বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২

বিচারিক প্রক্রিয়ায় ঐতিহাসিক অগ্রগতি

গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম | 48 বার পড়া হয়েছে
গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

গাজীপুরে তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

মামলার বাদী ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর গাজীপুর জেলা স্টাফ রিপোর্টার, নিহত সাংবাদিক তুহিনের বড় ভাই সেলিমের সাক্ষ্যগ্রহণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

চার্জ গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়াকে সাংবাদিক সমাজ বিচারিক ব্যবস্থার এক “ঐতিহাসিক মাইলফলক” হিসেবে দেখছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবাদিক হত্যা মামলার ইতিহাসে চার্জ গঠনের পর এত দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়া বিরল, ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন ঘটনা।

গত ৭ আগস্ট গাজীপুরের ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার বর্বর ঘটনা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করে। সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারিক পরিণতির পথে এবার দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার, সহকর্মী ও সারাদেশের সাংবাদিক সমাজে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

বুধবার দুপুরে প্রধান অভিযুক্ত কেটু মিজান ওরফে কোপা মিজান, তার স্ত্রী গোলাপিসহ মোট আটজন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু করেন।

মামলার বাদী ও নিহত সাংবাদিকের বড় ভাই সেলিমের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচারিক লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সূচিত হয়। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু একটি মামলার অগ্রগতি নয়; বরং সাংবাদিক হত্যা বিচারে রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছার একটি বড় পরীক্ষা।

সাংবাদিক তুহিনের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত চন্দ্র সরকার বলেন,“চার্জ গঠনের পর এত দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়া সত্যিই ইতিবাচক। আমরা ইতোমধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরের আবেদন করেছি। অনুমোদন পেলে পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যেই বিচার শেষ করা সম্ভব। তবে এখনো সরকারি অনুমোদন না পাওয়ায় কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।”

দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর সম্পাদক এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল-এর প্রধান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন,“গত ৫৪ বছরে দেশে ৬৯ জন সাংবাদিক নিহত হলেও অধিকাংশ হত্যার বিচার হয়নি, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক। তুহিন হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হলে এটি একটি ব্যতিক্রমী নজির হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন,“দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিলে ৯০ দিনের মধ্যেই রায় সম্ভব। আমরা গত কয়েক মাস ধরে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়ে আসছি। আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ায় প্রথমবারের মতো মনে হচ্ছে—এই বিচার আমরা সত্যিই দেখতে যাচ্ছি।”

মামলার বাদী সেলিম বলেন,“দ্রুত বিচার চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করেছি। আজ দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ায় আমাদের পরিবারের জন্য এটি বড় স্বস্তির বিষয়। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।”

সাংবাদিক নেতাদের অভিমত, এই মামলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে বাংলাদেশে সাংবাদিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দেশজুড়ে সাংবাদিক সমাজ কালো ব্যাজ ধারণ, মানববন্ধন, প্রেস ক্লাব কর্মসূচি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবাদ গড়ে তোলে। একটাই স্লোগান তখন উচ্চারিত হয়—“তুহিন হত্যার বিচার চাই, দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, তুহিন শুধু একজন সাংবাদিকই ছিলেন না—তিনি ছিলেন সত্যের কণ্ঠস্বর। তার মৃত্যু ছিল সাংবাদিকতা, সমাজ ও গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। বিচার বিলম্বিত হলে সেই ক্ষত আরও গভীর হতো।

চার্জ গঠন, দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ধারাবাহিক শুনানির মাধ্যমে এই মামলার অগ্রগতি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যা আর ধামাচাপা দেওয়া যাবে না।

সাংবাদিক মহলের দৃঢ় বিশ্বাস, তুহিন হত্যার বিচার কার্যকরভাবে সম্পন্ন হলে এটি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে।

প্রশ্ন এখন একটাই—রাষ্ট্র কি এবার সত্যিই প্রমাণ করবে, সত্যের কণ্ঠ কখনো রুদ্ধ করা যায় না।

খোকন হাওলাদার, সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি

আশুলিয়ায় গার্মেন্টসকর্মী নারীকে নগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল, থানায় অভিযোগ

