বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২
বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

✍️ জাহারুল ইসলাম জীবন এর লেখা ও সম্পাদনায় রচিত নারী ও পুরুষের দেহতত্ত্বের গবেষণা‌‌

রতি থেকে জ্যোতি: দেহতত্ত্ব ও লতিফা সাধনার আধ্যাত্মিক রসায়ন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১০ পিএম | 113 বার পড়া হয়েছে
রতি থেকে জ্যোতি: দেহতত্ত্ব ও লতিফা সাধনার আধ্যাত্মিক রসায়ন

দেহতত্ত্ব ও তাসাউফ শাস্ত্রের এই নিগূঢ় তত্ত্বটি অত্যন্ত চমৎকার এবং সুশৃঙ্খলিত। আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে স্থূল দেহকে (Physical Body) সূক্ষ্ম দেহে (Subtle Body) এবং কামকে (Lust) নূরে (Divine Light) রূপান্তরের এই প্রক্রিয়াটি মূলত ‘ইনসানে কামেল’ বা পূর্ণাঙ্গ মানুষ তথা মুক্তিপ্রাপ্ত মানুষ হওয়ার পথ। বলাবাহুল্য যে, তাসাউফ বা সুফিবাদ কেবল তাত্ত্বিক কোনো দর্শন নয়, বরং এটি দেহ-মন ও আত্মার এক সমন্বিত ধর্ম তাত্বিক বাস্তব সম্মত বিজ্ঞান। এই বিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের ভেতরে সুপ্ত থাকা পাশবিক প্রবৃত্তিকে স্বর্গীয় জ্যোতিতে রূপান্তরিত করা। এই রূপান্তরের প্রধান সোপান হলো ‘লতিফা’ এবং এর জ্বালানি হলো দেহের ‘পঞ্চরস’।
নীচে লতিফা সমূহ ও পঞ্চরসের উপর আপনাদের সমীপে আলোচনা করা হলো:
**১. সপ্ত লতিফা:> আধ্যাত্মিক উত্তরণের সাতটি তোরণ কেবল মানুষের দেহে রক্ত-মাংসের আধার নয়, বরং এটি সাতটি লতিফা বা সূক্ষ্ম শক্তি কেন্দ্রের এক অপূর্ব বিন্যাস। সাধক যখন কামের স্তর থেকে নূরের স্তরে আরোহণ করেন, তখন তাকে এই সাতটি তোরণ অতিক্রম করতে হয়:-
* লতিফায়ে নফস (নাভি):- এটি প্রবৃত্তি ও কামনার মূল কেন্দ্র। এর রঙ্গ নীল। সাধনার প্রথম যুদ্ধ শুরু হয় এখান থেকেই-যাকে বলা হয় ‘জেহাদে আকবর’।
* লতিফায়ে কলব (হৃদয়):- বাম স্তনের নিচে অবস্থিত এই কেন্দ্রের রঙ্গ লাল। এটি প্রেমের জন্মভূমি। এখানে এসে কাম-ভাবনা প্রথম প্রেমে রূপান্তরিত হওয়ার দীক্ষা পায়।
* লতিফায়ে রুহ (আত্মা):- ডান স্তনের নিচে অবস্থিত এই কেন্দ্রের রঙ্গ হলুদ। এটি আধ্যাত্মিক দর্শনের প্রবেশ দ্বার।
* লতিফায়ে সিরর/সের/ছের (রহস্য):- বাম স্তনের ওপরে অবস্থিত সাদা রঙের এই কেন্দ্রে সৃষ্টির নিগূঢ় রহস্যের পর্দা উন্মোচিত হয়।
* লতিফায়ে খফি (গোপন):- ডান স্তনের ওপরে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি কালো রঙ্গের। এখানে সাধক আল্লাহর নৈকট্য ও সান্নিধ্য অনুভব করেন।
* লতিফায়ে আখফা (অতি গোপন):- বুকের মাঝখানে অবস্থিত সবুজ রঙ্গের এই কেন্দ্রটি হলো ‘ফানা-ফিলাহ’ বা ‘পরম সত্তায়’ বিলীন হওয়ার স্তর।
