বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

সাব্বির আলম বাবু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে ভোলা জেলার ৫৫৫ বছরের নান্দনিক প্রাচীন স্থাপত্য

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম | 53 বার পড়া হয়েছে
কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে ভোলা জেলার ৫৫৫ বছরের নান্দনিক প্রাচীন স্থাপত্য

কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে ভোলা জেলার ৫৫৫ বছরের নান্দনিক প্রাচীন স্থাপত্য ও পুরাকীর্তি। জেলা সদর হতে ৩০ কিলোমিটার এবং বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদর হতে ৭-৮ কিলোমিটার দক্ষিণে সাচড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে গুড়িন্দা বাড়িতে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে জেলার ৫৫৫ বছরের পুরনো স্থাপনা। এরচেয়ে পুরনো কোনো স্থাপনা ভোলার ইতিহাসে নেই। জেলা তথ্য বাতায়নেও ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি বিভাগে এ ধরনের কোনোকিছুর উল্লেখ নেই। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই এ পুরাকীর্তি দেখতে আসছেন। ছবি তুলছেন। তৎকালীন সময়ের নির্মাণশৈলী দেখে সবাই অবাক হচ্ছেন। এমনকি প্রকৌশলীরাও এর নির্মাণশৈলী দেখে বিস্মিত হচ্ছেন। প্রত্নতত্ত্ব বা পুরাকীর্তি যাদের আকৃষ্ট করে, নিঃসন্দেহে এ স্থাপনা তাদের নিরাশ করবে না। বিভিন্ন পেশাজীবী মহল সরকারিভাবে এ পুরাকীর্তি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
ওই স্থাপনার বর্তমান মালিক এবং স্থানীয়রাও এর পূর্ব ইতিহাস জানেন না। গত দেড়শ বছরের ইতিহাসে ওই স্থাপনার মালিকানা সিএস, আরএস, এসএ খতিয়ানে বর্তমান মালিকানা পূর্বপুরুষদের নামে বলে ওই ঘরে বসবাসরতরা জানান। ধারণা করা হয় রায়তি সূত্রে ওই প্রাসাদের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে।
বরিশাল বিভাগের ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় ৫৫০ বছর আগে চন্দ্রদ্বীপের (বর্তমান পটুয়াখালীর অংশ) রাজা জয়দেবের ছোট মেয়ে বিদ্যা সুন্দরী ও জামাতা গুড়িন্দার জন্য ওই রাজবাড়ী নির্মাণ করেন। রাজার জামাতা গুড়িন্দা রাজসভার মন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রী গুড়িন্দা ১৪৭৫ সালের দিকে বিদ্যা সুন্দরীর নামে বিশাল দীঘি খনন করেন। এলাকায় বিদ্যা সুন্দরীর দীঘি নিয়েও নানা কল্প-কাহিনী প্রচলিত আছে। (সূত্র-বরিশাল বিভাগের ইতিহাস, সিরাজউদ্দীন আমেদ)।
তবে প্রফেসর মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরীর ভোলা জেলার ইতিহাস ও এবিএম আমিনউল্যাহ বোরহানউদ্দিন থানার ইতিহাস থেকে জানা যায়, রাজা জয়দেব তাঁর মেয়ে বিদ্যা সুন্দরীকে তারই রাজ্যসভার গোয়েন্দা প্রধানের সাথে বিয়ে দেন। তার মেয়ে ও জামাতার জন্য ওই রাজকীয় প্রাসাদ নির্মাণ করেন। রাজার জামাতা গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করার কারণে ওই বাড়ির নাম এক সময় গোয়েন্দা বাড়ি ছিল। ধারণা করা হয়, জমিদারি প্রথার পর কালক্রমে মানুষের মুখে মুখে ওই বাড়ির নাম গুড়িন্দা বাড়ি হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির দক্ষিণ ভিটায় স্থাপত্যের অবস্থান। সামনের অংশে নানা ধরনের নকশা করা। অনেক অংশ দিয়ে পলেস্তরা খসে গেছে। অযত্নে ভাঁজে ভাঁজে শ্যাওলা পড়ে আছে। প্রবেশ দুয়ার একটি। তবে আয়তন উচ্চতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। দুয়ারের প্রস্থ তিন ফুট আর উচ্চতা মাত্র পৌনে ৬ ফুট। ভেতরের দেয়ালে বিভিন্ন নকশা, আল্পনা। বারান্দা থেকে ভিতরের ঘরের দুটি দরজা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ওই দরজা দুটির উচ্চতা মাত্র সাড়ে চার ফুট। দেয়াল এবং ছাদে চুন-সুড়কি ব্যবহার করা হয়েছে। দেয়ালের প্রস্থ কমপক্ষে ২৫ ইঞ্চি। ছাদের প্রস্থও ১০-১১ ইঞ্চি। তবে মেঝে ক্ষয়ে গেছে। পশ্চিম দিক দিয়ে ইট-সুড়কির সিঁড়ি সরাসরি ছদের সাথে মিশেছে। ভবনের পেছনের দিকে মাটির সাথে ২-৩টি সুরঙ্গ মুখ। সিঁড়িতে যে ইট ব্যবহার করা হয়েছে তা দৈর্ঘ্যে ১২ ইঞ্চি ও প্রস্থে ৬ ইঞ্চি। যে কয়টা ইট দেখা যায় সম্পূর্ণ অবিকৃত। ভেতর-বোইরে সব দিকের নির্মাণশৈলী দেখলে ৫৫৫ বছর আগে কিভাবে এ কাজ করা সম্ভব হয়েছে তা এক বিস্ময়ের জন্ম দেবে।

