হার মানেননি তুলি বেগম
দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে যাদের পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন, আজ সেই সন্তানরাই তাঁকে ভুলে গেছে। নিজের সতীত্বের টাকা আত্মসাৎ করে স্বামী পালিয়েছে অন্য নারীর টানে।
কিন্তু হার মানেননি মা তুলি বেগম। নিজের অসুস্থ মেয়ে আর নাতি-নাতনিদের মুখে অন্ন তুলে দিতে দুই হাতে ধরেছেন অটোরিকশার হ্যান্ডেল।
এক সংগ্রামী মায়ের করুণ আর্তি:
সন্তানদের চরম অবহেলা: মেজো ছেলে মারা যাওয়ার পর বড় ছেলে একবার এসেছিল, তারপর আর খোঁজ নেয়নি। মা ফোন দিলেও রিসিভ করে না।
নিজের জন্মদাত্রী মা কোথায় থাকে, কী খেয়ে বাঁচে—সেই খবর নেওয়ার সময় নেই প্রতিষ্ঠিত সন্তানদের।
বিসর্জন যখন মাতৃত্ব:
পেটে সন্তান নিয়ে মাথায় ইটের কড়াই তুলে রাজমিস্ত্রির লেবারের কাজ করেছেন। পিঠে সন্তান বেঁধে ভারতের চিনি এনে বাংলাদেশে বিক্রি করেছেন। আজ সেই মা-ই সন্তানদের কাছে সবচেয়ে বড় ‘বোঝা’।
লড়াইয়ের জীবন:
রাজশাহী শহর থেকে ২৫-৩০ কিলোমিটার দূরে অটোরিকশা চালিয়ে সারাদিন যা আয় হয়, তার বড় অংশ চলে যায় গ্যারেজ ভাড়ায়। অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসার জন্য নিজের গাড়িটি বন্ধক রেখে এখন অন্যের গাড়ি ভাড়া খাটছেন। দুপুরে মাত্র ৩০ টাকার একটি ‘কালা রুটি’ খেয়ে চলে তাঁর সারাদিনের লড়াই।
যাত্রীদের প্রতি এক বিশেষ অনুরোধ:
তুলি বেগম আক্ষেপ করে বলেন, “রাস্তায় বের হলে অনেকে মেয়ে মানুষ দেখে আমার গাড়িতে উঠতে চায় না। আমি তো ভিক্ষা চাইছি না, শুধু আমার গাড়িতে উঠলেই খুশি হতাম।”
আমাদের বিবেক কি জাগবে না?
যে মা তাঁর জীবনের সব সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের মানুষ করলেন, আজ সেই মায়ের কপালে কেন এই দুর্ভোগ? উচ্চশিক্ষা আর টাকা-পয়সা কি আমাদের এতটাই অন্ধ করে দিয়েছে যে আমরা
নিজের মাকেও চিনতে পারি না?
আসুন, রাজশাহীর এই লড়াকু মায়ের পাশে দাঁড়াই। অন্তত রাস্তায় তাঁকে দেখলে তাঁর গাড়িতে উঠে তাঁর মনোবল বাড়াই।

















