রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২
রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২

দিঘলিয়ায় অপরাধ দমনে সুধী সমাবেশ: মুরাদ হত্যা মামলার দ্রুত বিচার আশ্বাস ডিআইজির

ZAYED HOSSAIN
ZAYED HOSSAIN - Dighlia Representative, Khulna District প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪১ পিএম | 65 বার পড়া হয়েছে
দিঘলিয়ায় অপরাধ দমনে সুধী সমাবেশ: মুরাদ হত্যা মামলার দ্রুত বিচার আশ্বাস ডিআইজির

খুলনা দিঘলিয়া উপজেলায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৭ই মার্চ) দিঘলিয়া উপজেলা প্রাঙ্গণে এ সমাবেশের আয়োজন করে দিঘলিয়া থানা পুলিশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক (পিপিএম)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) সাইফুল ইসলাম। সমাবেশে বক্তারা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক নির্মূল এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক বলেন, “মাদক নির্মূলের সঙ্গে সমাজের সুস্থতা জড়িত। সমাজকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে হলে সমাজের সচেতন মহলকে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি সকল নাগরিককে আইনি সহায়তা প্রদানে পুলিশ প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির কথা জানান। এ সময় দিঘলিয়ার চাঞ্চল্যকর যুবদল নেতা মুরাদ খান হত্যা মামলার বিষয়ে নিহতের স্ত্রীর করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ মামলায় জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে আদালতে সোপর্দ করা হবে।” তিনি নিহতের পরিবারের প্রতি প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, “সমাজে যারা ক্রিমিনাল, চাঁদাবাজ, মাস্তান ও প্রভাব বিস্তারকারী—তাদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন। তথ্যদাতাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে আমি আশ্বস্ত করছি।” তিনি আরও বলেন, “জনগণের সহযোগিতা ছাড়া পুলিশের একার পক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।” পুলিশ সুপার আরও বলেন, “কোনো পুলিশ সদস্য যদি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে সে তথ্য আমাদের দিন। আমরা সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেব। যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আপনারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও যেতে পারেন।”
সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং এলাকার সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা অপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

বোচাগঞ্জে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে কপি চাষে তিন কৃষকের বাজিমাত

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১:০৪ এএম
বোচাগঞ্জে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে কপি চাষে তিন কৃষকের বাজিমাত

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) পদ্ধতিতে ক্লাস্টার ভিত্তিক ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিন কৃষক। আধুনিক পদ্ধতিতে কপির চারা রোপণ করে চাষাবাদ করায় ভালো ফলন পাওয়ায় তারা লাভের মুখ দেখছেন।

উপজেলার রনগাঁও ইউনিয়নের হাটরামপুর (পাবনাপাড়া) গ্রামে ‘হাটরামপুর (পাবনাপাড়া) পার্টনার ফিল্ড স্কুল (GAP)’ এর আওতায় এ ক্লাস্টার প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। গত ২২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা রোপণ করা হয়। এতে এক্সেল সুপার, এটলাস-৭০, এটলাস-৭৫ ও এটম জাতের কপি আবাদ করা হয়েছে।

এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা হলেন— জামাল ইসলাম, বিপ্লব রায় ও মোমিনুল ইসলাম। শুরু থেকেই কৃষকেরা নিয়ম মেনে জমির পরিচর্যা করায় ক্ষেতজুড়ে কপির ভালো ফলন হয়েছে। বর্তমানে তারা ক্ষেত থেকে কপি সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন।

কৃষকদের তথ্যমতে, এ চাষে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬ লাখ টাকার কপি বিক্রি করেছেন তারা। ভালো ফলন ও বাজারদর অব্যাহত থাকলে আরও লাভের আশা করছেন কৃষকেরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ক্লাস্টার প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহা বলেন, উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। 

মাহিদুল ইসলাম হিমেল হাতিয়া (নোয়াখালী)