* লতিফায়ে সুলতানুল আজকার (মস্তিষ্ক):- এটি ব্রহ্মতালু বা জ্যোতি দেশ। এখানে সব লতিফার নূর একত্রিত হয়ে সাধককে নূরের মহাসমুদ্রে নিমজ্জিত করে।
**২. পঞ্চরস ও লতিফার আধ্যাত্মিক মেলবন্ধন
দেহের পঞ্চরস-সোডিয়াম, কার্বোনেট, নাইট্রোজেন, সালফার ও ফসফরাস-কেবল রাসায়নিক উপাদান নয়, বরং এগুলো সাধনার মূল কাঁচামাল।
* শোধন প্রক্রিয়া:- জিকির ও ধ্যানের স্পন্দনে লতিফায়ে কলব ও নফসে এক ধরনের আধ্যাত্মিক দহন তৈরি হয়। এর ফলে সোডিয়াম ও ফসফরাসের মতো উপাদানগুলো জৈবিক উত্তাপ ত্যাগ করে আধ্যাত্মিক শক্তিতে পরিণত হতে থাকে।
* উর্ধ্বগমন:- সাধারণ অবস্থায় এই রস নিচের দিকে প্রবাহিত হয়ে ক্ষয় হয়। কিন্তু ‘দমের চাবিকাঠি’ বা শ্বাসক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণে সাধক এই রসকে ঊর্ধ্বগামী করেন।
* রূপান্তর:- যখন এই পঞ্চরস লতিফায়ে আখফা অতিক্রম করে মস্তিষ্কে (সুলতানুল আজকার) পৌঁছায়, তখন তা আর তরল থাকে না; বরং তা ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক বা তড়িৎ-চৌম্বকীয় জ্যোতিতে রূপান্তরিত হয়। একেই দেহতত্ত্বের ভাষায় ‘রতি থেকে মতি’ প্রাপ্তি বলা হয়।
**৩. মুর্শিদ:> এই দুর্গম পথের দিশারী লতিফা জাগ্রত করা এবং পঞ্চরসকে সংরক্ষণ করার এই পথ অত্যন্ত পিচ্ছিল দূর্ভেদ্যও বটে্। তাই এখানে, মুর্শিদ বা গুরুর ভূমিকা অপরিহার্য:
* দৃষ্টির কিমিয়া:- মুর্শিদ সাধককে শেখান কীভাবে কামুক দৃষ্টির পরিবর্তে দয়ার নজরে জগৎকে দেখতে হয়।
* দমের নিয়ন্ত্রণ:- সঠিক শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে কীভাবে রতিকে ঊর্ধ্বে চালিত করতে হয়, তা গুরুর হাতে-কলমে শিক্ষা ছাড়া অসম্ভব।
* রাবেতা:- সাধক যখন বিচলিত হন, তখন মুর্শিদের আধ্যাত্মিক নেক নজর বা ফয়েজ তার ভেতরের পাশবিকতাকে ভস্ম করে নূরের শিখা প্রজ্বলিত রাখে।
এখানে সর্বপরি বলাবাহুল্য যে, সাধনার মাধ্যমে- নূর’ যখন মানব দেহে রূপান্তরিত হয়ে লতিফা গুলোকে জাগ্রত করে তোলে এবং ‘পঞ্চরস- তখন পরিশোধিত হয়ে মস্তিষ্কে জ্যোতি দেশে মিলিত হয়, তখন সাধক লাভ করেন ‘ইনসানে কামেল’ বা পূর্ণাঙ্গ মানবের মর্যাদা। তখন তার দেখা হয় স্রষ্টার দেখা, তার কাজ হয় স্রষ্টার ইচ্ছা। হাদিসে কুদসির সেই মহান বাণীর প্রতিফলন ঘটে তার (সাধকের) জীবনে-সে তখন মাটির মানুষ হয়েও নূরের আভায় জ্যোতিষ্ময় ভাস্বর হয়ে ওঠে।
এই সাধনা পূর্ণ করতে হলে দেহের ভেতরের ‘আদম’ ও ‘হাওয়া’-র (পুরুষ ও নারী শক্তি) ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করতে হয় এবং পঞ্চরস সংরক্ষণে খাদ্যতালিকায় (Dietary Discipline) কী ধরনের আমূল পরিবর্তন আনা জরুরী- এই বিষয়টি নিয়ে পর্ব-৪, এ বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশাল্লাহ- আমিন> চলমান পাতা।