ওই ঘরের বাসিন্দা আ. লতিফ জানান, এক সময় তার দাদা আ. আজিজ, দাদার ভাই দেলোয়ার হোসেন ও ফজলে করিম একসাথে থাকতেন। তাদের মৃত্যুর পর তার বাবা আ. কাদের ও পরবর্তী ওয়ারিশগণও বসবাস করতেন। এখন স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে তিনি বাড়ির পাশে ঘর করেছেন। এখন দেলোয়ার হোসেনের নাতি ৬২ বছর বয়সী নান্নু গুড়িন্দা ওই ঘরে থাকেন। নান্নু গুড়িন্দা ও আ. লতিফ গুড়িন্দা জানান, সরকারিভাবে ঘর সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
সরেজমিনে গিয়ে বোরহানউদ্দিন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আ. সাত্তার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান জানান, ওই সময়ে এ ধরনের স্থাপত্য নির্মাণ সত্যিই বিস্ময়কর। আর এত বছর টিকে থাকার পর বর্তমান অবস্থায় থাকা আরে বিস্ময়কর।
বোরহানউদ্দিন থানার ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতা এবিএম আমিনউল্যাহ্ জানান, আমি এক সময় প্রাচীন এ স্থাপত্য সংরক্ষণের জন্য অনেক কাজ করেছি। এক সময় ক্লান্ত হয়ে গেছি। এখনও সময় আছে। এ পুরাকীর্তি সংরক্ষণের উদ্যোগের দাবি জানাই।
সাঁচরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন মো. মহিবুল্যাহ মৃধা জানান, আমাদের গৌরবের ইতিহাসের সাক্ষী এ স্থাপনাকে সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা সময়ের দাবি।
প্রবীণ সাংবাদিক ও সমাজকর্মী ওমর ফারুক তারেক জানান, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এ স্থাপনা একটি জ্বলন্ত দলিল। অবিলম্বে এটা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া উচিত।

উত্তরার হোটেলিয়ানদের মিলনমেলা: ইফতার ও ডিনারে আতিথেয়তা শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

দিশা আক্তারঃ স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
উত্তরার হোটেলিয়ানদের মিলনমেলা: ইফতার ও ডিনারে আতিথেয়তা শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

