মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

মামুনুর রশীদ মামুনঃ

সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও হামলা: কবে আসবে কার্যকর সাংবাদিক সুরক্ষা আইন?

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম | 70 বার পড়া হয়েছে
সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও হামলা: কবে আসবে কার্যকর সাংবাদিক সুরক্ষা আইন?

গণতান্ত্রিক সমাজে সংবাদমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের “চতুর্থ স্তম্ভ”। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা,জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর সেই সংবাদমাধ্যমের মূল চালিকাশক্তি হলেন সাংবাদিকরা। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন চিত্র হলো—যারা সমাজের অন্যায়,দুর্নীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরেন,অনেক সময় তারাই সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ হয়ে পড়েন। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা,হুমকি,মামলা কিংবা নানামুখী হয়রানির ঘটনা নতুন নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের মারধর,ক্যামেরা বা সরঞ্জাম ভাঙচুর,এমনকি জীবননাশের হুমকির মতো ঘটনা মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি বা অনিয়মের খবর প্রকাশের পর অনেক সাংবাদিককে চরম চাপের মুখে পড়তে হয়। কখনো রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল,কখনো অপরাধী চক্র কিংবা কখনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রোষানলে পড়তে হয় তাদের। এই বাস্তবতায় একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য প্রকাশ করেন,তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার? সংবিধান নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বাধীনতা প্রয়োগ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে নানা বাধা ও ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ করেন। মাঠে কাজ করার সময় তারা প্রায়ই স্থানীয় ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর চাপে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রে হামলা বা ভয়ভীতির ঘটনা ঘটলেও যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হয় না।
এই পরিস্থিতি শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; এটি মূলত গণতন্ত্র ও সুশাসনের প্রশ্ন। কারণ সাংবাদিক যদি নিরাপদ না হন,তবে স্বাধীনভাবে সত্য তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। আর সত্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হলে সমাজে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে যায়। তখন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধও দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশ্বের অনেক দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ আইন রয়েছে। এসব আইনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা,সংবাদ সংগ্রহে বাধা প্রদান কিংবা পেশাগত কাজে হস্তক্ষেপকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে আইনি কাঠামো সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশেও দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের দাবি উঠছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখনো একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। একটি কার্যকর সাংবাদিক সুরক্ষা আইনে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। যেমন—সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের কাজে বাধা প্রদানকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা,সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হুমকির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার অপব্যবহার প্রতিরোধে আইনি সুরক্ষা দেওয়া। এছাড়া সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। কোনো সাংবাদিক হুমকি বা হামলার শিকার হলে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা থাকা জরুরি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার—সাংবাদিক সুরক্ষা আইন মানে সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করা নয়। বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশাকে নিরাপদ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ দেওয়া। একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও পেশাগত নৈতিকতা,তথ্যের নির্ভুলতা এবং দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে।
কারণ একটি শক্তিশালী গণমাধ্যমের জন্য যেমন স্বাধীনতা প্রয়োজন,তেমনি প্রয়োজন পেশাগত দায়বদ্ধতা। বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে আরও টেকসই ও অর্থবহ করতে হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আর সেই প্রক্রিয়ায় স্বাধীন ও নিরাপদ সাংবাদিকতা একটি অপরিহার্য উপাদান। সুতরাং এখন সময় এসেছে বিষয়টিকে নতুন করে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন আজ শুধু একটি পেশাগত দাবি নয়; এটি গণতন্ত্রের স্বার্থেই প্রয়োজন। কারণ সত্যের পথ যত নিরাপদ হবে,রাষ্ট্র ও সমাজ ততই শক্তিশালী হবে।

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

ডিমলার ঝুনাগাছচাপানীতে মানব সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন ডাক্তার মাহাবুবর রহমান

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
ডিমলার ঝুনাগাছচাপানীতে মানব সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন ডাক্তার মাহাবুবর রহমান

নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় গরিব, দুঃখি, অসহায় দরিদ্র এতিম,ছোট,বড় সর্ব সাধারন মানুষের মাঝে আলোচিত এক নাম-ডাক্তার মাহাবুবর রহমান  ।পেশায় তিনি উপজেলার ৮নং ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নের চাপানীহাটে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ।তিনি এলাকার বিভিন্ন খেলাধুলা, সামাজিক সাংস্কৃতিক ও সেবামুলক সংগঠনের সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত আছেন।চিকিৎসক মাহাবুবর রহমান   ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ড দক্ষিক সোনাখুলী  (হাজীপাড়া)গ্রামের হাফেজ ইব্রাহীম হোসেনের ছেলে। তিনি তার ৭নং ওয়ার্ড এলাকায় সামাজিক উন্নায়ন মুলক কাজ করে যাচ্ছে। কার ঘরে খাবার আছে কিনা, কেউ না খেয়ে আছে নাকি,কারা কোন অসুখ হল নাকি,কার মেয়ের বিয়ে,কোন অসুস্হ রোগীকে মেডিকেল নিয়ে যেতে হবে কিনা।প্রতিদিনে খোঁজ খবর রাখেন।অভাবে অনাটণের কারনে কেউ যদি দিনাপাত করেন তাদের খাওয়ার ব্যবস্হা করে দেন। অভাব অনাটনে  যে সব ছেলে মেয়েদেন লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তাদের খোঁজ খবর নিয়ে আর্থিক সহযোগীতা করে লেখা পড়ার ব্যবস্হা করেন।ধর্মবর্ন নির্বিশেষে কোন অসহায় ব্যক্তি তার কাছে গেলে তিনি তার সাধ্যমতে সহযোগীতা করেন।কোন গরিব অসহায় ব্যক্তির মেয়ে বিয়ে দিলে সবার আগে হাজির হয় নিজে সহযোগীতা করেন এমনকি অন্যের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিয়ের কাজ সম্পুর্ন করেন।মানবসেবা তার রক্তে মিছে আছে।যেখানে মানবিক বিপর্যয় সেখানে তার উপস্হিত হয়ে। অসহায় মানুষের পাঁশে দাড়াঁনো তাদের কে প্রতিস্ঠিত করে সুন্দর ভাবে জীবন যাপনে সাহায্য করা তার নেশা। তিনি অত্র ইউনিয়নে মসজিদ, মাদ্রাসা, ওয়াজ মাহফিল, ক্রিয়া প্রতিযোগিতায় সহায়তা প্রদান। তরুণ প্রজন্মের, তরুণ সমজকে মাদক থেকে দুরে রাখতে বিভিন্ন খেলা ধুলার আয়োজন করেন,এমনকি অত্র ইউনিয়নে ফুটবল,ব্যাটমিন্টন, ক্রিকেট, হাডুডু খেলার আয়োজন করা হয় সবার আগে তিনি  উপস্থিতি হন। রমজান মাসে ইদুল ফিতর উপলক্ষে তার ৬নং এলাকায় অসহায় দুঃস্হ মানুষের মাঝে সেমাই চিনি,আটা নগদ অর্থ প্রদান করেন।অনেক লুঙ্গি,শাড়ী, জামা কাপড় দেন। শুধু তাই নয় উক্ত এলাকায় রাস্তাঘাট,মসজিদ,মন্দির, সামাজিক উন্নায়ন মুলক কাজে সহযোগীতা করে থাকেন।বাল্যবিবাহ,শিশুশ্রম,নারী