পালিত হলো এ. টি. এম আমিনুর রহমান বৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৫ পিএম
পালিত হলো এ. টি. এম আমিনুর রহমান বৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ.টি. এম আমিনুর রহমান সিদ্দিকী স্মৃতি শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষা২০২৫ গত ২২/১১/২০২৫ইং অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর ফলাফল ঘোষণা করা হয় ফেব্রুয়ারি,২০২৬ এ।পূর্ব ঘোষিত সময় অনুযায়ী ২৫ শে মার্চ ২০২৬ বিকাল তিন ঘটিকা থেকে এ. টি. একাডেমী স্কুল মাঠে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

গত ২৫ শে মার্চ,২৬ রোজ বুধবার বিকাল ৩ ঘটিকায় এ.টি. এম আমিনুর রহমান সিদ্দিকী স্মৃতি শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষায় যে সকল শিক্ষার্থী ট্যালেন্টফুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় মিরসরাই উপজেলার মিঠাছড়া বাজার সংলগ্ন এ. টি. একাডেমী স্কুল মাঠে।

মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষার্থীদের হাতে পুরুষ্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এ. টি. এম আমিনুর রহমান স্মৃতি শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষায় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কামরুল হাসান সিদ্দিকী(এফ সি এ), বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিঠাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ারুল হক, মিঠাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামশেদ আলম, এ. টি. একাডেমীর প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন, মিরসরাই কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও অন উইথ কেজি স্কুলের পরিচালক আনোয়ার জাহেদ, মান্দার বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাফিয়া বেগম এবং উপস্থিত ছিলেন এ. টি. এম আমিনুর রহমান সিদ্দিকী স্মৃতি শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী, সদস্য আবু তারক সিদ্দিকী, রিফাত সিদ্দিকী, আকিব সিদ্দিকী সহ এ. টি. একাডেমীর শিক্ষক শিক্ষিকা মন্ডলী। উপস্থিত ছিলেন এ. টি এম আমিনুর রহমান স্মৃতিশিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষার সম্পাদক মাস্টার আব্দুল আলিম।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সদস্য আবু তারেক আকাশ সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় ক্রেস্ট, সনদ ও প্রাইজ বন্ড। শিক্ষার্থীরা তাদের পুরস্কার হাতে পেয়ে খুবই উচ্ছ্বাসিত ও আনন্দিত। এ. টি. এম আমিনুর রহমান স্মৃতি শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পেরে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ২য় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী।

সকলের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও উত্তর উত্তর জীবনের উন্নতি কামনা করে সভাপতি অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ও ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত

শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির, চিফ রিপোর্টার। প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৩ পিএম
শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ও ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত

গাজীপুরে শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক আনন্দঘন, তাৎপর্যপূর্ণ ও পেশাগত চেতনায় সমৃদ্ধ ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(৩১’শে মার্চ ২০২৬) মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার সাবাহ্ গার্ডেন রিসোর্টে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আলফাজ উদ্দিন স্বপনের সঞ্চালনায় ও শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাজ্বী আসাদুজ্জামানের সার্বিক পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ঈদের শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আলফাজ উদ্দিন স্বপন, শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি সাংবাদিক মোঃ শাহাদত হোসাইন, শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আল আমিন, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ সোহাগ ভান্ডারী, সহ-সভাপতি শামীম আল মামুন, চ্যানেল এস এর সাংবাদিক মিজানুর রহমান, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামাল পাশা, যুগ্ম-সম্পাদক আলমগীর হোসেন সাগর, সাংবাদিক দুর্জয়, সাংবাদিক বিলকিস, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক এনামুল হক প্রমুখ। এ সময় শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের অন্যান্য সদস্য এবং জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকরা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার পাশাপাশি সমসাময়িক গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ, পেশাগত দায়বদ্ধতা, সংবাদ পরিবেশনের নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং সত্য উদঘাটন, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং জনমত গঠনের শক্তিশালী হাতিয়ার। বক্তারা আরো বলেন, স্বাধীনতার চেতনা লালন এবং সংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করার লক্ষে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।

