৌর সভাপতি উসমান গনীসহ দাগনভূঞা, ফুলগাজী ও সোনাগাজী উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ।
এছাড়াও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
ঈদ পুনর্মিলনীর অংশ হিসেবে উপস্থিত অতিথিরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এতে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা পুরো অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
অংশগ্রহণকারীরা এ আয়োজনকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন অনুষ্ঠানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সার্বিকভাবে অনুষ্ঠানটি ছিল সুশৃঙ্খল, প্রাণবন্ত ও সফল। মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।