হাতিয়ায় পৃথক অভিযানে ২৮৫ বস্তা চোরাই চিনি জব্দ

মাহিদুল ইসলাম হিমেল হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫২ এএম
হাতিয়ায় পৃথক অভিযানে ২৮৫ বস্তা চোরাই চিনি জব্দ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে ২৮৫ বস্তা চোরাই চিনি জব্দ করা হয়।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে জব্দকৃত চিনির বিষয়ে হাতিয়া থানা পুলিশ এক প্রেস রিলিজ দেয়। এতে বলা হয়, গোপন সংবাদে জানা যায়, উপজেলার আফাজিয়া বাজারে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চিনি মজুদ রাখা হয়েছে। ফলে গত রাতে উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বাজারের সাহেদ ও রিয়াজ উদ্দিনের ভাড়াকৃত একটি গুদাম থেকে ২০০ বস্তা অবৈধ চিনি জব্দ করা হয়। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা যায়নি। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়।

অপরদিকে শনিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন একই এলাকায় আরেকটি অভিযান চালায়। এ সময় ব্যবসায়ী হেলাল বেপারীর গুদাম থেকে ৭ বস্তা এবং তার বাড়ি থেকে আরও ৭৮ বস্তা অবৈধ চিনি জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত বস্তাগুলোর মধ্যে ৬০ কেজি ও ৪৫ কেজি ওজনের চিনি রয়েছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হাতিয়ার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে চোরাই পণ্য কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করে আসছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন জানান, জব্দ করা চিনিগুলো আপাতত প্রশাসনের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিনোদপুর সরকারপাড়ায় ৯০ বছরের বৃদ্ধা

রিজিয়া বেগমের মানবেতর জীবন: রমজানে পান্তাভাতেই কাটছে দিন

মো: তরিকুল ইসলাম মহম্মদপুর(মাগুরা) প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫০ এএম
রিজিয়া বেগমের মানবেতর জীবন: রমজানে পান্তাভাতেই কাটছে দিন

মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর সরকারপাড়ার ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রিজিয়া বেগম যেন দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে ভিক্ষা করে কোনোভাবে বেঁচে আছেন তিনি।

বয়সের ভারে শরীর ভেঙে পড়েছে, ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। লাঠির ওপর ভর করে কষ্টে কষ্টে কয়েক কদম এগোনোই যেন তার কাছে বড় সংগ্রাম।
অনেক আগেই মারা গেছেন তার স্বামী শাকেন মৃদ্ধা। স্বামী হারানোর পর থেকে যেন একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এই বৃদ্ধা। নেই কোনো সন্তান বা আপনজন, নেই নিজের বলতে একটুকরো জমি বা মাথা গোঁজার ঠাঁই। বর্তমানে অন্যের একটি ছাগল রাখার ঘরের বারান্দায় মাথা গুঁজে কোনোভাবে দিন পার করছেন তিনি। শীত, বৃষ্টি বা ঝড়—কিছুই যেন তার এই অসহায় জীবনের কষ্টকে কমাতে পারেনি।
সরকারি সহযোগিতা বলতে শুধু একটি বয়স্ক ভাতা। তাও আবার তিন মাস পরপর যে সামান্য টাকা পান, তা দিয়ে ঠিকমতো ওষুধই কেনা যায় না। কখনো ওষুধ কিনতে গিয়ে না খেয়ে থাকতে হয়, আবার কখনো খাবার জোগাড় করতে গিয়ে ওষুধ বাদ দিতে হয়। এইভাবেই অসহায়ত্ব আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার।
পবিত্র রমজান মাসেও নেই কোনো স্বস্তি। ইফতার ও সেহরিতে অনেক সময় শুধু পান্তাভাত, আর কখনো সামান্য আলু ভর্তা দিয়েই রোজা রাখছেন এই বৃদ্ধা। চোখে পানি নিয়ে রিজিয়া বেগম বলেন, “কতদিন যে একটুকরো মুরগির মাংস খেয়েছি, মনে নেই। আল্লাহ জানেন আর কতদিন এভাবে বাঁচতে হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, “রিজিয়া বেগমের অবস্থা দেখলে সত্যিই চোখে পানি চলে আসে। বয়সের কারণে এখন আর ঠিকমতো ভিক্ষাও করতে পারেন না। তিনি খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা হরিদাস বলেন, “এই বৃদ্ধার থাকার মতো একটা ঘর নেই, ঠিকমতো খাবারও জোটে না। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ যদি একটু সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে অন্তত জীবনের শেষ সময়টা একটু শান্তিতে কাটাতে পারবেন।”
রমজানের এই পবিত্র মাসে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে এই অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ: ০১৯৩৫৬৮৬৭২৭

error: Content is protected !!