নির্যাতণ,মাদক নিমূলে ব্যাপক ভুমিকা পালন করেন। এমন,মানবিক কল্যানে কাজ করতে যেমন পেয়েছেন ভালোবাসা, তার থেকে বেশি পেয়েছেন এক শ্রেনী সমালোচকদের কাছ থেকে কষ্ট দায়ক কথা,তবু ও থেমে থাকেন নাই। তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন তার কাজ মানব প্রেমী এই মানুষটি। এপ্রতিবেদকের একান্ত সাক্ষাত কারে হোমিওপ্যাথিক ডাঃ মাহাবুবর রহমান   বলেন, ছোট বেলা থেকে মানুষের জন্য কিছু করা বড় স্বপ্ন দেখতাম।বড় হয়ে অসহায় মানুষের জন্য এই সমাজের জন্য কিছু করা বড় আনন্দের বিষয়। ছোট বেলায় ঞ্জান হওয়ার পর হতে  বাবার কাছে শিখেছি মানুষকে সাহায়্য করা সমাজে উন্নায়ন মুলক কাজ করা বড় ইবাদত।বাবা সেই অনুপ্রায়নাকে কাজে লাগিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।আমি নিজে একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার ।  সেখান থেকে কিছু আয় ও নিজের কিছু সম্পতির যে টুকু অংশ আছে। সেটুকু আবাদ করে সংসার চালায়, তার কিছু থেকে মানুষের জন্য কাজ করি।এটাই আমার বড় পাওয়া। অসহায় গরিব মানুষের কল্যানে সব বিত্তবান ব্যক্তিরা যদি এভাবে এগিয়ে আসতো তাহলে সমাজের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হতো বলে অনেকে মনে করেন।

‎রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

‎সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ ‘দয়াল বাহিনী’র সদস্য আটক

‎রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৬:১০ পিএম
‎সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ ‘দয়াল বাহিনী’র সদস্য আটক

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর ১ সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

‎মঙ্গলবার ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখ বিকেলে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

‎তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর এক সদস্য রসদ সরবরাহের নিমিত্তে সুন্দরবনে গমন করবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ান কর্তৃক দাকোপ থানাধীন শিবসা নদীতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকা হতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহকারী আব্দুল হালিমকে আটক করা হয়।

‎পরবর্তীতে আটককৃত ডাকাতের তথ্যের ভিত্তিতে, দুপুর ১টায় দাকোপ থানাধীন টাকাতোলা খাল সংলগ্ন এলাকা হতে ১টি একনলা বন্দুক ও ৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়।

‎আটককৃত ডাকাত আব্দুল হালিম (৩৬) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবৎ দয়াল বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতি এবং ডাকাত দলকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছিলো। জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ডাকাতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা দস্যুদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম বন্দরে ২৭ হাজার টন ডিজেলবাহী ট্যাংকার, পথে আরও ৪টি

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৬:০৬ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দরে ২৭ হাজার টন ডিজেলবাহী ট্যাংকার, পথে আরও ৪টি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। সিঙ্গাপুর থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও চারটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার বন্দরে ভিড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, ‘শিউ চি’ নামের একটি ট্যাংকার সোমবার (৯ মার্চ) প্রায় ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় প্রবেশ করে। বর্তমানে জাহাজটি কুতুবদিয়া উপকূলের কাছে নোঙর করে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর প্রায় ১০ দিন পর এটিই প্রথম ডিজেলবাহী জাহাজ যা বন্দরে পৌঁছেছে।
শিপিং সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও চারটি ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছাবে। এসব ট্যাংকারে মোট প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টনের বেশি পরিশোধিত ডিজেল রয়েছে।
চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় এজেন্ট প্রতিষ্ঠান প্রাইড শিপিং লাইন্স–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যেই সব জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে জ্বালানি খালাসের কাজ শুরু হবে।
শিপিং এজেন্টদের তথ্য অনুযায়ী, ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের একটি ট্যাংকার মঙ্গলবার রাতেই প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া ‘এসপিটি থেমিস’ নামের আরেকটি জাহাজ বৃহস্পতিবার প্রায় ৩০ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া ‘র‍্যাফেলস সামুরাই’ ও ‘চাং হাং হং তু’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার আগামী শনিবারের মধ্যে বন্দরে পৌঁছাতে পারে। প্রতিটি জাহাজেই প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেল। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে, যার বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
এই পাঁচটি ট্যাংকারে আসা ডিজেল দিয়ে স্বাভাবিক হিসাবে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে মজুত বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে দৈনিক সরবরাহ কমিয়ে ৯ হাজার টনে নামিয়েছে। এভাবে সরবরাহ অব্যাহত থাকলে ওই ডিজেল দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।
বর্তমানে যে মজুত রয়েছে এবং নতুন চালান মিলিয়ে মোট জ্বালানি সরবরাহ দিয়ে প্রায় এক মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

error: Content is protected !!