রাজধানীর উত্তরা এলাকার বিভিন্ন হোটেলে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মীদের উদ্যোগে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলনমেলা, ইফতার ও ডিনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উত্তরার বিভিন্ন হোটেলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এতে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, পেশাগত সম্পর্ক জোরদার এবং আতিথেয়তা শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হোটেল শিল্প শুধু খাবার পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মানুষের থাকা, বিশ্রাম, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক আতিথেয়তার একটি সমন্বিত সেবা ব্যবস্থা। একজন অতিথি যখন একটি হোটেলে আসেন, তখন তিনি শুধু একটি কক্ষ বা খাবারই পান না, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা লাভ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, উত্তরা বর্তমানে ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুত উন্নয়নশীল এলাকা। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী অবস্থান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে এখানে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি বহু মানুষের আগমন ঘটে। ফলে উত্তরা খুব স্বাভাবিকভাবেই একটি সম্ভাবনাময় হসপিটালিটি হাব হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ রাখে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী হোটেল কর্মকর্তারা মনে করেন, মানসম্মত সেবা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, আরামদায়ক থাকার ব্যবস্থা এবং পেশাদার আতিথেয়তার মাধ্যমে উত্তরার হোটেল শিল্পকে আরও উন্নত করা সম্ভব। একই সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পেশাগত ঐক্যের মাধ্যমে এই খাতকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মিলনমেলার মাধ্যমে উত্তরার হোটেল শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয় এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

আসন্ন ঈদুল উল ফিতর কে সামনে রেখে

ঈশ্বরদী থানা পুলিশের কড়া নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

মোঃ ওমরফারুক(সানি), স্টাফ রিপোর্টর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১:৩৭ এএম
ঈশ্বরদী থানা পুলিশের কড়া নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

আসন্ন ঈদ উল ফিতরকে সামনে রেখে ঈশ্বরদী এসপি সার্কেল প্রণব কুমার ও ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মোমিনুজ্জামান এর নেতৃত্বে পুরো ঈশ্বরদী উপজেলা জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ।

ঈশ্বরদীতে মাদক-জুয়া/অনলাইন জুয়া, বাজিতে লুডু খেলা, রাত ৮ টার পর মহল্লার অলিগলিতে কিশোর স্কুল পড়ুয়া উঠতি বয়সের ছেলেদের চায়ের দোকানে আড্ডা রোধে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ নজরদারি জোরদার করেছে।

আসন্ন ঈদুল ফিতর ঈদের আগে আপনার এলাকায় বহিরাগত সন্দেহ জনক লোকের আনাগোনা দেখতে পেলে থানা পুলিশকে অবহিত করুন। ঈদে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের একাধিক টহল টিম রাত্রিকালীন পেট্রোলিং কার্যক্রম চালু করেছে। শিল্প নগরীর ৭ টি ইউনিয়ন, ১টি পৌর শহর ও হাইওয়ে মহাসড়কে টহল জোরদার করেছে। আপনারা স্ব স্ব অবস্থানে থেকে পুলিশ কে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।
ঈশ্বরদী বাসীদের উদ্দেশ্যে সকল প্রকার সহযোগিতার জন্য উদাত্ত আহ্বান করেছেন।

 

উখিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

সিরাজুল কবির বুলবুল উখিয়া কক্সবাজার প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১:৩৩ এএম
উখিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

(১১মার্চ) রোজ বুধবার উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যেগে উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমার সভাপতিত্বে মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই সময় নবাগত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এহেচান উল্লাহ সিকদারকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমার নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পিত শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে আন্তরিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।
এসময় উপজেলা পর্য্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।মাসিক সাধারণ সভায় উখিয়া উপজেলার সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও জনকল্যাণমুখী করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নবাগত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এহেচান উল্লাহ সিকদার। মাসিক সাধারণ সভার সভাপতি উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা তার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে জানান উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে এবং সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে সাধারণ মানুষ যাতে তাদের প্রাপ্য সেবা পাই সেদিন কড়া নজরদারি রাখা হবে।

error: Content is protected !!