চট্টগ্রামে তীব্র অকটন সংকট সহ জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার,

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫২ পিএম
চট্টগ্রামে তীব্র অকটন সংকট সহ জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার,

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় চট্টগ্রামজুড়ে জ্বালানি তেল নিয়ে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। চট্টগ্রামে হঠাৎ করে অকটেন সংকট দেখা দেওয়ায় নগর ও উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। অনেক পাম্পে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অকটেন পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। কোথাও আবার ‘অকটেন নেই’ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

পাম্প মালিকরা জানান, চাহিদা অনুযায়ী ডিপো থেকে অকটেন সরবরাহ না পাওয়ায় সীমিত আকারে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে অনেক জায়গায় রেশনিং পদ্ধতিতে অকটেন দেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে দাবি তাদের।
পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারা জানিয়েছেন, ডিজেলের তেমন সংকট না থাকলেও অকটেনের সরবরাহ তুলনামূলক কম হওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে জ্বালানির প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তেলবাহী জাহাজ থেকে নিয়মিত জ্বালানি খালাস করা হচ্ছে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহে চাপের পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বেপরোয়া মজুদদারির কারণেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। অনেক ভোক্তার অভিযোগ, কিছু পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও ‘সংকট’ দেখিয়ে বিক্রি সীমিত করা হচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ফিলিং স্টেশন মালিকদের দাবি, চাহিদার তুলনায় ডিপো থেকে অর্ধেক জ্বালানিও পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে অনেক পাম্পে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। ঈদের ছুটির কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক ডিলার সময়মতো পে-অর্ডার করতে পারেননি, ফলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলনেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগে পেট্রোল পাম্প রয়েছে ৩৮৩টি। এজেন্ট ডিস্ট্রিবিউটর আছেন ৭৯৯ জন এবং প্যাকড পয়েন্ট ডিলার আছেন ২৫৫ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে পেট্রোল পাম্প রয়েছে ৪৬টি। সংকটের কারণে এসব পাম্পের অনেকগুলোতেই স্বাভাবিক বিক্রি ব্যাহত হচ্ছে।
পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্যসচিব মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রামে ডিজেলের বড় কোনো সংকট নেই। তবে অকটেনের সংকট রয়েছে। বর্তমানে পাম্পগুলো চাহিদা অনুযায়ী অকটেন পাচ্ছে না। তেল নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হওয়ার পর হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গেছে, কিন্তু সরবরাহ আগের মতোই রয়েছে।’
এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে মৎস্য খাতেও। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় অনেক ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। ফলে ভরা মৌসুমেও ঘাটে অলস সময় পার করছেন হাজারো জেলে। রেশনিং পদ্ধতিতে যে পরিমাণ ডিজেল দেওয়া হচ্ছে, তাতে মাঝ সাগরে গিয়ে আবার ফিরে আসার মতো পরিস্থিতি থাকছে না বলে জানিয়েছেন ট্রলার মালিকরা।
জানা গেছে, চট্টগ্রামে কয়েক হাজার ফিশিং ট্রলার থাকলেও নিয়মিত মাছ ধরতে সাগরে যায় কয়েকশ ট্রলার। প্রায় দুই লাখ জেলে এই খাতের সঙ্গে জড়িত। সমুদ্রগামী একটি ট্রলারের ইঞ্জিনের আকার অনুযায়ী এক হাজার থেকে দুই হাজার লিটার পর্যন্ত ডিজেল ধারণক্ষমতা রয়েছে।
জলদাশ নামে এক ট্রলার মালিক জানান, তার সাতটি ট্রলার রয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে চারটি ট্রলার বর্তমানে ঘাটে বসে আছে। অন্য তিনটি এক সপ্তাহ আগে সাগরে গেছে। তবে সেগুলো ফিরে এসে আবার সাগরে যেতে পারবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ৯৮টি অভিযান চালিয়ে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং প্রায় ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানির প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে প্রায় ১০টি তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আরও একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সেটি মঙ্গলবার বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে। গত দুই দিনেও আরও দুটি জাহাজ থেকে তেল খালাস হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত মজুদ বা কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহকারী সংস্থাগুলোও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

error: Content is protected !!