খোকন হাওলাদার, সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
আশুলিয়ায় গার্মেন্টসকর্মী নারীকে নগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল, থানায় অভিযোগ

ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় এক গার্মেন্টসকর্মী নারীকে নগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মোছাঃ মিনারা খাতুন (৩৬) অভিযুক্ত মোঃ সাজ্জাদ ঢালী (২৮)-এর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর স্বামী বিদেশে অবস্থান করায় তিনি কন্যাসন্তানকে নিয়ে আশুলিয়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন এবং স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। অভিযুক্ত সাজ্জাদ ঢালীর সঙ্গে তার পরিচয় হয় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। অভিযুক্ত নিজেকে বিশ্বস্ত পরিচিত দাবি করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় ৫৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ভুক্তভোগীকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে শুরু করেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ছবি সংগ্রহ করে অন্য এক নারীর নগ্ন শরীরের সঙ্গে যুক্ত করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করেন। পরে সেই ভিডিও ভুক্তভোগীর স্বামীর কাছে পাঠানোর হুমকি দিয়ে আরও অর্থ আদায় করেন তিনি।

একপর্যায়ে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্ত ইমু অ্যাপের ভিডিও কলে ভুক্তভোগীর নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন এবং তা সরাসরি তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে ভুক্তভোগীর দাম্পত্য জীবনে চরম সংকট সৃষ্টি হয় এবং তার স্বামী তালাকের হুমকি দেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগে বলা হয়, সর্বশেষ গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্ত পুনরায় নগ্ন ভিডিও পাঠিয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমনকি থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরও অভিযুক্ত মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগীকে হুমকি দেন। তিনি ভুক্তভোগীর দেশে থাকা ভাইকে আটক করে মারধর ও হত্যার হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভুক্তভোগী মিনারা খাতুন বলেন, “আমি এই প্রতারক ও ব্ল্যাকমেইলকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নারী এ ধরনের ভয়াবহ অপরাধের শিকার না হন।”

অঞ্জনা চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক উজ্জ্বল বাংলাদেশ

কাজিপুরে বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে কাজিপুর উপজেলা প্রশাসন

অঞ্জনা চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
কাজিপুরে বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে কাজিপুর উপজেলা প্রশাসন

পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে কাজিপুর উপজেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষ্যে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার পরিদর্শন করেন।

তিনি উপজেলার সিমান্তবাজার, সোনামুখী ও আলমপুর সহ বড় বাজারগুলো ঘুরে দেখেন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় নিত্যপণ্যের মূল্যতালিকা টানানো হয়েছে কিনা, অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কিনা এবং পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে কিনা তা তদারকি করেন।

এছাড়াও বাজার দখলমুক্ত করতে বাজারে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন। বাজার মনিটরিং শেষে ইউএনও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, রমজান মাসে কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মুনাফা আদায় বরদাস্ত করা হবে না। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। কেউ অনিয়ম করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়াও বাজারগুলোতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাইমা জাহান সুমাইয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ শরীফুল ইসলাম, প্রানীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দিদারুল আহসান সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

স্থানীয় ক্রেতারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত মনিটরিং হলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে রমজানের বাজার করতে পারবে।

জাহিদ হোসেন, দিঘলিয়া প্রতিনিধি

বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজানের চাঁদ গেছে

জাহিদ হোসেন, দিঘলিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজানের চাঁদ গেছে

বাংলাদেশের আকাশে আজ (১৮ই ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ (বুধবার) পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে বলে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ঘোষণা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে সন্ধ্যার পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন চাঁদ দেখা গেছে এবং আগামী (১৯ই ফেব্রুয়ারি) (বৃহস্পতিবার) থেকে বাংলাদেশে রোজা শুরু হবে। চাঁদ দেখা যাওয়ার খবরটি আজ সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের পরে নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ দেশের আকাশে রমজানের নতুন চাঁদ দেখা গেছে, তাই পবিত্র রমজান মাস আজ শুরুর ঘোষণা করা হয়েছে এবং কাল থেকে রোজা পালন শুরু হবে।