ওসমানীনগরে এর এক স্বপ্নবাজ তরুণের ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ
সিলেটের ওসমানীনগরে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্বপ্নবাজ তরুণ মোহাম্মদ আব্দুর রহিম। প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝেও নাড়ির টানে নিজ গ্রামের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে গত এক দশক ধরে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ পরিচালনা করছেন তিনি। তাজপুর ইউনিয়নের কাশিপাড়া গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বি মোহাম্মদ সিরাজ মিয়ার ছেলে আব্দুর রহিমের এই মানবিক কাজ এখন পুরো উপজেলায় প্রশংসিত।
বিলেত প্রবাসী হয়েও এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি তার এই মমত্ববোধ এক অনন্য উদাহরণ। গ্রামের যেকোনো অসহায় মানুষ বিপদে পড়লে সবার আগে ভরসার স্থল হিসেবে খুঁজে নেন তাকে। তিনিও প্রবাস থেকে সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাদের তরে।
তবে তার সবচেয়ে আলোচিত এবং ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি হলো— ‘লাল মোরগের প্যাকেজ’। প্রতি বছর পবিত্র রমজানের শেষ দিকে তিনি গ্রামের কর্মজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন এই বিশেষ উপহার। প্রায় ২ হাজার টাকা সমমূল্যের প্রতিটি প্যাকেজে থাকে একটি জ্যান্ত বড় লাল মোরগ। এর সাথে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলু, ময়দা ও সেমাইসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়।
এলাকাবাসীর কাছে এই বিশেষ উপহার এখন ‘আব্দুর রহিমের ঈদ উপহার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশেষ করে দিনমজুর ও অভাবী পরিবারগুলোর কাছে একটি জীবন্ত লাল মোরগ যেন ঈদের খুশিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। টানা ১০ বছর ধরে এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে আব্দুর রহিমের পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুর রহিম শুধু একটি নাম নয়, তিনি ওসমানীনগরের এক মানবিক প্রতিচ্ছবি। তার এই সৃজনশীল ও কল্যাণকর কাজগুলো তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা।
নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে মোহাম্মদ আব্দুর রহিম জানান, “মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে আমি পেশা নয়, নেশা হিসেবে নিয়েছি। নতুন কিছু সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজের অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করাই আমার মূল লক্ষ্য।”
ভবিষ্যতে তার এই সেবাধর্মী কার্যক্রমকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে তিনি সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের কাছে দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।








